আনন্দী সংগীত একাডেমির সংগীতসন্ধ্যা

পার্থ সারথী

বৃহস্পতিবার , ১০ মে, ২০১৮ at ৪:৪৭ পূর্বাহ্ণ
24

গান কথামালা ও গুণীজন সংবর্ধনার মধ্য দিয়ে শেষ হলো আনন্দী সংগীত একাডেমির ৭ম বর্ষ পূতি অনুষ্ঠান। গত ২০ এপ্রিল ২০১৮, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় নগরীর এ.কে.খান স্মৃতি মিলনায়তন (ফুলকি)তে বসে এ সঙ্গীতানুষ্ঠান। বাচিক শিল্পী প্রবীর পালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের দর্শক ছিলো কানায় কানায় পূর্ণ।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বিশুতোষ তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট তবলাশিল্পী সুরজিৎ সেন। অনুষ্ঠানে সংবর্ধেয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গীত শিল্পী ও প্রশিক্ষক মোস্তফা কামাল ও সঙ্গীত ভবন চট্টগ্রামের অধ্যক্ষ সঙ্গীত শিল্পী কাবেরী সেনগুপ্তা।

সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভার উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সরকারি চারুকলা কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ও প্রফেসর রিতা দত্ত। আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বেতার চট্টগ্রাম কেন্দ্রের আঞ্চলিক পরিচালক এস. এম আবুল হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগের অফিসার্ব ডা. মো. রেয়াজুল হক।

কথামালায় আমন্ত্রিত অতিথিরা বলেন, ‘সংগীত মানুষের মনকে পরিশুদ্ধ করে। যে মানুষ ও যে প্রজন্ম সংগীত চর্চা করেন তারা কখনো বিপথে যেতে পারেন না। কারণ সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের মধ্যে এমন শৃঙ্খল বিরাজমান তা কখনো একটি মানুষকে নষ্ট হতে দিবে না। আমাদের আরো বেশি বেশি শুদ্ধ সংগীত চর্চা করতে হব। কারণ আমরা সবাই গান গাইতে জানি। কিন্তু শুদ্ধ গান গাইতে পারা লোকের সংখ্যা বড্ড কমে গেছে। সুতরাং তাল লয় ও ছন্দ ঠিক রেখে শুদ্ধ স্বরে ও শুদ্ধ উচ্চারণে আমাদের সংগীত চর্চা করতে হবে। আর যদি তা আমরা করতে পারি তবে আমাদের আগামী প্রজন্ম অনেক দূর এগিয়ে যাবে।’

কথামালা শেষে শুরু হয় মনোজ্ঞ সঙ্গীতানুষ্ঠান। শুরুতে একক গান পরিবেন করেন শিল্পী শিমুল শর্মা। তিনি পরিবেশন করেন ‘কার মিলন চাও বিরহী’ ও ‘যেতে যেতে একলা পথে’ গান দুইটি। এরপর শিল্পী ভীম পলশ্রী বড়ুয়া গেয়ে শুনান ‘মোর ঘুম ঘোরে এল মনোহর’ ও ‘মধুমালতি ডাকে আয়’ গান দুইটি। ‘জাত গেল জাত গেল বলে’ ও ‘তারে বলে দিও সে যেন আসে না’ গান দুইটি করে শিল্পী নুর সামিহা খানম রুহি মঞ্চে সুরের আবেশ ছড়ায়। তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করে শিল্পী নারিন নাওয়ালের কণ্ঠে ‘তুমি যে আমার কবিতা’ ও ‘দুটি মন আজ নেই দুজনার’ গান দুইটি।

আয়োজনে জামিল আহমেদের কণ্ঠে ‘সাত সাগর পাড়ি দিয়ে’ ও ‘নীল আকাশের নিচে আমি’ এবং প্রিয়া চৌধুরীর কণ্ঠে ‘আকাশের চাঁদ মাটির বুকেতে’ ও ‘শিল্পী আমি তোমাদেরী গান শোনাব’ গানগুলো গেয়ে মঞ্চ মাতান। মঞ্চে সুরের মুগ্ধতা ছড়ান শিল্পী কান্তা দে। পরিবেশন করেন ‘তুমি যাকে ভালবাস’ ও ‘শত জনমের স্বপ্ন তুমি আমার’ গান দুইটি। সৃজন কান্তি পালের কণ্ঠে ‘যা দিয়েছো তুমি আমার’ ও ‘করিমনা কাম ছাড়ে না মদনে’ গান দুইটিও তার ব্যতিক্রম ছিলো না। আয়োজনে আরো ছিলো হাওয়াইয়ান গিটারে সুর। এতে মনোমুগ্ধকর সুর পরিবেশনায় ছিলেন শিল্পী বিশুতোষ তালুকদার ও রাজীব চৌধুরীর ‘যেখানে সীমান্ত তোমার’ গানটি।

গৌতম কানুনগো, আশীষ বসাক, সম্পদ বড়ুয়া, শামীম আহমেদ ও সুধাকর সেনগুপ্তের সার্বিক অনুষ্ঠান তত্ত্বাবধানে শিল্পীদের সাথে এস্রাজে মদন মোহন ঘোষ, তবলায় সুরজিৎ সেন ও জয় প্রকাশ ভট্টাচার্য, কীবোর্ডে সৈকত নন্দী ও অক্টোপ্যাডে এস.এম রুবায়েত সহযোগীতা করেন।

x