ওঁদের সফর এবং আমাদের আশা

ফেরদৌস আরা আলীম

শনিবার , ৩১ মার্চ, ২০১৮ at ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ
17

রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের দুর্গতদের বিশেষ করে নারী ও শিশুদের অবস্থা সরেজমিনে দেখতে এসেছিলেন শান্তিতে নোবেলজয়ী তিন নারী। ‘নোবেল উইমেনস ইনিশিয়েটিভে’র আয়োজনে বাংলাদেশে তাঁদের সফরের সম্পূর্ণ কার্যক্রমে স্থানীয় সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছে ‘নারীপক্ষ’। শান্তি, ন্যায়বিচার ও সমতার লক্ষ্যে গঠিত ‘নোবেল উইমেনস ইনিশিয়েটিভে’র প্রতিষ্ঠাতা এলিজাবেথ বার্নেস্টাইন স্বয়ং ছিলেন এঁদের সঙ্গে। এঁরা কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলো দেখেছেন, কয়েকটি শিবিরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে রোহিঙ্গা নারীদের সঙ্গে কথা বলেছেন, শতাধিক নারীর বেদনার কাহিনী শুনেছেন; শুনেছেন এঁদের স্বামী ও শিশুহত্যার কথা, শুনেছেন মিয়ানমার সেনাবাহিনী কর্তৃক গণধর্ষণের কাহিনী। কক্সবাজার ও ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এঁরা নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন, অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন, এবং পরবর্তী ধাপে তাঁদের পরিকল্পনা সম্পর্কে বলেছেন। এঁরা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন, তাঁর ভূয়সী প্রশংসাও করেছেন। সমস্যাটিকে ‘বৈশ্বিক’ অভিহিত করে এ সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক উদ্যোগের অপ্রতুলতা ও অনাগ্রহ বিষয়ে এঁরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং নিজেদের সংগঠনেরই এক সদস্য অং সান সু চির সমালোচনাও করেন। প্রিয় পাঠক, আসুন। আজ এঁদের গল্প শুনি।

নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের সমাজকর্মী মারিয়েড ম্যাগুয়ের এঁদের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ। ‘পিস পিপল’ নামের যে সংগঠনটির মাধ্যমে তিনি তাঁর কাজ শুরু করেছিলেন এবং এখনও করে যাচ্ছেন সেটি গড়ে তোলার পেছনে রয়েছে তাঁর ব্যক্তিগত বেদনার এক মর্মন্তুদ কাহিনী। ১৯৭৬ এর ১০ই আগস্ট আইরিশ রিপাবলিকান আর্মি ও বৃটিশ আর্মির এক সংঘর্ষে বৃটিশ আর্মির ছোঁড়া গুলিতে আঘাতপ্রাপ্ত এক ড্রাইভার গাড়িসহ ফুটপাতে উঠে যায়। ওই ফুটপাতে নিজের তিনটি শিশুসন্তানসহ হাঁটছিলেন এক মা। গাড়িটি তাঁর তিনটি সন্তানেরই জীবনপ্রদীপ নিভিয়ে দেয়। ঘটনাচক্রে পাগলপ্রায় এই মাতা মারিয়েড ম্যাগুয়েরেরই ছোট বোন। তাৎক্ষণিকভাবে বেটি উইলিয়ামস নামের এক সাংবাদিকসহ মারিয়েড ম্যাগুয়ের ‘পিস পিপল’ গঠন করেন। কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, এঁরা কাজ শুরু করেন শান্তির জন্য। মারিয়েড জানান, মিয়ানমারের মতো তাঁর দেশেও জাতিগত বিবাদ ছিল। আইরিশ, ব্রিটিশ, ক্যাথলিকপ্রোটেষ্ট্যাস্ট বিভাজন এতটাই প্রকট ছিল যে এদের বাড়িঘর তো বটেই স্কুলগুলিও ছিল যার যার এলাকায়। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের পথ বন্ধ হলে চরমপন্থীদের উত্থান ঘটে। এ সত্যটি মারিয়েড শুরুতেই বুঝেছিলেন। (এই সাধারণ সত্যটি এখনও উপেক্ষিত হচ্ছে বলে আজ দেশে দেশে সন্ত্রাস মাথা চাড়া দিয়েছে)। বোনকে নিঃস্ব হতে দেখে হাজার হাজার নারীকে সঙ্গে নিয়ে শান্তির দাবিতে পথে নেমেছিলেন ম্যাগুয়ের। মূলতঃ তিনি এবং তার দলের প্রচেষ্টায় আজ সে দেশটি শান্তির দেশ।

