অবসর এর খানিক দৃষ্টিপাত

নাসির হোসাইন

বৃহস্পতিবার , ১৭ মে, ২০১৮ at ৫:২৩ পূর্বাহ্ণ
7

গত ২৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭ টায় টিআইসি মিলনায়তনে উৎসুক শ্রোতার একে একে আগমন। নির্ধারিত অতিথিরাও যথাসময়ে উপস্থিত। কৌতুহলী দৃষ্টি বিনিময় একে অপরের সাথে। বলছিলাম সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মো. সঞ্জিত আলম এর জীবন ও সৃষ্টিকর্ম নিয়ে ‘খানিক দৃষ্টিপাত’ শীর্ষক আয়োজন সম্বন্ধে। অবসর সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী চট্টগ্রাম এর উদ্যোগে সঞ্জিত আলমের বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক জীবনকে তুলে আনাই ছিলো মূল উদ্দেশ্য। ডা. তাসমিমা মমতাজ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধনীতে ছিলো অবসর সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী চট্টগ্রাম এর শিল্পীবৃন্দের সমবেত কণ্ঠে মো. সঞ্জিত আলম এর কথা ও সুরকার বাণী কুমার চৌধুরীর সুরে বাঙালি সংস্কৃতি মেলার গান ‘হাজার বছরের সংস্কৃতি নিয়ে’ এবং সঞ্জিত আলম এর কথা ও সুরে অসাম্প্রদায়িক চেতনার গান ‘আল্লাহু আল্লাহু বলে চলো কাবায় যাই/কৃষ্ণ নামে মন্দিরেতে ঘণ্টা বাজাই। সমবেত পরিবেশনায় ছিলেন শিল্পী জিলাল উদ্দিন, শিল্পী রুবেল চৌধুরী, শিল্পী তাসমীম তাহরিন, শিল্পী কণ্ঠ দাশ, শিল্পী অরিত্রী মজুমদার। এরপরেই সমবেত কণ্ঠে পরিবেশিত হয় সঞ্জিত আলম এর কথা ও সুরে গার্ল গাইডস্‌ সংগীত ‘সেবার মন্ত্র নিয়ে আমরা বিশ্ব সমাজে এসেছি।’ পরিবেশন করে সেন্ট স্কলাসটিকাস স্কুল এন্ড কলেজের গার্ল গাইডস্‌ টিমের শিল্পীবৃন্দ। সঞ্জিত আলম এর কথায় শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারীকে নিয়ে গান পরিবেশন করেন গানটির সুরকার শিল্পী রুবেল চৌধুরী। তাঁর লেখা কবিতা ‘না সুধাংশু যাবে না’ আবৃত্তি করেন আবৃত্তিশিল্পী ও উপস্থাপক ডা. তাসমিমা মমতাজ এবং ছড়া ‘জ্যোতি’ আবৃত্তি করে সঞ্জিত আলমের একমাত্র সন্তান ক্ষুদে আবৃত্তিশিল্পী জ্যোতির্ময় জ্যোতি। উদ্বোধনের পরেই শুরু হয় সংক্ষিপ্ত আলোচনা এবং সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী। কথামালায় অংশ নেন প্রফেসর হাসিনা জাকারিয়া বেলা, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক মাধব দীপ। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব ধীমান বিশ্বাস। শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন অবসর সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী চট্টগ্রাম এর প্রধান উপদেষ্টা একুশে পদকপ্রাপ্ত বাঁশিশিল্পী ওস্তাদ আজিজুল ইসলাম, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক সুভাষ দে, রোটারিয়ান মেরাজ তাহসিন শফী, লোকশিল্পী আবদুর রহিম, সংস্কৃতিসেবী আলী হায়দার ভুঁইয়া, সাংবাদিক বেলায়েত হোসেন, সুকান্ত চৌধুরী সেন্টু, আশীষ বিশ্বাস এবং সঞ্জিতের জীবনসঙ্গী মার্জিয়া সুলতানা, সহ সাধারণ সম্পাদক রাজ গোপাল রাজু প্রমুখ। সম্মাননাপর্বে সভাপতিত্ব করেন উদযাপন পরিষদের আহবায়ক ছরওয়ার জামাল। সংবর্ধিত সংগীত পরিচালক বাণী কুমার চৌধুরী ও অনুষ্ঠানের মধ্যমণি মো. সঞ্জিত আলমকে ফুল দিয়ে বরণ করেন অনুষ্ঠানের যুগ্ম আহ্বায়ক বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য্য এবং সমন্বয়ক হাজী আবদুল ওয়াহেদ। সংবর্ধিত দু’জনের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি। সঞ্জিত আলমের সংক্ষিপ্ত জীবনী পাঠ করেন সঞ্চালক। পাশাপাশি প্রজেক্টরে তাঁর উল্লেখযোগ্য কর্মকান্ডের আলোকচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

