এ্যাকর্ড এ্যালায়েন্সের শর্ত পূরণের সুফল মিলছে গার্মেন্টস সেক্টরে

প্রথম সাত মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৪শ কোটি টাকার বেশি রপ্তানি

হাসান আকবর

শুক্রবার , ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ at ৫:৩৫ পূর্বাহ্ণ
34

গার্মেন্টস সেক্টরের দুরবস্থা পিছু না ছাড়লেও রপ্তানি আয় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় চারশ’ কোটি টাকার বেশি তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। বিদ্যমান ধারা অব্যাহত থাকলে গার্মেন্টস সেক্টর নানা সংকটের মাঝেও রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। এ অর্জনকে গার্মেন্টস সেক্টরে এ্যাকর্ড এল্যায়েন্সের শর্ত পূরণের সুফল হিসাবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গার্মেন্টস সেক্টরে সংকট চলছে অনেকদিন ধরে। বহুমুখী সংকটে জর্জরিত দেশের প্রধান এই রপ্তানিখাত। জিএসপি সুবিধা নিয়ে সংকট, এ্যাকর্ড এবং এ্যালায়েন্সের কমপ্ল্যায়েন্স নিয়ে পুরো সেক্টর নড়ে গেছে। ‘এ্যাকর্ড অন ফায়ার অন বিল্ডিং সেফটি ইন বাংলাদেশ’ এবং ‘বাংলাদেশ সেফটি এ্যালায়েন্স’ (এ্যাকর্ড এবং এ্যালায়েন্স) শর্ত পূরণ করতে গিয়ে সারাদেশের গার্মেন্টস খাতে ধস নামানোর উপক্রম হয়। চট্টগ্রামে ছয়শ’ গার্মেন্টস কারখানার মধ্যে অন্তত তিনশ’ কারখানা ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। এরমধ্যে শুধুমাত্র কমপ্ল্যায়েন্স ইস্যুতে বন্ধ হয়ে গেছে একশটিরও বেশি গার্মেন্টস। সারাদেশে অন্তত এক হাজার গার্মেন্টস বন্ধ হয়ে গেছে। যেসব কারখানা চালু রয়েছে তাদেরকে শত শত কোটি টাকা খরচ করে এ্যাকর্ড এবং এ্যালায়েন্সের শর্ত পূরণ করতে হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে গার্মেন্টস খাতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৭ দশমিক ৮৭৫ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু গার্মেন্টস ব্যবসায়ী এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর কর্মকর্তাদের আশংকা ছিল যে, নানা সংকটে থাকা গার্মেন্টস খাত এই টার্গেট অর্জন করতে পারবে না। কিন্তু ছয় মাসের হিসাবে ১৭ দশমিক ৯১৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, গত জানুয়ারি মাস পর্যন্ত হিসাব কষে দেখা গেছে যে, রপ্তানি আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪৫ বিলিয়ন বা প্রায় চারশ’ কোটি টাকা বেশি অর্জিত হয়েছে। এটি একটি বড় ধরনের সফলতা বলেও উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা বলেছেন, বেশ কিছু কারখানা বন্ধ হয়ে গেলেও যেসব কারখানা চালু আছে সেগুলো এ্যাকর্ড এল্যায়েন্সের শর্ত পূরণ করতে গিয়ে অত্যন্ত ভালো করেছে। আর এর সুফলও পাওয়া যাচ্ছে।

গার্মেন্টস ব্যবসায়ী এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, গার্মেন্টস সেক্টরই আমাদের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত। বিদ্যমান ধারা অব্যাহত থাকলে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

বিষয়টি নিয়ে একাধিক গার্মেন্টস মালিকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, ইউরোপ আমেরিকার ক্রেতারা ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। কাপড় কিনছেন। যার সুফল আসছে। আবার এ্যাকর্ড এ্যালায়েন্সের বিভিন্ন শর্ত পূরণ করতে গিয়ে আমাদেরকে এমন কিছু কাজ করতে হয়েছে যাতে আয় বাড়ছে। তারা বলেন, এই ধারা ধরে রাখা গেলে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হবে না।

তারা বলেন, বাংলাদেশের গার্মেন্টস সেক্টর নিয়ে একটি নেতিবাচক প্রচারণা ছিল। ইমেজ ক্রাইসিসে পড়ে গিয়েছিলাম আমরা। সেই সংকট কাটতে শুরু করেছে। বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাত আবারো আগের জায়গায় উন্নীত হচ্ছে বলেও তারা মন্তব্য করেন।

x