মারিয়েড ম্যাগুয়েরের জীবন দর্শন মনে দাগ কাটে। তিনি বলেন, শান্তির খোঁজে অনেক বড় বড় প্রকল্পের চেয়ে মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক অনেক বেশি শক্তি ধরে। তিনি বলেন, অস্ত্রের পথে কোনও সমাধান কোথাও নেই। তাঁর মতে, জীবনে দুঃখকষ্ট থাকবেই। কিন্তু তার পরেও জীবনটা সুন্দর। এ জীবন আরও সুন্দর হয় যদি মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক সুন্দর হয়, গভীর হয়। পৃথিবীকে একটা পরিবারের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, এখানে সবার সমান অধিকার। এখানে সবলদুর্বলের প্রশ্ন অবান্তর। সুতরাং যুদ্ধ ও সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চারদের নিয়ে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন, যাবেন।

নারীপক্ষের আয়োজনে গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি (২০১৮) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে এই নোবেলজয়ী নারীরা তাঁদের জীবন ও সংগ্রামের গল্প শোনান। ২০০৩ এ ইরানের রক্ষণশীল ও কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন শিরিন এবাদী। আইনজীবী এই নারী শুধু ‘নারী’ ছিলেন বলে বিচারক হতে পারেন নি। আইনজীবী হিসেবে সরকারের সমালোচক রাজনীতিবিদদের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। ভিন্নমতের কারণে কারাগারের বন্দীজীবনও যাপন করেছেন। ধর্মের নামে স্বৈরশাসন, পাথর ছুঁড়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা এবং চুরির দায়ে হাত কেটে ফেলার মতো অমানবিক শাস্তির বিরুদ্ধে লড়াই তাঁকে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি দিয়েছে। ২৬টি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রী তার প্রমাণ। তাঁর চলমান লড়াইটি মূলত নারীর জন্য। পুরুষের অর্ধেক অধিকার পাওয়া নারীর পূর্ণ অধিকার প্রাপ্তির জন্য লড়ে যাচ্ছেন তিনি।

২০০৯ এ তাঁর এনজিও এবং আইনি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাঁর স্বামী ও সহকর্মীদের আটক করা হয়। তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও নীরবতার শর্তে এঁদের মুক্ত করে দেবার সরকারি আশ্বাসের উত্তরে তিনি বলেন, পরিবারকে ভালবাসি তবে সত্যকে তার চেয়ে ঢের বেশি ভালবাসি। তিনি দেশে ফেরেন নি, আপোষও করেন নি। শিরিন এবাদী পিতৃতান্ত্রিক সংস্কৃতির কথা বলেন। তাঁর মতে অনেক নারী এখনও পুরুষের অকারণ শ্রেষ্ঠত্ব ও আধিপত্যের মতো অন্যায়কে অন্যায় মনে করেন না বলেই ধর্ম ও পিতৃতান্ত্রিকতা পুরনো সমাজ ব্যবস্থাকে এখনও টিকিয়ে রাখার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। যে ধর্মের নামে ঘুণে ধরা সমাজ টিকে থাকে সে ধর্মের ব্যাখ্যাকার খোদ পুরুষ। শিরিন বলেন, নারী শিক্ষিত হোক, ধর্মের ব্যাখ্যা নিজেরাই করুক তবেই পিতৃতান্ত্রিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হবে। প্রসঙ্গত রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনকে মনে পড়ে যাচ্ছে। ১৯০৫ সালে ‘মতিচূর’ গ্রন্থ প্রকাশকালে এ গ্রন্থের ২য় প্রবন্ধ ‘স্ত্রী জাতির অবনতি’ থেকে ৫টি অনুচ্ছেদ বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। বছরখানেক আগে ‘নবনূর’ পত্রিকায় প্রকাশিত প্রবন্ধটির বাতিলকৃত ৫টি অনুচ্ছেদের ১টি ছিল এরকম :

