কোয়ালিটিকে উড়িয়ে দিল ব্রাদার্স ইউনিয়ন

প্রিমিয়ার লিগের প্রথম সেঞ্চুরি করলেন সাদিকুর

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বুধবার , ১৭ জানুয়ারি, ২০১৮ at ৫:৪৩ পূর্বাহ্ণ
31

চট্টগ্রামের প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় দিনে এসেই রান উৎসব করেছে শিরোপা প্রত্যাশী ব্রাদার্স ইউনিয়ন। আর সে সুবাধে বিশাল জয় দিয়ে লিগ শুরু করেছে ব্রাদার্স। শুধূ তাই নয় দলটির উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান সাদিকুর রহমান লিগের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন। মূলত তারই সেঞ্চুরির সুবাধে বিশাল স্কোর গড়া ব্রাদার্স ইউনিয়ন জয়টাও পেয়েছে ১৪১ রানের বিশাল ব্যবধানে। তারা হারিয়েছে কোয়ালিটি স্পোর্টস ক্লাবকে। দলের ব্যাটসম্যানদের দুর্দান্ত ব্যাটিং এর সুবাদে ৩১৭ রানের বিশাল পাহাড় গড়ে ব্রাদার্স। আর ব্যাটসম্যানদের গড়ে দেওয়া ভিত্তির উপর দারুণভাবে কাজটা সেরেছেন দলের বোলাররা। সম্প্রতি শেষ হওয়া জাতীয় ক্রিকেট লিগে চট্টগ্রাম বিভাগের পক্ষে খেলা সাদিকুর রহমান দারুন ব্যাটিং করেছেন। এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে টসে হেরে ব্যাট করতে নামা ব্রাদার্স ইউনিয়ন শুরুটা ভাল করতে পারেনি। ২১ রানের মাথায় দলের অধিনায়ক নাফিস ইকবালকে হারায় ব্রাদার্স। ১৬ রান করে আরাফাতের বলে শুভর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন নাফিস। তবে দ্বিতীয় উইকেটে দারুন প্রতিরোধ গড়ে তোলেন সাদিক এবং লিখন। এ দুজন একেবারে কড়া হাতে শাসন করেছে কোয়ালিটির বোলারদের। এ দুজন দ্বিতীয় উইকেটে যোগ করেন ১৮৭ রান। যদিও এই জুটি গড়ার পথে কোয়ালিটির ফিল্ডারদের অবদান কম ছিল না। একাধিক ক্যাচ এবং রান আউটের সুযোগ হাতছাড়া করেছে কোয়ালিটির ফিল্ডাররা। আর সে সুযোগকে দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছেন ব্রাদার্সের দুই ব্যাটসম্যান সাদিক এবং লিখন। দলকে ২০৩ রানে পৌঁছে দিয়ে ফিরেছেন সাদিক। স্বজনের বলে শুভর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে আসার আগে সাদিক করেন ১১৩ বলে ১৫টি চার এবং একটি ছক্কার সাহায্যে ১১১ রান। যা এবারের লিগের প্রথম সেঞ্চুরি। ৫৮ বলে হাফ সেঞ্চুরি পুরণ করা সাদিক সেঞ্চুরি পুরণ করেছেন ৯৯ বলে। তবে শতক পূরণ করার পর খুব বেশি এগুতে পারেননি। ফিরেছেন ১১১ রান করে। যা এবারের প্রিমিয়ার লিগে প্রথম সেঞ্চুরি। আর তাকে যোগ্য সহযোগিতা দিয়েছেন আবু নেওয়াজ লিখন। তিনি করেছেন ৬৯ রান। তার ৯৪ বলের ইনিংসটিতে ৮টি চারের মার ছিল। ২১২ রানের মাথায় লিখন ফিরে এলে ব্যাট হাতে নামেন ব্রাদার্সের দুই কোটার ক্রিকেটার রাতুল এবং জাকির আলি। এ দুজন ব্যাট হাতে রীতিমত ঝড় তোলেন। ২৩ বলে তিনটি চার এবং ২টি ছক্কার সাহায্যে ৩২ রান করে জাকির আলি ফিরে এলে রাতুলের সাথে যোগ দেন নাহিদুল। এরপর ঝড় যেন আরো বাড়তে থাকে। মাত্র ১২ বলে ৩টি ছক্কার সাহায্যে ২২ রান করে অপরাজিত থাকেন নাহিদুল। আর ৪৬ বলে ৪টি চারের সাহায্যে ৪৭ রান করে অপরাজিত থাকেন রাতুল। ফলে ব্রাদার্স ইউনিয়নের স্কোর গিয়ে দাঁড়ায় ৩১৭ রানে। কোয়ালিটি এস সির পক্ষে ২টি উইকেট নিয়েছেন রায়হান আরাফাত। এছাড়া একটি করে উইকেট নিয়েছেন সৈকত আলি, স্বজন এবং জাভেদ। ৩১৮ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় কোয়ালিটি। ১৬ রান যোগ হতেই ফিরেন সৈকত আলি। ৩৪ রানে পৌঁছতে আরেক ওপেনার নাজিম উদ্দিন বিদায় নেয়। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে কোয়ালিটি এস সি। এক পর্যায়ে ৮৮ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ফেলা কোয়ালিটি শতরান পার হতে পারবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। সে অবস্থায় দলকে টেনে নিয়ে যান শুভ। যদিও তার লড়াইটা দলের পরাজয়ের ব্যবধান কামিয়েছে মাত্র। শেষ পর্যন্ত ৪৪.৫ ওভারে ১৭৬ রান করে অল আউট হয় কোয়ালিটি এস সি। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৫ রান করেন শুভ। তার ৭৭ বলের ইনিংসটিতে ৯টি চার এবং একটি ছক্কার মার ছিল। এছাড়া ৩৫ বলে ৩০ রান করেন স্বজন। সাব্বির ১৮ এবং জাভেদ ১৭ ছাড়া বাকি কেউ দুই অংকের ঘরে যেতে পারেনি। ব্রাদার্স ইউনিয়নের পক্ষে ৩১ রানে ৩টি উইকেট নেন তন্ময় পাটোয়ারী। ২টি করে উইকেট নিয়েছেন ইফতেখার সাজ্জাদ রনি এবং নাহিদুল ইসলাম।

x