সবশেষের আয়োজন ছিলো অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ। কৌতুহলী দর্শক শ্রোতার উৎসুক দৃষ্টির সামনে আসেন মো. সঞ্জিত আলম। আবৃত্তি করেন রবি ঠাকুরের ‘নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ’ কবিতাটি। এরপর একে একে গেয়ে যান ‘শিল্পী আমিতো নই তবুও এসেছি’ (মুলশিল্পী: সাইফুল ইসলাম), ‘আমি দূর হতে তোমারে দেখেছি’ (মুলশিল্পী: হেমন্ত মুখোপাধ্যায়), ‘কতদিন পরে এলে একটু বসো’ (মুলশিল্পী: হেমন্ত মুখোপাধ্যায়) ‘আয়নাতে ঐ মুখ দেখবে যখন (মুলশিল্পী: মাহমুদুন্নবী), ‘আমি ধন্য হয়েছি ওগো’ (মুলশিল্পী: প্রবাল চৌধুরী)। আবার আবৃত্তি করেন কাজী নজরুল ইসলামের ‘মানুষ’ কবিতা। এরপর পরিবেশন করেন আরও দুটি গান– ‘সবাইতো সুখী হতে চায়’ (মুলশিল্পী: মান্না দে) এবং ‘তার ইচ্ছা না হলে পরে’ (কথা, সুর ও শিল্পী: মো. সঞ্জিত আলম)। মোট সাতটি গান ও দুটি আবৃত্তিতে সাজানো ছিলো অনুষ্ঠান। সুরকার ও সংগীত পরিচালক বাণী কুমার চৌধুরীর সুদ সংগীত পরিচালনা এবং মিউজিক কম্পোজার নিখিলেশ বড়ুয়ার অনবদ্য কম্পোজিশনে এবং সঞ্জিত আলমের সাবলীল গায়কীতে পুরো মিলনায়তন জুড়ে অসাধারণ আবেশ জড়িয়ে পড়ে। করতালিমুখর হয়ে ওঠে মিলনায়তনের পরিবেশ। দ্বার উম্মোচিত হয় সঞ্জিত আলমের আরেকটি প্রতিভার। যন্ত্র সংগীতে সহযোগিতা করে ‘সব্যসাচী মিউজিশিয়ানস টিম’। কীবোর্ডনিখিলেশ বড়ুয়া, তবলাপ্রীতম আচার্য্য, অক্টোপ্যাডরনি চৌধুরী, বেইস গিটারতন্ময় বড়ুয়া, লীড গিটারআসিফ উল আলমণ্ড প্রত্যেকে দক্ষতার সাথে সঙ্গত করেছেন। সবমিলিয়ে অবসর সাংস্কৃতি গোষ্ঠী চট্টগ্রাম নগরের শিল্পমনা মানুষদের চমৎকার একটি অনুষ্ঠান উপহার দিয়েছে। পাশাপাশি মো. সঞ্জিত আলমের আরও একটি সুপ্ত প্রতিভাকে আলোর মুখ দেখিয়েছে। ভবিষ্যতে অবসর এমন নিটোলপরিচ্ছন্ন অনুষ্ঠান আবারও উপহার দেবেন এই কামনা করি।

x