অর্থনীতির ক্ষেত্রে সুনীতির তীব্র সংকট

শনিবার , ১২ মে, ২০১৮ at ৪:৪৯ পূর্বাহ্ণ
16

সরকার দেশকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করছে। সর্বক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশনসহ দেশ মধ্যম আয়ের দেশে উপনীত হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছেছেন বলে আত্ম প্রসাদ লাভ করছে। দেশের এমন উন্নতির কথা শুনতে কার না ভালো লাগবে? শুনতে ও কল্পনা করতেই সবারই ভালো লাগার কথা। তবে এসব কথার বিপরীত চিত্র যখন পত্রপত্রিকাগুলো তথ্যউপাত্ত ও অর্থনীতিবিদদের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তুলে ধরে তখন ধাঁধায় পড়ে যেতে হয়। এক ধরনের কনফিউশন সৃষ্টি হয়। প্রশ্ন জাগে তাহলে কার কথা ঠিক? সরকারের নাকি তথ্য উপাত্ত ও অর্থনীতিবিদদের? দেশের অর্থনীতির চিত্র নিয়ে পরপর বেশ কয়েকটি পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখান থেকে যে চিত্র পাওয়া যাচ্ছে তা হচ্ছে দেশের অর্থনীতিতে মন্দা দেখা দিয়েছে। এক ধরনের স্থবিরতা বিরাজ করছে। অর্থনীতির গতি কমছে। বিনিয়োগ স্থিমিত। দেশি বিনিয়োগকারীরা বসে আছেন হাত গুটিয়ে। ব্যাংকের টাকা লোপাট হচ্ছে। শিল্পোদ্যোক্তারা ঋণ নিচ্ছেন না। দেশের নতুন বিনিয়োগ তেমন হচ্ছে না। বিদেশি বিনিয়োগ দিন দিন কমছে। নতুন বিদেশি বিনিয়োগ গত ৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। সেই সঙ্গে অর্থনীতির জোর কমছে। দেশের অর্থনীতির যে বাস্তব চিত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে তা অর্থনীতির ঊর্ধ্বমুখী হওয়া নিয়ে সরকারের কথার একেবারেই বিপরীত। তাহলে সরকার যে উন্নতির কথা বলছে তা কোন ধরনের উন্নতি? বাংলাদেশের উন্নতি হচ্ছে একথা কেবল সরকার বললে হবে না। সাধারণ মানুষও যাতে বলতে পারে এ ব্যবস্থা ও পদক্ষেপ গ্রহণ করা সরকারের দায়িত্ব। সাধারণ মানুষ যদি বলে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ বাস্তবায়নে যে ধরনের উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন, তা যথাযথভাবে না নেয়ার কারণেই অর্থনীতি মন্দাবস্থার কবলে পড়েছে। সরকার পদক্ষেপ নিলেও তা অদক্ষতা ও দুর্নীতির কবলে পড়ে ভেস্তে যাচ্ছে। অর্থাৎ অর্থনীতির ক্ষেত্রে সুনীতির তীব্র সংকট রয়েছে। এ সংকট বছরের পর বছর চলতে থাকলে বাংলাদেশের উন্নতি ঐ নির্দিষ্ট একটি গন্ডিতেই আবদ্ধ হয়ে থাকবে। অর্থনীতির কাঙিক্ষত উন্নতি না করে একটা সময় যদি বলা হয় আমরা মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হয়েছি। তাহলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

ণ্ডএম.এ গফুর, বলুয়ার দীঘির দক্ষিণপশ্চিম পাড়, কোরবানীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x