গ্রামের নাম সারোয়াতলী প্রসঙ্গে

বুধবার , ১৬ মে, ২০১৮ at ৫:২৮ পূর্বাহ্ণ
88

জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব, অসংখ্য বিপ্লবী ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিধন্য এই বিপ্লবতীর্থ সারোয়াতলী গ্রাম। আর এই গ্রামের নামকে পরিবর্তন করে সম্ভবত ১৯৯১/৯২ সালের দিকে মরহুম চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ চৌধুরীর সময়ে অজ্ঞাত কারণে গ্রামের নামের সাথে মৌজার নামে কঞ্জুরী শব্দটি সংযোজন করে গ্রামের নামকরণ করা হয়; যা আমাদের জন্য মোটেই কাম্য নয়। আমিও ছোটবেলায় পড়েছি আমাদের গ্রামের নাম সারোয়াতলী। অনেক শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিকে অত্যন্ত কষ্টের সাথে আক্ষেপ করতে দেখেছি, যা পরবর্তীতে অনুভব করে আমিও কষ্ট পাই এবং গবেষণা করে পরীক্ষানিরীক্ষা করে দেখি, গ্রামটি সারোয়াতলী নামেই ছিল। ইতিহাসের কালের সাক্ষী হিসেবে এখনো পরিচয় বহন করে নিম্নের প্রতিষ্ঠানগুলো : পূর্ণচন্দ্র সেন সারোয়াতলী উচ্চ বিদ্যালয়, স্থাপিত১৮৮০ইং। সারোয়াতলী ডাকঘর, স্থাপিত১৯০২ইং। দক্ষিণ সারোয়াতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্থাপিত১৯৫৭ইং। তাই চিন্তা করলাম, পুনরায় কীভাবে আমাদের গ্রামের নাম সারোয়াতলী প্রতিষ্ঠিত করা যায়। এই গ্রামের নাম যদি পরিবর্তন করা না যায় তাহলে আমাদের অতীত ইতিহাস ঐতিহ্য সব একদিন নির্বাসিত হয়ে যাবে। হারিয়ে যাবে একটি সমাজ, একটি ইতিহাস। এর থেকে পরিত্রাণের উপায় হিসেবে একটা কৌশল গ্রহণ করি। প্রথমে, ২০১২ সালে ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডের জনসাধারণের গণস্বাক্ষর গ্রহণ করে ০৮. ১১. ২০১২ সালে তৎকালীন চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ সাহেবের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করি; যা পরবর্তীতে চেয়ারম্যান সাহেব মৌখিকভাবে প্রতিশ্রুতি প্রদান করে। কিন্তু কোন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় ২০১৭ সালে ‘বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদার স্মৃতি পরিষদ’ এর সদস্যদের নিয়ে পুনরায় অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন শুরু করি। সারোয়াতলী গ্রামের জনসাধারণসহ দেশের সকল প্রগতিশীল মানুষ ‘বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদার স্মৃতি পরিষদ’ এর আন্দোলনে একাত্মতা ঘোষণা করেন। সকলের মনে একই প্রশ্ন বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদার এর জন্মস্থান চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী উপজেলার ৫নং সারোয়াতলী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে। অর্থাৎ সে গ্রামের নাম পরিবর্তন করে ‘‘কঞ্জুরী” নামকরণ করা হয়। তখন আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি যে, তারকেশ্বর দস্তিদার এর জন্মস্থানকে পুনরায় সারোয়াতলী গ্রামে রূপদান করতে না পারলে তারকেশ্বর দস্তিদারও একদিন বিস্তৃতির অথই তলে হারিয়ে যাবে এ দেশের ইতিহাস থেকে। তেমনি হারিয়ে যাবে নেতাজী সুভাষ বসুর শিক্ষক বেনী মাধব দাশ, বিপ্লবী বীর রামকৃষ্ণ বিশ্বাস, বিপ্লবী নেপাল দস্তিদার, বিপ্লবী কালীপদ চক্রবর্ত্তী, বিপ্লবী সতীশ দস্তিদার, ব্যারিস্টার পূর্ণচন্দ্র সেন, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামী বিধান কৃষ্ণ সেন, মোঃ সেকান্দর হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা মোঃ হোসেন, শিক্ষক আবদুল হক, সাবেক মেম্বার মনির আহমদ (চাঁদু), সাবেক মেম্বার মোঃ হারুন, মোঃ খলিলুর রহমান, মোঃ ইসহাক মাস্টার, ডাঃ ধর্মদর্শী মুৎসুদ্দী, শিক্ষক মণিন্দ্র লাল বড়ুয়া, মুক্তিযোদ্ধা বিন্দু ভূষণ বড়ুয়াসহ এই রকম অসংখ্য ইতিহাস সমৃদ্ধ ব্যক্তি ইতিহাসের পাতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। ইঞ্জিনিয়ার সিঞ্চন ভৌমিক, সারোয়াতলী, চট্টগ্রাম।

x