গগণ বিদারী স্লোগান ও ভাঙচুরের রাজনীতি প্রসংগে

সোমবার , ১২ মার্চ, ২০১৮ at ১১:২২ পূর্বাহ্ণ
9

লালদিঘী মাঠে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্মরণ সভায় মহানগর ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মারামারির একদিন পর বিস্ফোরণ ও সংঘর্ষে পণ্ড হলো উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন। মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্মরণ সভায় ছাত্র লীগের দুই গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষ, তুমুল হট্টগোল, পাল্টাপাল্টি স্লোগান সহ নানা বিশৃংখলায় শোক সভার কার্যক্রম বেশ কয়েকবার বন্ধ হয়ে যায়। আওয়ামী লীগ নেতারা দফায় দফায় স্লোগান বন্ধ করার নির্দেশ দিয়ে ব্যর্থ হন। কয়েকমাস আগে মুসলিম ইনস্টিটিউট হলে প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা আতাউর রহমান খাঁন কায়সারের স্মরণ সভায় সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের তাদের অনুগতদের সামলানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় নেতারা মন্ত্রী মহোদয়ের কথা কর্ণপাত করেনি। ফলে যা হবার তাই হচ্ছে। আওয়ামী লীগ/ছাত্রলীগ নেতাদের দ্বন্দ্বের বহি:প্রকাশ হিসেবেই সংঘর্ষ বাঁধছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। বেপরোয়া ছাত্রলীগ প্রতিপক্ষ দমন, হল দখল, কমিশন বাণিজ্য, ভর্তি বাণিজ্য, টেন্ডার বাণিজ্য ইত্যাদি অন্যায্য কর্মে লিপ্ত হয়ে পড়ছে। বেসামাল ছাত্রলীগকে সামলানোর জন্য দলীয়ভাবে সরকারিভাবে নানা উদ্যোগপদক্ষেপ নেয়া হয়। কিন্তু তা তেমন কোনো কাজে আসেনি। দিন দিন যেন ছাত্রলীগের দৌরাত্ম্য বেড়ে চলেছে। ছাত্রলীগের একাংশের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এতটাই বেড়ে যায় যে, দেশের অন্তত: এক ডজন উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চরম অস্থিতিশীলতা নেমে আসে। শিক্ষার কাম্য পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খুন সন্ত্রাসসহ এমন কোনো কর্ম নেই যার অভিযোগ ছাত্রলীগের একাংশের বিরুদ্ধে নেই। প্রতিপক্ষ ছাত্র সংগঠনের কর্মীদের ওপর হামলা ছাড়াও নিজেদের মধ্যে কলহ বিবাদে লিপ্ত রয়েছে এরা। হিসাব করলে দেখা যাবে আত্মকলহকে কেন্দ্র করে এই সংগঠনের নেতা কর্মীরা সবচেয়ে বেশি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটিয়েছে। প্রধানত : আধিপত্য প্রতিষ্ঠা এবং অবৈধ উপার্জন ও অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থের ভাগবাটোয়ারাকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রাণ হানির মত ঘটনাও ঘটেছে। ছাত্রলীগ মানেই ধরা ছোঁয়ার বাইরে। এমনএকটি ধারণা যেন ছাত্রলীগের একশ্রেণির নেতাকর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে। সম্ভবত: একারণেই তারা শিক্ষাঙ্গণে দখল ও আধিপত্যবাদী তৎপরতাসহ সংঘাত সংঘর্ষ এবং সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, নানামুখী বাণিজ্য, বিরোধীদল ও সংগঠনের কর্মীদের ঠেকানো, ভাড়াটে হিসেবে কাজ করা ইত্যাদির মত অপকর্ম ও অপরাধমূলক কাজে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। প্রশ্ন হলোনামধারী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর সংখ্যা কি এত বেশি যে, তাদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না? তাদের চিহ্নিত করে সংগঠন থেকে বের করে দিলেই ছাত্রলীগের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে বলে মনে করি। সে প্রেক্ষিতে তিনটি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা যেতে পারে। প্রথমত: যারা ছাত্রলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে অপকর্ম ও অপরাধ করছে তাদের শনাক্ত করে সংগঠন থেকে বের করে দিতে হবে এবং আইনের হাতে সোপর্দ করে দিতে হবে। দ্বিতীয়ত: সংগঠনের অভ্যন্তরে ব্যাপকভিত্তিক মোটিভেশন কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে ছাত্র হিসেবে যে দায়িত্ব কর্তব্য সে সম্পর্কে তাদের সচেতন করে তুলতে হবে। তাদের উন্নত নৈতিক চরিত্র গঠন ও মূল্যবোধ অনুসরণে উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করে তুলতে হবে। তৃতীয়ত: তাদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার রহিত করতে হবে। এদেশে ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস অনেক বেশি বর্ণাঢ্য, অনেক বেশি জাতিকে গ্লানিমুক্ত করেছে। সেখানে ছাত্রলীগের ইতিহাস অনেক বেশী স্মরণীয়।

এম.. গফুর, বলুয়ার দীঘির দক্ষিণপশ্চিম পাড়, কোরবাণীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x