কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতি, চিন্তিত কৃষক

সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার , ২৬ এপ্রিল, ২০১৮ at ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ
4

বৈশাখের শুরুতেই কয়েকদফা ঘূর্ণিঝড়ের তান্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন সীতাকুন্ডের কৃষকরা। গত কয়েকদিন ধরে থেমে থেমে ভারী বর্ষন সাথে শিলা বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় ফসলি জমিগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে পথে বসা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবেনা বলে জানান, বাড়বকুন্ডের চাষী আবুল কালাম।

তিনি আরো বলেন, আমি প্রতি বছর এই মৌসুমে তরমুজবাঙ্গির চাষ করে থাকি। এ বছর আমি প্রায় ২’শ একর জমিতে তরমুজবাঙ্গির চাষ করেছি। সবেমাত্র ব্যবসা করার সঠিক সময় হয়েছে। কিছু কিছু বাজারজাতও করেছি। কিন্তু এখন পুরোদমে বাজারজাত করার সময় শিলা বৃষ্টির কারণে ব্যাপক ক্ষতির শিকার হচ্ছি। এভাবে বৃষ্টি যদি চলতে থাকে তাহলে অনেক ক্ষতির সম্মুখিন হতে হবে। গত একবছর ধরে এরকম হচ্ছে, শুধু লোকসান আর লোকসান। এভাবে চলতে থাকলে কৃষকরা কিভাবে বাঁচবে? এদিকে শিলা বৃষ্টি ও ভারী বর্ষণে ক্ষতির মুখে পড়েছে তরমুজ, বাঙ্গি, বরবটি, ঢেরশ, টমেটো, কুমড়া, লাউ, মরিচ, ঝিঙ্গাসহ বিভিন্ন জাতের ফলনের চাষীরা।

সরেজমিনে সীতাকুন্ডের বাড়বকুন্ড, টেরিয়াইল, ছোট দারোগাহাট, শিবপুর, মুরাদপুর, ইদিলপুর, বাঁশবাড়ীয়া, সৈয়দপুর, অন্তরখালী ঘুরে দেখা যায়, বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা হাউমাউ করছে। অনেকে বৃষ্টির কারণে জমিতে জমে যাওয়া পানিগুলো নিস্কাশনের জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করছে। কেউ পাম্প মেশিনের সাহায্যে, কেউ নিজে নিজেই পানি নিস্কাশনে ব্যস্ত। অনেকে দমকা হাওয়ার কারণে লাউ গাছের চাং, বরবটি গাছ ভেঙ্গে মাটিতে পড়ে যাওয়ায় সেগুলো ঠিক করছে।

বাঙ্গিতরমুজ চাষের জমিতে পানি জমে থাকার কারণে গাছের ক্ষতি হবে জানিয়ে মুরাদপুরের তরমুজ বাঙ্গি চাষী জহুরুল হক জানান, কয়েদিন ধরে প্রতিদিনই বৃষ্টি হচ্ছে, প্রতিদিন জমিতে পানি জমছে, আমরা এগুলো যত দ্রুত সম্ভব নিস্কাশনের ব্যবস্থা করছি। সময়ে বৃষ্টির কারনে উপকৃত হয় আবার সময়ে বৃষ্টির কারনেই বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখিন হতে হয়। এখন সামনে যদি আর বৃষ্টি না হয় তবে কিছুটা ফলনের আশা করা যায়।

তবে চলতি মৌসুমে বাঙ্গি তরমুজের পাশাপাশি বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে কুমড়া ও লাউ চাষীরা। সৈয়দপুরের লাউ চাষী জাহাঙ্গির আলম জানান, আমার প্রায় ৩শ একর জমিতে লাউ চাষ করেছি। গত কয়েকদিনের বর্ষণের কারণে এবং মাঝেমধ্যে শিলাবৃষ্টির কারণে লাউ এর চাষে ধস নেমেছে।

প্রথমত বাতাসের কারণে লাউ এর চাং ভেঙ্গে পড়েছে অপরদিকে শিলা বৃষ্টির কারণে প্রত্যেকটি লাউ এর উপর কালো কালো দাগ পড়ে গেছে। আর যে লাউগুলোতে দাগ পড়ে সেগুলো বিক্রি করলেও তেমন একটা ভাল টাকা পাওয়া যায়না, সব মিলিয়ে আমরা লোকসানে আছি।উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার সীতাকুন্ড উপজেলাতে বাঙ্গি চাষ হয়েছে ৯০ হেক্টর ও তরমুজ ৩০ হেক্টর।সীতাকুন্ড উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র নাথ জানান, বৃষ্টি এখনো সহনীয় পর্যায়ে আছে, তাই চাষের তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে এরপর যদি বৃষ্টিপাতের পরিমাণ যদি বেশি হয় তাহলে ক্ষতির মুখে পড়বে কৃষকরা। এখনো যতটুকু বৃষ্টি হয়েছে তাতে তেমন একটা ক্ষতি হবেনা বলে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, বৃষ্টির হওয়ার কারনে আউশ ধানের বীজতলা করতে পারবে কৃষকরা।

x