এবার মাশরাফিদের দেখলেন গর্ডন গ্রিনিজ

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বৃহস্পতিবার , ১৭ মে, ২০১৮ at ৫:১৭ পূর্বাহ্ণ
15

১৯৯৭ সালে সাবেক ক্যারিবীয়ান গ্রেট গর্ডন গ্রিনিজের নেতৃত্বে বাংলাদেশ যখন ঐতিহাসিক আইসিসি ট্রফি জয় করে তখন আজকের সাকিবতামিমরিয়াদমুশফিক কিংবা মাশরাফিরা ক্রিকেটের হাতে খড়িও নেয়নি। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর আবার বাংলাদেশে এলেন গ্রিনিজ। আর এসেই তার সেদিনের শিষ্যদের কাছ থেকে পেলেন ঊষ্ণ অভ্যর্থনা। সেদিনের শিষ্য আকরাম, নান্নু, দুর্জয়, পাইলট, রফিকদের কাছে পেয়ে আপ্লুত হয়ে পড়েন আইসিসি ট্রফি জেতানোর পর সম্মান সূচক নাগরিকত্ব পাওয়া গর্ডন গ্রিনিজ। ঢাকা এসেই সাবেক ক্রিকেটারদের নিয়ে উচ্ছ্বাসে মাতা গ্রিনিজ এবার সময় কাটালেন বাংলাদেশের এ কালের ক্রিকেটারদের সাথে। দেশের হোম অব ক্রিকেট খ্যাত মিরপুর শেরবাংলা স্টেডিয়াম ঘুরে গেলেন বাংলাদেশকে বিশ্বকাপের আঙিনায় নিয়ে যাওয়া কোচ গর্ডন গ্রিনিজ। শুধু ঘুরেই গেলেন না মাশরাফি, মুশফিকদের কঠোর পরিশ্রমের পরামর্শও দিয়ে গেলেন।

গতকাল দুপুরে হোম অব ক্রিকেটে আসেন গর্ডন। সেখানে এলে বিসিবি সিইও নিজাম উদ্দিন চৌধুরীসহ বোর্ডের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ তাকে ফুলেল অভ্যর্থনা জানান। বিসিবির এই অফিসটিও দেখেননি গর্ডন আগে। প্রথমবার এলেন এই আঙ্গিনায়। অভ্যর্থনা শেষে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও শেরবাংলা স্টেডিয়াম ঘুরে দেখেন ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশের আইসিসি শিরোপা জয়ের এ কারিগর। স্টেডিয়াম ও বিসিবি পরিদর্শন শেষে চলে যান স্টেডিয়ামের প্রেসিডেন্ট বক্স পরিদর্শনে। এরপর আসেন বিসিবি একাডেমিতে। একাডেমির মাঠে তার জন্য অপেক্ষমাণ ছিল অনুশীলনরত টাইগার সদস্যরা। মাঠে এলে তাকে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এরপর তার হাতে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের অটোগ্রাফসহ টাইগারদের জার্সি তুলে দেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। আর অটোগ্রাফ সম্বলিত ক্যাপ তুলে দেন মুশফিকুর রহিম। মাশরাফিদের সাথে কিছুক্ষণের আলাপচারিতায় আগামীতে করণীয় বাতলে দিয়ে বেরিয়ে যান গর্ডন। মবিসিবির আমন্ত্রণে ৫ দিন বাংলাদেশ সফরে আসা গর্ডন আজ দিয়ে চারদিন কাটালেন। সফর শেষে শুক্রবারই দেশের উদ্দেশ্যে উড়াল দেবেন। গেল সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর স্থানীয় একটি হোটেলে তার জন্য উষ্ণ অভ্যর্থনার আয়োজন করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডবিসিবি। অল্প কয়েক মিনিটের বক্তব্য দেন গ্রিনিজ। যার প্রায় পুরোটা জুড়েই উপদেশ আর পরামর্শ। কয়েক মিনিটের ওই কথোপকথোনের মূল অংশই ছিল বাড়তি পরিশ্রমের জোর তাগিদ। ক্রিকেটারদের পরিষ্কার বলে দেন, ‘পরিশ্রমই সাফল্যের প্রসূতি।’ কঠোর পরিশ্রম করা ছাড়া ভাল করার কোন বিকল্প পথ নেই। পরিশ্রমের কোনই বিকল্প নেই। পরিশ্রম করতে থাক। ভাল ফল ও সাফল্যের পূর্ব শর্তই হলো কঠোর পরিশ্রম। যত বেশি পরিশ্রম করবে তত ভাল রেজাল্ট পাবে। এ ছাড়া দেশ ও দেশের বাইরে সব কন্ডিশনের সাথে নিজেকে মানিয়ে নেয়ার পরামর্শও দেন বাংলাদেশের সাবেক কোচ। ক্রিকেটারদের তিনি বলেন, খেলার আগে নিজেকে তৈরি করার প্রাণপণ চেষ্টা করবে। নিজেকে এমনভাবে প্রস্তুত করবে। যাতে যেখানেই খেলো না কেন পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে যেন সমস্যা না হয়। তিনি বলেন যে কোন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিতে হলে নিজেকে পরিবেশ ও পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নেয়ার চেষ্টা খুব জরুরি। এর বাইরে ব্যাটসম্যানদের উদ্দেশ্যে শুধু একটি বড় উপদেশ বাণী শোনান গর্ডন। আর তা হলো সব সময় নিজের উইকেটের মূল্যটা বোঝার চেষ্টা করবে। যদি নিজের উইকেটের মূল্য ঠিক মত বুঝতে পারো, তাহলে দেখবা দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ আপনাআপনি বেড়ে যাবে। কথোপকোথনের এক পর্যায়ে ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফির কাছ থেকে জেনে নেন বাংলাদেশ দলের পরবর্তী সফরসূচি কি ও কোথায়? মাশরাফি জানিয়ে দিলেন তাদের সামনের সূচি। আর সে সব সিরিজকে সামনে রেখে নিজেদের প্রস্তুত করার তাগিদ দিলেন গর্ডন গ্রিনিজ। এখন যারা বাংলাদেশ দলের ক্যাম্পে আছেন তার ৯০ ভাগ ক্রিকেটারের জন্মই হয়েছে গর্ডন গ্রিনিজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর পর। গর্ডনের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ হয়েছে ১৯৯১ সালে। এ মুহূর্তে প্রাথমিক ক্যাম্পের সবচেয়ে সিনিয়র ক্রিকেটার আব্দুর রাজ্জাকের জন্ম ১৯৮২ সালে। আর মাশরাফির জন্ম ১৯৮৩ সালে। মাহমুদউল্লাহর জন্ম ১৯৮৬তে। মুশফিকুর রহীম পৃথিবীতে এসেছেন ১৯৮৭ সালে। তামিম ইকবাল জন্মেছেন ১৯৮৯ সালে। রাজ্জাক আর মাশরাফি খুব ছোটবেলায় হয়তো দেখে থাকতে পারেন গর্ডনের খেলা।

x