আওয়ামী লীগের খালেক জয়ী; আবার নির্বাচনের দাবি মঞ্জুর

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন

আজাদী অনলাইন

বুধবার , ১৬ মে, ২০১৮ at ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ
47

খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে কেন্দ্রভিত্তিক ভোট গণনায় মেয়র পদে অনানুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত হয়েছেন ক্ষমতাসীন 2 নৌকা প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭৩ হাজার ৯শ’ ২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৯শ’ ৫৬ ভোট। খবর বাংলানিউজের

তবে এখনো খুলনা বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে নির্বাচন কমিশন স্থাপিত অস্থায়ী ঘোষণা কেন্দ্র থেকে কোনো ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি।

মোট ২৮৯টি কেন্দ্রের মধ্যে দুটি কেন্দ্রে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর একটি কেন্দ্রে জয়ী হয়েছেন খালেক অন্যটিতে মঞ্জু।

দিনভর কয়েকটি কেন্দ্রে দখল, অনিয়ম, অভিযোগ, ব্যালট পেপারে জোরপূর্বক সিল মারার ঘটনা ঘটেছে। আবার সুষ্ঠু ভোটও হয়েছে অনেক কেন্দ্রে। খুলনা আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বলেন, ‘ভোট ভালো হয়েছে।’ অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী বলেন, ‘অন্তত ৪০টি কেন্দ্রে অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে।’

জাল ভোটের অভিযোগে একটি কেন্দ্রে ভোট বাতিল, দুটি কেন্দ্র এবং একটি বুথে ভোট স্থগিত করা হয়। এর বাইরে একটি কেন্দ্রের অদূরে বিএনপির নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর করা হয়েছে।

২৪ নং ওয়ার্ডের সরকারি ইকবাল নগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট বন্ধ করে দেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আনিসুর রহমান। নৌকা প্রতীকে সিল মারার ঘটনায় এছাড়া রূপসা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও রূপসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রেও ভোট স্থগিত হয়।

জাল ভোট দেয়ার অভিযোগে চারটি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে দুপুরে ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের লবণচোরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নৌকা মার্কায় সিল মারার অভিযোগে কেন্দ্রটিতে ভোট স্থগিত রাখা হয়।

২২ নম্বর ওয়ার্ডের ফাতিমা উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি বুথে স্থগিত করা হয় ভোট। সেখানেও নৌকা মার্কায় সিল মারা হচ্ছিল। ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের হাজী আব্দুল মালেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কলেজ কেন্দ্রেও জাল ভোট দেয়ার ঘটনা ঘটেছে।

কলেজিয়েট স্কুলে জাল ভোট দেয়ার ঘটনার ছবি তুলতে গেলে সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। অভিযোগ উঠেছে ২৫ নং ওয়ার্ডের এতিমখানা মোড়ের নূরানি মাদ্রাসায় ভোটারদের হাতে কালি দিয়ে নিজেরাই ভোট দিয়েছে সরকার দলীয় প্রার্থীর সমর্থকরা।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউনুচ আলী বলেন, ‘কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া ভোট সুষ্ঠু হয়েছে।’

বিডিনিউজ জানায়, খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে অনানুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছেন, এ নির্বাচনে তার প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে সঙ্গে নিয়েই খুলনার উন্নয়নে কাজ করতে চান তিনি।

ভোট দেয়ায় জনগণের কাছে ঋণী উল্লেখ করে কাজের মাধ্যমে সেই ঋণ শোধ করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন আগে এক দফায় খুলনার মেয়রের দায়িত্ব পালন করে আসা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি।

তিনি বলেন, ‘খুলনার জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছে। আমি তাদের কাছে ঋণী। আমি এ ঋণ শোধ করব কাজের মাধ্যমে।’

‘অক্লান্ত পরিশ্রম’ করায় নেতাকর্মীদের অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি তাদের ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জানান তালুকদার আব্দুল খালেক।

অপরদিকে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অন্তত একশ কেন্দ্রে ভোট জালিয়াতি হয়েছে অভিযোগ তুলে সেসব কেন্দ্রের ফল বাতিল করে পুনরায় নির্বাচন দেয়ার দাবি জানিয়েছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

মঙ্গলবার দিনভর ভোটগ্রহণ শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ফলাফল ঘোষণার মধ্যে সন্ধ্যার পর এ দাবি তোলেন তিনি।

মঞ্জু বলেন, ‘আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ছেলে-পেলে বিভিন্ন ভোট কেন্দ্র দখল করে ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্স ভর্তি করে। এ রকম কেন্দ্রের সংখ্যা ১০০টিরও বেশি হবে। সেসব কেন্দ্রের ভোট বাতিল করে যে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে, সেটা বাতিল করতে হবে। এরপর সেখানে পুনরায় নির্বাচন দিতে হবে ‘

কে ডি ঘোষ রোডে খুলনা মহানগর বিএনপি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে এসে মঞ্জু যখন এ দাবি জানান, ততক্ষণে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আওয়ামী লীগের তালুকদার আবদুল খালেকের শিবিরে জয়োল্লাস শুরু হয়ে গেছে।

সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত খুলনা নগরীর ৩১ ওয়ার্ডে ভোট গ্রহণ করা হয়। ২৮৯ কেন্দ্রের মধ্যে তিনটি কেন্দ্রে অনিয়মের কারণে ভোট স্থগিত হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন বলেছে, বিচ্ছিন্ন দুই-একটি ঘটনা ছাড়া উৎসবমুখ পরিবেশে ভোট গ্রহণ হয়েছে। বিএনপি যেসব অভিযোগ করেছে, তা সুনির্দিষ্ট নয়।

বিএনপির অভিযোগ ‘হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

অন্যদিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একে ‘প্রহসনের ভোট’ আখ্যায়িত করে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবি তুলেছেন।

সোনাতলা উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের বাইরে বিএনপির প্রার্থীর প্যান্ডেলে চেয়ার-টেবিল ভাংচুর করা হয়। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মঞ্জু বলেন, ‘খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন একটি কালিমালিপ্ত নির্বাচন। ভোটকেন্দ্র দখল, ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্স ভর্তি করা, আমাদের পোলিং এজেন্টদের ঢুকতে না দেয়া, গত রাত থেকে বাড়িতে হামলা করে একটি ভয়ার্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বপ্নকে চুরমার করে দিয়ে বর্তমান সরকার এবং নির্বাচন কমিশন একটি কালো অধ্যায়ের সূচনা করল ‘

তিনি বলেন, ‘খুলনাবাসী এ ফলাফল প্রত্যাশা করেনি। তারা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে চেয়েছে। সেই স্বপ্ন ধুলিসাৎ করে দিয়ে গভীর রাত থেকেই ভোট ডাকাতির মহড়া শুরু হয়েছে। দিনব্যাপী ভোট ডাকাতির যে চিত্র খুলনাবাসী দেখেছে, সেই নির্বাচন অগ্রহণযোগ্য।’

এ ধরনের ‘ভোট ডাকাতির নির্বাচন’ বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে ‘আরও সঙ্কটে ফেলবে’ বলে মন্তব্য করেন সাবেক সংসদ সদস্য মঞ্জু।

তিনি বলেন, ‘আমি আমার পূর্বের বক্তব্যে বলেছিলাম, এ নির্বাচন ভাল না হলে আগামী জাতীয় নির্বাচন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে।’

 

x