অযত্ন অবহেলা, মরে গেছে সৌন্দর্যবর্ধনের অনেক গাছ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক

মাহবুব পলাশ, মীরসরাই

শনিবার , ১৭ মার্চ, ২০১৮ at ৫:০০ পূর্বাহ্ণ
122

ঢাকাচট্টগ্রাম মহাসড়ক। চার লেনের মাঝখানে সারি সারি বাহারি ফুলের গাছ। ফুলে ফুলে মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। সুদৃশ্য এক সড়ক। সড়কের এক পাশে সাগর। আরেক পাশে পাহাড়। সাগরের ঢেউ খেলানো বাতাসই যেন এসে ফুলের পাপড়িতে দোল খায়। তবে সেই দৃশ্য পাল্টে যাচ্ছে। এখন মহাসড়কের সব অংশ ফুলে ফুলে সুসজ্জিত নয়। কারণ, অযত্ন, অবহেলায় অনেক স্থানে সৌন্দর্যবর্ধনের এসব গাছ মরে গেছে।

২০১৬ সালের বর্ষার শেষের দিকে লাগানো হয়েছিল বিভিন্ন ফুলের গাছ। কিন্তু কিছু কিছু অংশে গাছ মরে যায়। সেসব এলাকায় গত বছরের বর্ষায় গাছ লাগানোর কথা ছিল। মৃত গাছের স্থলে নতুন চারা লাগানো হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গাছগুলো বাঁচেনি। ফোরলেন চট্টগ্রাম অংশের প্রকল্প ব্যবস্থাপক এবং সড়ক ও জনপথ চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার আলী জানান, ২০১৬ সালের শেষের দিকে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়া ঢাকাচট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রায় দুইশ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে করা হয়েছিল বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। ডিভাইডারের মাঝখানে মাটি দেওয়া ফাঁকা অংশে রোপণ করা হয়েছিল ৫০ হাজার বকুল, হৈমন্তী/কুরচি, সোনালু, রাধাচূড়া, কেছিয়া, কৃষ্ণচূড়া, কাঞ্চন, করবী, জারুল, কদম, পলাশসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফুলগাছ। এছাড়া লং এরিয়াতে (গাছ ব্যতীত খালি অংশ) সবুজ ঘাস লাগানোর কথা ছিল। ঘাসের সমারোহ এবং নানা ফুলের নান্দনিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হবেন মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রীরাণ্ডএই উদ্দেশ্য নিয়ে এমন পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

তিনি জানান, ৫টি প্যাকেজে বিভক্ত করে করা হয়েছে এই কার্যক্রম। চারা লাগানোর পর সংরক্ষণের জন্য বাঁশের তৈরি বেষ্টনী দেওয়া হয়। এরপর এসব চারা রক্ষণাবেক্ষণে রাখা হয় একটি বিভাগ। কিন্তু এত সব আয়োজনের মধ্যে চলতি বছরের শুরুতে দেখা যায়, মহাসড়কের মীরসরাই, মিঠাছরা, বড়তাকিয়া, সোনাপাহাড়, দুর্গাপুর, সীতাকুণ্ডের কুমিরা, বারৈয়াঢালা, বাড়বকুণ্ড অংশে অধিকাংশ গাছ মরে গেছে। তবে কী কারণে গাছ মারা যাচ্ছে তার সঠিক কারণ জানা যায়নি।

প্রকৌশলী জুলফিকার আলী বলেন, গাছগুলো র ণাবে ণের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করা হচ্ছে। তারা নিয়মিত গাছগুলোতে পানি দেওয়া ও পরিচর্যা করবে। যে অংশে গাছ মরে গেছে চলতি বছরের বর্ষায় সেখানে নতুন করে গাছ লাগানো হবে।

গাছ মরার বিষয়ে মীরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ বলেন, প্রথমত যথাযথ পরিচর্যার অভাব, পানির অভাব। এছাড়া সড়কের দুই পাশে প্রচুর ধুলাবালি, গাড়ির কালো ধোঁয়া এবং বর্ষা মৌসুমে গাছে ঝোপঝাড় ঘিরে থাকায় কিছু গাছ মরে যায়। তাছাড়া গাছ নির্বাচনেরও বিষয় রয়েছে।

এই পথে চলাচলকারী যাত্রীরা বলেন, কোনো কোনো অংশে কৃষ্ণচূড়া, হৈমন্তী/কুরচী, সোনালু, রাধাচূড়া, কেছিয়া, কৃষ্ণচূড়া, কাঞ্চন, করবী, জারুল গাছে ফুল ফুটেছে। ফুলে ফুলে রঙিন হয়ে উঠেছে সড়ক। নৈসর্গিক দৃশ্যে মোহিত মানুষ। যেখানে গাছ মরে গেছে, সেখানে মনে হচ্ছে খাঁ খাঁ করছে। মৃত গাছের স্থলে নতুন করে চারা রোপণ করে সড়কের সৌন্দর্য বর্ধনের দাবি জানান তারা।

জানা যায়, মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দী থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত ১৯০ কিলোমিটার ফোরলেন অংশের মধ্যে এ প্রকল্পের আওতায় ১৪৩.৪ কিলোমিটার এলাকায় ফুলের গাছ রোপণ করা হয়। এ প্রকল্পের মধ্যে দাউদকান্দি থেকে ময়নামতি, ময়নামতি থেকে বাতিশা, বাতিশা থেকে ধুমঘাট, ধুমঘাট থেকে সীতাকুণ্ড এবং সীতাকুণ্ড থেকে সিটি গেট পর্যন্ত ৫টি প্যাকেজে উক্ত গাছ রোপণ করা হয়েছিল।

x