গৃহস্থ বাড়ির প্রয়োজনীয় সম্পদ ডোল

কেশব কুমার বড়ুয়া, হাটহাজারী

সোমবার , ২৯ জানুয়ারি, ২০১৮ at ৫:৫৬ পূর্বাহ্ণ
23

গ্রামের গৃহস্থ বাড়িতে এক সময় ডোল /গোলা ভরা ধান ছিল, পুকুর ভরা মাছ ছিল, গোয়াল ভরা গরু ছিল। তাইতো প্রবাদ ছিল মাছে ভাতে বাঙ্গালী। তখন যে পরিমাণ দেশে জনসংখ্যা ছিল, তার চেয়ে বেশী আবাদী জমি পুকুর দিঘী,খাল বিল জলাশয় ও নদীনালা ছিল। দেশের মানুষ কৃষি কাজের উপর নির্ভর ছিল বেশীরভাগ। অন্যকোন পেশা তেমন না থাকায় কৃষিকে সবচেয়ে উন্নত পেশা হিসাবে মনে করা হত। দেশের মানুষ প্রতিবছর চাষাবাদ করে উৎপাদিত ফসল সারা বছরের জন্য সংরক্ষণ করে রাখত। আর এ ফসল সংরক্ষণের জন্য বিশেষ করে ধান রাখার জন্য ডোল বা গোলা ছিল অতি প্রয়োজনীয় জিনিস। তখন গোলা বা ডোল তৈরি করে অনেকেই পরিবার পরিজন ও সংসার পরিচালনা করত। ফসল উঠার মৌসুমে গোলা বা ডোলের চাহিদা ছিল প্রচুর। তাই কারিগরেরা মৌসুমের শুরু থেকে গোলা বা ডোল তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ত। গোলা বা ডোল তৈরির প্রধান উপকরণ বাঁশ ও বেত। বাংলা বছরের আশ্বিন ও কার্তিক মাসে কাটা বাঁশে পোকা আসে না। বয়োজ্যেষ্ঠদের শ্রুতি অনুসারে এ দুই মাসে কাটা বাঁশ দিয়ে গোলা বা ডোল তৈরি করলে সে গুলোর চাহিদা বেশী ছিল। তবে এ দুই মাসে কৃষি পরিবারে সাধারণত টাকা পয়সার টানাটানি থাকত। তাই অনেকেই এসময় পরিবারের প্রয়োজনীয় এ উপকরণ ডোল বা গোলা কিনতে পারত না। কার্তিক মাসের শেষ দিক থেকে ধান কাটা শুরু হলে গৃহস্থ পরিবারগুলো ধান বিক্রি করে গোলা বা ডোলা ক্রয় করত। বাঁশ কেটে তজ্জা করে ধান সংরক্ষণের জন্য যে জিনিসটি তৈরি করা হয় সেটা হলো গোলা। আর বাঁশের বুক দিয়ে যেটা তৈরি করা হয় সেটা হলো ডোল। বাঁশের গোলা বা ডোলে ধান সংরক্ষণ করলে ইঁদুর ধান নষ্ট করে ফেলে।

বিষয়টা কৃষক পরিবার বুঝলেও উপায় না পেয়ে বাঁশের তৈনি এ জিনিসে ধান সংরক্ষণ করত। ক্রমে কৃষক পরিবার গুলো একটু স্বচ্ছল হলে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে ইঁদুরের হাত থেকে ধান রক্ষার জন্য টিনের গোলা তৈরি করে। ফলে অতিথের চেয়ে বর্তমানে বাঁশের ডোল ও গোলার চাহিদা কমতে শুরু করে। আর চাহিদা কমার কারণে বাঁশের তৈরি এ জিনিস তৈরিতে কারিগরেরা আগ্রহ হারাতে বসেছে। বংশানুক্রমে যারা এ কাজ করত তারা এখন চাহিদা না থাকায় এ পেশা ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশায় চলে গেছে। ফলে হাটবাজারে আগের মত তেমন গৃহস্থ বাড়ির ধান সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় এ জিনিসটি বেচা বিক্রির দেখা দেয়না। হয়তো একদিন এ প্রয়োজনীয় জিনিসটি কালের গর্ভে হারিয়ে যাবে। নতুন প্রজন্মের কেউ হয়তো এ জিনিসটি প্রত্যক্ষ ভাবে দেখাতে পাবেনা।

x