ধর্মগুলি পুরুষ রচিত বিধি ব্যবস্থা ভিন্ন আর কিছুই নহে। মুণিদের বিধানে যে কথা শুনিতে পান স্ত্রীমুণির বিধানে হয়ত তাহার বিপরীত নিয়ম দেখিতে পাইতেন ; কিন্তু স্ত্রী লোকের সেরূপ যোগ্যতা কই যে মুণি ঋষি হইতে পারিতেন? …যদি ঈশ্বর কোন দূত রমনী শাসনের নিমিত্ত প্রেরণ করিতেন, তবে সে দূত বোধ হয় কেবল এশিয়ায় সীমাবদ্ধ থাকিতেন না।….ঈশ্বর কি কেবল এশিয়ারই ঈশ্বর? আমেরিকায় কি তাহার রাজত্ব ছিল না?… ধর্মের বন্ধন যেখানে অতিশয় দৃঢ়, সেইখানে নারীর প্রতি অত্যাচার অধিক।এ স্থলে ধর্ম অর্থে ধর্মের সামাজিক বিধান বুঝিতে হইবে।

প্রসঙ্গত আরও উল্লেখ্য যে রোকেয়ার ভাষ্যমতে ‘কোন বিশেষ ধর্মের নিগূঢ় মর্ম বা আধ্যাত্মিক বিষয়’ নয়, ‘ধর্মে যে সামাজিক আইনকানুন বিধিবদ্ধ আছে’, তিনি শুধু সেদিকটি নিয়েই আলোচনা করেছেন।

কারমান তাওয়াক্কেল। নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী আমাদের আলোচ্য তিন নারীর মধ্যে তিনি সর্বকনিষ্ঠ। তাঁর অতি সংবেদনশীল মন এবং তেজোদ্দীপ্ত দৃঢ়তার সঙ্গে ফুলছোপানো ওড়নার ঘেরে বন্দী মিষ্টি মুখাবয়ব ঠিক মেলে না। এই মানুষটিই খুব দৃঢ় প্রত্যয়ের সঙ্গে বলেন নারী পরিচয়ে তিনি গর্ববোধ করেন এবং এই পোশাকে তিনি স্বচ্ছন্দ। ইয়েমেনের এই নারীই আরব বসন্তের দিনগুলিতে ইয়েমেনের বিপ্লবের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। ইয়েমেনের স্বৈরশাসক আবদুল্লাহ সালেকের পতনের আন্দোলনের মশালটি জ্বালিয়েছিলেন তিনি। ২০০৭ এর ফেব্রুয়ারি থেকে নভেম্বর এই এগারো মাস রাজধানী সানার সড়ক তাঁবুতে অবস্থান করেন তিনি।

আবদুল্লাহ সালেকের পতনের আগে ঘরে না ফেরার প্রতিজ্ঞা ছিল তাঁর। আজ আমরা জানি যে ইয়েমেনের বিপ্লব বেহাত হয়ে গেছে। গত ৩ বছরে গৃহযুদ্ধে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে সেখানে। লক্ষ লক্ষ মানুষ গৃহহারা বা ঘরছাড়া হয়েছে। বিবদমান দু’পক্ষের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে ইরান ও সৌদি আরব। দৃঢ়চেতা কারমান এতে শঙ্কিত নন মোটেও। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য আমরা শুনেছি। তিনি বলেন, বিপ্লবের পর প্রতি বিপ্লব স্বাভাবিক। ৫০ বছরের স্বৈরশাসন ৫ বছরে শেষ হবার নয়। ইয়েমেনের জনগণ রক্ত দিচ্ছে। মুক্তির মূল্যে এ রক্তদান অভিষিক্ত হবেই। আন্দোলনের সূচনাতে তিনি গড়েছিলেন (২০০০) ‘ওমেন জার্নালিস্টস উইদাউট বর্ডার’ নামক সংগঠন। সরকারি নিষেধাজ্ঞার কোপে পড়ে তিনি তাঁর সংগঠনের নাম বদলে ফেলেন। ‘ওমেন জার্নালিস্টস উইদাউট চেইন’ নামে তাঁর সংগঠনটি চালাচ্ছেন তিনি। ইয়েমেনের এই সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ ও মানবাধিকার কর্মী, নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী কারমান স্বদেশে গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য প্রচুর লেখালেখি করেছেন, সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে লিখে যাচ্ছেন এখনও। মাত্র ২৮ বছর বয়সে অহিংস আন্দোলনে নেমে রাস্তায় সরকারি বাহিনীর অত্যাচারনির্যাতন সয়েছেন বহুবার, প্রচুর বাধার সম্মুখীন হয়েছেন, আইনের মুখোমুখি হয়েছেন কিন্তু দমেননি। রোহিঙ্গা নারীদের দেখে, তাদের কথা শুনে তাওয়াক্কেল বলেন, স্তব্ধ হয়ে গেছি আমি। বলেন, ঘটনাটা পরিকল্পিত গণহত্যার; আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতা এক্ষেত্রে লজ্জার।

