এপ্রিলেই গ্যাস সংকট ঘুচবে চট্টগ্রামে

আজাদীর সাথে সাক্ষাৎকারে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান

হাসান আকবর

সোমবার , ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ at ৫:১১ পূর্বাহ্ণ
623

চট্টগ্রাম থেকে এলএনজি যাবে ঢাকায়। বিদেশ থেকে আমদানিকৃত এলএনজি ঢাকায় নিতে মহেশখালী থেকে দ্বিতীয় গ্যাস সঞ্চালন পাইপ নির্মাণের কাজ আগামী মাস দুয়েকের মধ্যে শুরু হচ্ছে। প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পের কাজ আগামী নভেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। ৩৮১ কিলোমিটার গ্যাস সঞ্চালন পাইপ নির্মাণের ব্যাপারে ভূমি অধিগ্রহণসহ আনুষাঙ্গিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান বলেছেন, ‘আগামী ডিসেম্বরে পুরো দেশে গ্যাস সংকট থাকবে না।’ গতকাল দৈনিক আজাদীর সাথে এক বিশেষ সাক্ষাতকারে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আবুল মনসুর মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ বলেন, এপ্রিলেই চট্টগ্রামে গ্যাস সংকট ঘুচে যাবে। ডিসেম্বরে পুরো দেশে গ্যাসের কোনো অভাব থাকবে না।’

তিনি বলেন, মহেশখালীতে ভাসমান দুইটি টার্মিনাল স্থাপন হচ্ছে। এর একটি আগামী মাসে এবং অপরটি মাস তিনেকের মধ্যে স্থাপন সম্পন্ন হবে। মহেশখালী থেকে আনোয়ারা পর্যন্ত ৯১ কিলোমিটার ৩০ ইঞ্চি ব্যাসের সঞ্চালন লাইনের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আনোয়ারা থেকে ফৌজদারহাটের কন্ট্রোল সিস্টেম পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার ৪২ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপ লাইন স্থাপনের কাজ চলছে। আগামী মাসের মধ্যে ৭৭৬ কোটি টাকার এই পাইপ লাইন স্থাপন প্রকল্প সম্পন্ন হবে। এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে এই পাইপ দিয়েই চট্টগ্রামে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দেয়া হবে। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান বলেন, গ্যাস আমদানির ব্যাপারে সব প্রস্তুতিই সম্পন্ন হয়েছে। চট্টগ্রামের গ্যাস সংকট ঘুচানো সময়ের ব্যাপার মাত্র। তিনি বলেন, ঢাকা অঞ্চলেও গ্যাসের সংকট রয়েছে। আমরা চলতি বছরের মধ্যে দেশে গ্যাসের অভাব বলে কোন কিছু রাখতে চাই না। বিশেষ করে শিল্প, বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদনে গ্যাসের অভাব থাকবে না। প্রথম দফায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি আনলেও পরবর্তীতে আমরা আরো ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি আমদানি করবো। আমাদের বিভিন্ন গ্যাস ফিল্ড থেকে উত্তোলনকৃত ২৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট মিলে সর্বমোট ৩৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আমরা পাবো। পুরো দেশে আমাদের সর্বমোট ৩৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস লাগবে। দুইশ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উদ্বৃত্ত থাকবে বলেও পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে এলএনজিবাহী জাহাজ মহেশখালীতে নোঙ্গর করবে। ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কাতার, ওমান, ইন্দোনেশিয়া থেকে জি টু জি ভিত্তিতে আমদানি করা হবে। এছাড়া সুইজারল্যান্ড ও সিংগাপুর ভিত্তিক দুইটি কোম্পানি থেকেও আংশিক এলএনজি আমদানি করা হবে। বিভিন্ন উৎস থেকে এলএনজি আমদানির সুযোগ রাখা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, পরবর্তীতে আনা ৫শ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ঢাকায় নিতে মহেশখালী থেকে আনোয়ারা পর্যন্ত ৪২ ইঞ্চি ব্যাসের ৭৯ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মান করা হবে। এতে ১১৪২ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। পরে চিটাগাং থেকে ফেনী হয়ে কুমিল্লার বাখরাবাদ পর্যন্ত ৩৬ ইঞ্চি ব্যাসের ১৮১ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মান করা হবে। এতে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১৯৪৫ কোটি টাকা। বাখরাবাদ থেকে ঢেমরা পর্যন্ত সঞ্চালন লাইন রয়েছে। ওই লাইন ব্যবহার করে ঢাকায় গ্যাস পৌঁছবে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এলএনজি ঢাকায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে। পেপ ও টেকনিপ নামের দুইটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান পাইপলাইন স্থাপনের কাজ শুরুর সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছে। বিদেশ থেকে পাইপসহ আনুসাঙ্গিক যন্ত্রপাতিও এনে রাখা হয়েছে। পাইপলাইন স্থাপনের প্রয়োজনীয় ভূমি হুকুমদখলের সাথে সাথে কাজ শুরু করা হবে। ভূমি অধিগ্রহনের ব্যাপারে গতকাল সকালে সার্কিট হাউজে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী ও কুমিল্লার জেলা প্রশাসনের সাথে জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ নাজিম উদ্দীন বৈঠক করেছেন। আগামী দিন কয়েকের মধ্যে ভূমি অধিগ্রহনের কাজ সম্পন্ন হওয়ার সাথে সাথেই দ্বিতীয় সঞ্চালন পাইপ লাইন নির্মাণের কাজ শুরু হবে বলে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান এক প্রশ্নের জবাবে জানান। তিনি বলেন, বাসা বাড়িতে বা সিএনজি স্টেশনে নয়, ইপিজেড ও অর্থনৈতিক জোনসমূহের শিল্প কারখানার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিল্প প্রতিষ্ঠানে গ্যাস সরবরাহ দেয়া হবে। এছাড়া সার ও বিদ্যুৎ উৎপাদনেও পর্যাপ্ত গ্যাসের যোগান দেয়া হবে।

x