আর নয় নেতিবাচক চিন্তা

সাদিয়া নওরিন

রবিবার , ৬ মে, ২০১৮ at ৪:৪১ পূর্বাহ্ণ
94

মানুষের মন নানা বিষয়ে, বিভিন্ন কারণে খারাপ হতে পারে। অনেক কারণেই বিষণ্নতায় ভুগে থাকেন মানুষ। পারিবারিক সমস্যা, সম্পর্কজনিত সমস্যা, কাজের বিফলতাসহ নানা কারণে প্রতিনিয়ত মানুষ বিষণ্ন হয়ে পড়ছেন। বিষণ্নতা আপাত দৃষ্টিতে খুব বেশি ক্ষতিকর মনে না হলেও বিষণ্নতা এক ভয়ানক ব্যাধি। যা মানুষকে কুঁড়ে কুঁড়ে খায়। বিষণ্নতার সুদূরপ্রসারী ফলাফল মোটেই ভালো নয়। যারা প্রায় সময়ই বিষণ্নতায় ভোগেন তাদের মধ্যে আত্মহত্যা করার প্রবণতা দেখতে পাওয়া যায়।তাই বিষণ্নতাকে অবহেলা নয়।
বিষণ্নতা দূর করতে সচেষ্ট হতে হবে। নতুবা মাত্রাতিরিক্ত বিষণ্নতার দরুন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে মনের অজান্তেই। আপনি যদি কোনো কারণে নিজেকে কিংবা কোনো আপনজনকে বিষণ্ন দেখতে পান তবে তা অবহেলা না করে দূর করার কাজে নেমে পড়ুন। এতে করে আপনি মারাত্মক কোনো অঘটন থেকে মুক্তি পেতে পারেন।
আসুন, জেনে নেয়া যাক মন খারাপকে ভালো করতে প্রতিদিন যে কাজগুলো করতে পারেন আপনি। নিয়মিত কাজগুলো করুন, আর দেখবেন আস্তে আস্তে বিষণ্নতা পালিয়েছে অনেক অনেক দূরে।
প্রতিদিনের একটি রুটিন তৈরি করুন
বিষণ্নতায় ভুগলে জীবনের মূল্যবোধ থেকে দূরে সরে আসা হয়। কোনো রুটিন থাকে না। তাই সর্বপ্রথম একটি রুটিন তৈরি করে সে অনুযায়ী চলার চেষ্টা করুন। রুটিন মেনে চলা আপনাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারবে এবং বিষণ্নতা থেকে দূরে রাখতে পারবে।
নিজে নিজে লক্ষ্য স্থির করুন
আপনি যদি দিনের অনেকটা সময় বিষণ্ন হয়ে ঘরের কোণে কাটান তবে আপনার অবশ্যই নিজেকে এর থেকে বের করার জন্য কাজ করতে হবে। নিজে নিজে একটি লক্ষ্য স্থির করে নিন। আপনাকে নতুন কিছু করতে হবে এই লক্ষ্য মেনে কাজ করলে বিষণ্নতা ভুলে থাকতে পারবেন। এবং কিছুদিনের মধ্যেই বিষণ্নতার বিষ দূর হবে আপনার মন থেকে।
নিয়মিত ব্যায়াম করুন
গবেষকদের মতে, শারীরিক ব্যায়াম আমাদের মস্তিষ্কে এন্ডোরফিন নামক হরমোনের নিঃসরণ ঘটায়, যা আমাদের ভাল লাগার অনুভূতি সৃষ্টি করে। তাই নিয়মিত ব্যায়াম করলে মস্তিষ্কে এই হরমোনের উৎপাদন আপনাকে রাখবে বিষণ্নতা মুক্ত। যদি ব্যায়াম করতে না পারেন তবে হেঁটে আসুন খানিক ক্ষন। ভালো লাগবে।
পরিমিত ঘুমান
যারা বিষণ্নতায় ভুগে থাকেন তাদের বেশিরভাগেরই রয়েছে অনিদ্রা জনিত সমস্যা। রাতে ঘুম না হলে বিষণ্নতা আরও চেপে বসে মাথায়। তাই প্রথমে অনিদ্রা দূর করার জন্য সচেষ্ট হতে হবে। শারীরিক পরিশ্রম করে ঘুম আনতে হবে চোখে। প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঘুমের ওষুধ খেতে পারেন।
ইচ্ছে করে কাজের দায়িত্ব নিন
বাসায় কিংবা কর্মক্ষেত্রে আপনাকে কাজ না দিলেও নিজে থেকে ইচ্ছে করে কাজের দায়িত্ব নিন। এর কারণ হলো আপনি যতক্ষণ কাজে ব্যস্ত থাকবেন ততক্ষণ আপনার মধ্যে কোনো ধরনের বিষণ্নতা ভর করবে না। এভাবে নিয়মিত কাজ করলে আপনার বিষণ্নতা দূরে পালাবে।
নিজের নেতিবাচক চিন্তাকে নিজেই চ্যালেঞ্জ করুন
আমাকে দিয়ে কিছু হবে না, আমি পারবো না, আমাকে কেউ ভালবাসে না ইত্যাদি নেতিবাচক চিন্তা বিষণ্নতা ডেকেই আনে না, বিষণ্নতা বাড়ায়ও। তাই এই ধরনের নেতিবাচক চিন্তাকে ঝেড়ে ফেলতে নিজেকেই নিজে চ্যালেঞ্জ করুন। চ্যালেঞ্জ জিতে নিজেকে ভুল প্রমাণের মাঝেও আনন্দ খুঁজে পাবেন। দূর হবে বিষণ্নতা।
আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। অন্যরা পারলে আমিও অবশ্যই পারবো এই মনোবল সৃষ্টি করতে হবে।

x