খুনিদের শাস্তি দাবিতে থানা ঘেরাও মানববন্ধন

যুবলীগ নেতা মহিউদ্দিন হত্যাকাণ্ড

আজাদী প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার , ১৭ মে, ২০১৮ at ৫:৪৬ পূর্বাহ্ণ
20

ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা মহিউদ্দিন মহির খুনিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও থানা ঘেরাও করেছে এলাকাবাসী। গতকাল বুধবার বিকেলে বন্দর থানার সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। স্বাধীনতা দিবসের দিন হালিশহরে প্রকাশ্য দিবালোকে মেহের আফজল স্কুলে ঢুকে খুন করা হয় যুবলীগ নেতা মহিউদ্দিন মহিকে।

বিচার দাবিতে গতকাল কর্মসূচিতে এসেছিলেন যুবলীগ নেতা মহিউদ্দিন মহিদের মা নূরছেহের বেগম, শাশুড়ি মমতাজ বেগম, চাচা হাজী মোহাম্মদ আলী মাস্টার, ভাই মোহাম্মদ ইউছুফ, স্ত্রী সানজিদা আক্তার পিংকি ও দুই বোন হীরা আক্তার এবং রূপা আক্তার, ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড আ.লীগ সভাপতি হাসান মুরাদ, বন্দর থানা আ.লীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. ইলিয়াস, মো. রানা, মো. আকাশ, মো. শাহনেওয়াজ, মো. সুমন, মো. সাদ্দাম, শ্রমিকনেতা মো. হাসান প্রমুখ।

তার স্ত্রী সানজিদা পিংকি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমার স্বামীর খুনিদের গ্রেফতার করুন। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিন। যেন আর কোনো স্ত্রী স্বামীহারা না হয়। আর কোনো সন্তান যেন এতিম না হয়।’

মহিউদ্দিরেনর চাচা মইনু বলেন, মহিউদ্দিন হত্যার পর থেকে অভিযুক্তরা নানাভাবে আমাদের হুমকি দিয়ে আসছে। এ ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করলে পরিবারের সবাইকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দিচ্ছে তারা। এ অবস্থায় আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তিনি বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধানশিক্ষকের কক্ষে যুবক মহিউদ্দিন মহিরকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে হাজি ইকবাল গং। যে প্রতিষ্ঠানে মানুষ গড়া হয় সেই প্রতিষ্ঠানেই রক্ত ঝরিয়েছে হাজি ইকবাল ও তার বাহিনী।

.লীগ নেতা হাসান মুরাদ বলেন, গত ২৬ মার্চ প্রকাশ্য দিবালোকে খুনি ইকবাল, মুরাদ, বিপ্লব, ইরশাদ, আজাদ ও তাদের দোসররা মহিকে খুন করেছে। পুলিশ এখনো মামলার প্রধান তিন আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি। আমরা প্রধান তিন আসামির গ্রেফতার দাবিতে মানববন্ধন করেছি, থানায় গেছি। পুলিশ আমাদের আশ্বস্ত করেছে।

বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঈনুল ইসলাম বলেন, থানা ঘেরাও নয়, উনারা এসেছিলেন মহির খুনের মামলার অগ্রগতি জানতে। আমরা তাদের বলেছি, সাতজন আসামিসহ মোট নয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনজন আসামি আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ১০ জন সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। সুষ্ঠু তদন্ত এবং আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রসঙ্গত: এবারই প্রথম নয়। মহির হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে স্বত:স্ফূর্তভাবে আন্দোলন করে আসছে এলাকাবাসী প্রথম দিন থেকেই। গত মঙ্গলবার পরিবারের পক্ষ থেকে করা সংবাদ সম্মেলনেও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিল। গ্রেফতার আটজনের মধ্যে তিন আসামি আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে জানিয়েছেন, .লীগ নেতা হাজী ইকবালের বিরোধীতা করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার জেরে যুবলীগ কর্মী মহিউদ্দিন খুন হন।

x