এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৬৩ শতাংশে

বৃহস্পতিবার , ১০ মে, ২০১৮ at ৪:৩৩ পূর্বাহ্ণ
33

গত এপ্রিল মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার সামান্য কমে ৫ দশমিক ৬৩ ভাগে দাঁড়িয়েছে। মার্চে এই হার ছিলো ৫ দশমিক ৬৮ ভাগ। তবে খাদ্যে মূল্যস্ফীতির হার এখনও ৭ শতাংশের উপরে রয়েছে। গত মঙ্গলবার শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক বৈঠক শেষে মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যানুযায়ী এপ্রিল মাসে শাকসবজি, মসলা ইত্যাদি পণ্যের দাম হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে খাদ্য বহির্ভূত উপখাত যেমন, পরিধেয় বস্ত্রাদি, বাড়ি ভাড়া, বিদ্যুত, চিকিৎসা সেবা, পরিবহন, শিক্ষা উপকরণসহ বিবিধ দ্রব্যাদির মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৭ সালের এপ্রিল হতে ২০১৮ সালের এপ্রিল সময়কালে এই একবছরে গড় মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৬৩ ভাগ। পরিকল্পনামন্ত্রী দাবি করেন, বর্তমান সরকারের সময়কালে রমজান মাসে কোন পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ঘটে না। গেলো বছর বন্যায় হাওর অঞ্চলে ফসলের ক্ষতি হলেও এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ফলন হয়েছে। তাছাড়া পর্যাপ্ত চালের মজুত রয়েছে। এবারো রমজানে কোন পণ্যের দাম বাড়বে না বলে তিনি দাবি করেন। বিবিএস এর তথ্যানুযয়ী, গেলো এপ্রিলে দেশে খাদ্য পণ্যে মূল্যস্ফীতির হার ছিলো ৭ দশমিক শুণ্য ৩ ভাগ। আগের মার্চ মাসে এই হার ছিলো ৭ দশমিক শুণ্য ৯ ভাগ। মার্চে খাদ্য বহির্ভূত পণ্যে ৩ দশমিক ৫২ ভাগ থেকে এপ্রিলে কমে ৩ দশমিক ৪৯ ভাগে দাঁড়িয়েছে।

মূল্যস্ফীতির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দেশে গ্রামীণ অঞ্চলে এপ্রিলে মূল্যস্ফীতির হার ৫ দশমিক ৫৯ ভাগ। এসময় খাদ্যে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক ৭৬ ভাগ এবং খাদ্য বহির্ভূত পণ্যে গ্রামীণ এলাকায় মূল্যস্ফীতির হার পাওয়াগেছে ৩ দশমিক ৪৪ ভাগ। অন্যদিকে শহরাঞ্চলে এপ্রিলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৭০ ভাগ। শহরে খাদ্য পণ্যে মূল্যস্ফীতির হার ৭ দশমিক ৬৩ ভাগ এবং খাদ্য বহির্ভূত পণ্যে ৩ দশমিক ৫৭ ভাগ। শহরে মার্চের (৩ দশমিক ৫১) তুলনায় এপ্রিলে খাদ্য বহির্ভূত পণ্যে মূল্যস্ফীতি বেশি লক্ষ্য করা গেছে। বিবিএস এর তথ্যানুযায়ী, এপ্রিলে মজুরির হার আগের চেয়ে বেড়েছে। মার্চে ৬ দশমিক ৩৮ থেকে এপ্রিলে মজুরি হার সূচক বেড়ে হয়েছে ৬ দশমিক ৪২ ভাগে।

x