নোবেল জয়ী এই তিন নারী আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের ব্যর্থ ভূমিকার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলেন গণমাধ্যম কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিজ নিজ দেশের সরকারের অবস্থানের কথা মাথায় রেখে সংবাদ পরিবেশন করায় বিশ্বের অনেক দেশ এ বর্বরতা সম্পর্কে সঠিক অবগত নয়। কক্সবাজারে স্থানীয় সরকারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে শিরিন এবাদী বলেন, মুসলমানদের উপর নির্যাতন হচ্ছে অথচ মুসলিম দেশগুলো কিছু বলছে না, কিছু করছে না। ইরান, সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত কোথায়? এরা অস্ত্র কিনে মুসলমানদেরই হত্যা করছে।

এ সফরকে ‘নোবেল উইমেন ইনিশিয়েটিভ’ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। এ সফর শেষে এঁরা মিয়ানমারে যাবার জন্য ভিসার আবেদন করবেন বলে জানান। তবে অং সান সুচির ভূমিকায় তাঁরা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। কারণ তাঁদের সংগঠনের এই সদস্যের মানবাধিকার রক্ষায় একদা তাঁরা সোচ্চার ছিলেন। আজ তাঁর সতীর্থদের ভিসার আবেদন তিনি প্রত্যাখ্যান করেন কিনা সেটাই দেখার বিষয় বলে তাঁরা মন্তব্য করেন। প্রসঙ্গত আমাদের মনে পড়ে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে জাতির উদ্দেশ্যে প্রথমবারের মতো প্রদত্ত ভাষণে সুচি ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি উচ্চারণ করেননি। লক্ষ লক্ষ মুসলমান শরণার্থী বাংলাদেশে পালিয়ে যাচ্ছে সে সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এবং নিরাপত্তা পরিষদের একাধিক বৈঠকে মিয়ানমারের প্রতিনিধিরা সু চির কথার প্রতিধ্বনিই করেছেন ; নতুন কিছুই বলেন নি।

রোহিঙ্গাদের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে এঁরা কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলে আমরা আশাবাদী। শিরিন এবাদী বলেছেন সুদানের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিষদ যা করেছে রোম সংবিধিতে স্বাক্ষর করে নি বলে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে তা করা যাবে না, সেখানে রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের হোতাদের আন্তর্জাতিক আদালতের কাঠগড়ায় তোলা যাবে না এটা যুক্তির কথা নয়।

আমরা জানি, রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের অধিকাংশই নারী ও শিশু। সেখানকার বেশির ভাগ সমর্থ পুরুষকে হত্যা করা হয়েছে। বেঁচে যাঁরা আছেন তাঁদের অনেকে সংগঠিত হবার উদ্দেশ্যে কোথাও অবস্থান নিয়েছে হয়তো বা। শরণার্থী শিবিরের নারীরা নানা কারণে অরক্ষিত জীবন যাপন করছে এবং সীমাহীন দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাতে হয় তাদের। রাতের অন্ধকারে নিজের জন্য, কিশোরী কন্যাটির জন্য নিরাপদ একটি শোবার জায়গা, প্রকৃতির ডাকে বাইরে যাওয়া, পানি বা জ্বালানি সংগ্রহের জন্য দূরে যাওয়াণ্ড প্রতিটি ক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকি থাকে। বিবিসি’র সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে রোহিঙ্গা কিশোরীদের পাচার হওয়ার ভয়ঙ্কর সব তথ্য এসেছে। আমরা আশা করবো নোবেল উইমেন ইনিশিয়েটিভ’ এর এই সদস্যরা নারী ও শিশুদের বিশেষ করে অনাথ কিশোরীদের জন্য যথাসাধ্য উদ্যোগ নেবেন এবং বাংলাদেশের শরণার্থী সমস্যা সমাধানে যথাযোগ্য ভূমিকা পালন করবেন।

x