কিশোর অপরাধ বিষয়ে প্রতিবেদন ও সম্পাদকীয় প্রসঙ্গে

সোমবার , ১৪ মে, ২০১৮ at ৫:৫৩ পূর্বাহ্ণ
13

গত ৬ মে দৈনিক আজাদীর প্রথম পাতায় প্রকাশিত ক্রমেই অচেনা হয়ে উঠছে আমাদের সন্তানেরা শীর্ষক ঋত্বিক নয়নের তথ্যবহুল বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন এবং ৮ মে কিশোরদের মানস গঠনমূলক কাজে অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে শিরোনামে বস্তুনিষ্ঠ সম্পাদকীয় কলামের জন্য সম্পাদক মহোদয়কে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। আজ কিশোরদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ নানা অপরাধে লিপ্ত। কিশোরেরা এমন লোমহর্ষক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে যা এক কথায় অকল্পনীয়। সম্প্রতি কমনওয়েলথ কর্তৃক তৈরি গ্লোবাল ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্সে বলা হয়েছে বাংলাদেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল নয়। উঠতি বয়সি অনেক কিশোর কিশোরী হঠাৎ করে এবং কিভাবে অনাকাঙিক্ষত অপরাধ প্রবণতায় জড়িয়ে যায়। এ বিষয় নিয়ে মনোবিজ্ঞানী ও সমাজ বিজ্ঞানীদের অনেক ভালো বিশ্লেষণ রয়েছে। আমাদের মতে সাধারণ মানুষের ধারণা, বল্গাহীনভাবে ফেসবুক ব্যবহার, মোবাইল ফোনের আধিপত্য, ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের প্রভাব ও মা-বাবার কম নজরদারী কিশোরদের অপরাধ প্রবণতায় জড়িয়ে যাওয়ার মূল কারণ। কিশোর অপরাধের মূলে রয়েছে অনেক কারণ, জ্ঞানের সংস্পর্শে, বিদ্যালয়ের পরিবেশ, ভালো বন্ধুর সাহচর্য একটি শিশু বা কিশোরদের ভালোভাবে বেড়ে ওঠার সাহায্য করে। তবে কিশোর অপরাধ রোধে মা-বাবার ভূমিকাটাই বড়। ছেলেমেয়ে কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে টিভিতে মোবাইল ফোনে, কম্পিউটারে কি দেখছে, পড়াশোনা করছে কিনা, ক্লাস ফাঁকি দিচ্ছে কিনা এসব দেখার দায়িত্ব বড়দের। সবাই কি তা পালন করছেন? অনেক অভিভাবক সুরম্য অট্টালিকা বানাতে, নিজেদের ব্যবসায় চিন্তা করে দিন রাত ব্যস্ত থাকে। বিদেশে শিক্ষার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়া, নিজেরা কেউ কেউ অনিয়ন্ত্রিত চলাফেরা করে। কিশোরদের হাতে দামি দামি সাইকেল, মোটর সাইকেল দিয়ে চেঁচিয়ে বেড়ায় উচ্ছেন্নে গেল বলে? অঢেল অর্থও অনেক শিশু কিশোরকে বেপরোয়া করে তুলছে। এর প্রমাণ ভুরি ভুরি। শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠছে না ছোটদের। বয়ঃসন্ধিকালে মানুষের আচরণ পরিবর্তিত হবে এটা স্বাভাবিক। তাই কিশোরদের সচেতন করার জন্য মা-বাবার চেষ্টা অবিরত রাখতে হবে। আমাদের মতে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ দৃঢ় থাকলে, সাংস্কৃতিক চেতনায় আলোকিত হলে একজন ছেলে বা মেয়ে সহজে বিপথে যেতে পারে না। এসব উদ্যোগ নিতে পারলেই কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।
– এম. এ. গফুর, বলুয়ার দীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়, কোরবানীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x