গেইলের সাথে নিজের মিল খুঁজে পান মাশরাফি

মঙ্গলবার , ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৭ at ৫:১০ পূর্বাহ্ণ
33

ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টুর্নামেন্ট মানেই দেশিবিদেশি ক্রিকেটারদের মিলনমেলা। সেখানে বিশ্বের অন্যতম সেরা তারকা ক্রিকেটাররাও থাকবে, এমনটা স্বাভাবিক। অভিজ্ঞতাও থাকে অনেক। সবমিলিয়ে অধিনায়ক হিসেবে যেই থাকুন না কেন, চাপটা একদিক থেকে কমেও যায় আবার আরেক জায়গায় বেড়ে যায়। ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও ক্রিস গেইল। দুজনই ক্রিকেটের জীবন্ত কিংবদন্তি। অন্যদিকে, মাশরাফি বিন মুর্তজাও বাংলাদেশের কিংবদন্তি। মাত্র শেষ হওয়া বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) সেই মাশরাফির রংপুর রাইডার্স দলেই খেলেছেন গেইলম্যাককালাম। সেখানে বিশ্বের এই দুই তারকার অধিনায়ক হয়ে অনেক কিছুই ভেবেচিন্তে করতে হয়েছে মাশরাফিকে। দিতে হয়েছে পূর্ণ স্বাধীনতা ও সমর্থন। ফলাফলটাও পেয়েছেন হাতেনাতে। মাশরাফির ভাষায়, ‘‘আমি ওর সাথে সবসময় কথা বলতাম। অনেক মজা করতাম। সে’ও করত। গেইল খেলাটাকে ভাবে মানুষকে বিনোদন দেওয়ার একটা মাধ্যম। নিজেকে ভাবে একজন এনটারটেইনার। গেইলের সঙ্গে এই একটা জায়গায় আমার মিল আছে। এ নিয়ে কথা হতো। সে আমার চিন্তাভাবনার প্রশংসা করত। অনেক সময় ব্যাটিংয়ে নামার আগেও কথা বলেছি। আমি তাকে বলতাম, ‘প্রাণ খুলে খেলো। দলের কী অবস্থা, তুমি আউট হয়ে গেলে কী হবে, এসব ভাবার দরকার নেই।’ ওদের মতো খেলোয়াডদের এর চেয়ে বেশি বলারও দরকার নেই। গেইলম্যাককালামরা জানে, তাদের কী করতে হবে।’’

এ প্রসঙ্গে এক সাক্ষাতকারে মাশরাফি বলেন, ‘তাদের সঙ্গে আমি যখনই কথা বলেছি, আত্মবিশ্বাস নিয়ে কথা বলেছি। এখানকার উইকেট, আবহাওয়া, এখানকার চাওয়াপাওয়া সম্পর্কে তারা আমাদের চেয়ে ভালো জানে না। কাজেই আমাদেরই আত্মবিশ্বাস নিয়ে কথা বলতে হবে এবং আমি সেভাবেই বলতাম। অন্য দলে খেললে ম্যাককালামকে হয়তো একপর্যায়ে বসিয়েই রাখত। টানা ৮৯ ম্যাচে তো সে কোনো রানই করেনি। কি‘ আমি এবং আমাদের কোচআমরা তাকে নিশ্চিত করেছি যে সে সব ম্যাচই খেলবে। জিনিসটা তার মধ্যে কাজ করেছিল।’ গেইলের ক্ষেত্রেও অনেকটা একইরকম। শুরু থেকে ব্যাট হাতে মোটামুটি রকমের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছিলেন ক্যারিবিয়ান ব্যাটিং দৈত্য। মাঝে খানিকটা তাল হারান। কিন্তু এসব নিয়ে তাকে ভাবতে দেননি মাশরাফি। যতটা পেরেছেন চাপমুক্ত থাকতে দিয়েছেন।

ঢাকা ডায়নামাইটসকে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেওয়া রংপুরের ব্যাপারে এখনও আগ্রহ কমেনি সমর্থকদের। গেইল পরীক্ষিত বোলার হয়েও কেন শেষ ওভারে বোলিং পেলেন এ নিয়ে কম প্রশ্ন ওঠেনি। শেষপর্যন্ত এক সাক্ষাতকারে রহস্যের জাল ছিঁড়েছেন সফলতম অধিনায়ক মাশরাফি। তিনি জানিয়েছেন, গেইল শেষ উইকেটের আগে থেকে বারবার বোলিং করার জন্য বলছিল। কিন্তু জয় নিশ্চিত না করে তিনি বোলিংয়ে পাঠাননি ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটারকে। এক সাক্ষাতকারে মাশরাফি বলেন, ‘ও আমাকে বারবার বলছিল, ‘‘শেষ উইকেট আছে। মাত্র এক বল আছে। তুমি কেন আমাকে বল করতে না? কেন বিশ্বাস করছ না আমাকে!’’ আমি বলেছিলাম ১৯তম ওভারেও তাকে বোলিং দেব না। যখন নিশ্চিত হব শেষ ওভারে ৩৬ এর বেশি রান লাগবে তখনই হাতে বল দেব। তারপর তো শেষ ওভারে বোলিং দিলাম।’

x