এবার আকুর বিল ১৪০ কোটি ডলার

সোমবার , ৭ মে, ২০১৮ at ৫:৩২ পূর্বাহ্ণ
179

আমদানি লাগামহীনভাবে বাড়তে থাকায় চাপের মুখে পড়েছে বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ। বাজার স্বাভাবিক রাখতে ডলার বিক্রি করেই চলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) বিল এবার ১৪০ কোটি ডলারে উঠেছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে গত জানুয়ারিফেব্রুয়ারি মেয়াদে আকুর বিল ১৫৬ কোটি ৩০ লাখ ডলারে উঠেছিল।

গত সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভে তিন হাজার ৩১২ কোটি (৩৩.১২ বিলিয়ন) ডলার ছিল। সোম অথবা মঙ্গলবার আকুর মার্চএপ্রিল মেয়াদের ১৪০ কোটি ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর তা ৩২ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, ইরান, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপএই নয়টি দেশ বর্তমানে আকুর সদস্য। এই দেশগুলো থেকে বাংলাদেশ যেসব পণ্য আমদানি করে তার বিল দুই মাস পর পর আকুর মাধ্যমে পরিশোধ করতে হয়। গত বছরের জুলাইঅগাস্ট মেয়াদে ১১৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার আকুর বিল পরিশোধ করেছিল বাংলাদেশ। সেপ্টেম্বরঅক্টোবর মেয়াদে শোধ করা হয় ১১৩ কোটি ২০ লাখ ডলার। নভেম্বরডিসেম্বর মেয়াদে আকুর বিল ছিল ১৩৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার। আমদানি বিল এই হারে বাড়তে থাকলে রিজার্ভ চাপের মুখে পড়বে মন্তব্য করে অর্থনীতির গবেষক আহসান এইচ মনসুর বলেন, প্রতি মাসেই আমদানি ব্যয় বাড়ছে। আমি হিসাব করে দেখেছি, চলতি অর্থবছর শেষে আমদানি ব্যয় ৬০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। খবর বিডিনিউজের।

সাম্প্রতিক সময়ে আমদানির যে উলহ্মম্ফন, সেটা মূলত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ অন্যান্য বড় প্রকল্পের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আমদানির কারণে। এছাড়া চাল, জ্বালানি তেল, ক্যাপিটাল মেশিনারি এবং শিল্পের কাঁচামাল আমদানিও বেড়ছে’। বাংলাদেশ ব্যাংকের আমদানি সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চলতি ২০১৭১৮ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাইমার্চ) বিভিন্ন পণ্য আমদানির জন্য মোট পাঁচ হাজার ৫৯৫ কোটি ৭৩ লাখ (৫৫.৯৫ বিলিয়ন) ডলারের ঋণপত্র (এলসি) খোলা হয়েছে। এই নয় মাসে এলসি নিষ্পত্তি (সেটেলমেন্ট) হয়েছে ৩৮ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলারের। গত ২০১৬১৭ অর্থবছরের জুলাইমার্চ সময়ে এলসি খোলার পরিমাণ ছিল ৩৫ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার। আর নিষ্পত্তি হয়েছিল ৩৩ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার। এ হিসাবে এই নয় মাসে এলসি খোলার পরিমাণ বেড়েছে ৫৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ। আর নিষ্পত্তির পরিমাণ বেড়েছে ১৪ দশমিক ১৯ শতাংশ। তথ্যে দেখা যায়, জুলাইমার্চ সময়ে খাদ্যপণ্য (চাল ও গম) আমদানির এলসি বেড়েছে ২১৮ শতাংশ। জ্বালানি তেল আমদানিতে ৩৭ শতাংশ, মূলধনী যন্ত্রপাতি (ক্যাপিটাল মেশিনারি) আমদানিতে ৩৩ শতাংশ এবং শিল্পের কাঁচামাল আমদানির এলসি বেড়েছে ১৪ শতাংশ। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও বলছেন, প্রবৃদ্ধি ঊর্ধ্বমুখী থাকায় দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে আমদানি বাড়ছে। বর্তমানে যে রিজার্ভ আছে তা দিয়ে সাত মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। সামনের দিনগুলোতে সার্বিক রিজার্ভ পরিস্থিতি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অনুকূল থাকবে বলেই আশা করছি। বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রিজার্ভ ছিল ২০১৭ সালের জুলাইয়ে ৩৩ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মানদন্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রার মজুদ থাকতে হয়। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাইমার্চ) রপ্তানি আয় বেড়েছে ৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ। আর দশ মাসে অর্থাৎ জুলাইএপ্রিল সময়ে রেমিটেন্স প্রবাহ বেড়েছে ১৭ দশমিক ৫১ শতাংশ।

x