এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য টিপস

সোহানা শরমিন তালুকদার

শনিবার , ২৪ মার্চ, ২০১৮ at ৭:২২ পূর্বাহ্ণ
323

পরীক্ষা নিয়ে সবার মাঝে কমবেশি আতঙ্ক আছে। অনেক শিক্ষার্র্থী মনে করে পরীক্ষাহীন জীবন কতোই না মজার। কিন্তু পরীক্ষা হলো নিজের পারফরম্যান্স প্রমাণ করার সঠিক মাপকাঠি। নিজের সেরাটা দিলে মেলে কাক্ষিত সাফল্য। সামনে এইচএসসি পরীক্ষা। কিছু কৌশল অবলম্বন করলে সাফল্য ধরা দেবে।

পরীক্ষার আগের রাতে যা করা দরকার
পরীক্ষার আগের রাতে যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব ঘুমাতে হবে। আগের রাত বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমানোর আগে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র যেমন-রাবার, কলম, পেন্সিল, স্কেল, প্রবেশপত্র, রেজিস্ট্রেশন কার্ড ইত্যাদি গুছিয়ে রাখতে হবে। পরীক্ষার দিন খুব ভোরে উঠে পড়াশোনা ঝালিয়ে নেয়া বাঞ্চণীয়। হাতে সময় নিয়ে কেন্দ্রের উদ্দেশে রওয়ানা দেয়া উচিত। যানজটসহ পথিমধ্যের ঝক্কি-ঝামেলার কথা মাথায় রাখতে হবে। ত্রিশ মিনিট আগে পরীক্ষাকরে নিজের আসন খুঁজে নিয়ে ধীর-স্থিরভাবে বসতে হবে।

সিলেবাস অনুযায়ী সব শিখতে হবে
প্রথম দিনের পরীক্ষা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রথম নিয়ে অনেকে টেনশনে থাকে। সিলেবাস অনুযায়ী সব শেখা থাকলে টেনশন বলে কিছু থাকবে না। একথা মনে রাখতে হবে পরীক্ষার হলে প্রশ্ন পাওয়ার পর মনোযোগসহকারেঞ্জ প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। নৈর্ব্যক্তিক অংশে খুব দ্রশুত উত্তর দেয়ার চেষ্টা করা বোকামি। বুঝে উত্তর লিখতে হবে।

কেন্দ্রে প্রবেশের পর
খুব বেশি টেনশন হয় পরীক্ষার হলে প্রবেশের আগে। প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার অপেক্ষায় বসে থাকার সময়টুকু কিংবা উত্তর লেখা শুরশু করার আগে ধীরে লম্বা, গভীর করে কয়েকবার শ্বাস নেয়া যেতে পারে। প্রশ্ন পাওয়ার সাথে সাথে পুরো প্রশ্নটি একবার পড়ে নিতে হবে। প্রশ্ন কঠিন হলে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। সহজগুলো আগে শেষ করে পরে কঠিনগুলো লেখাটা বুদ্ধিমানের কাজ। পরীক্ষার আগে নিজের খাতার ওপর মনোযোগ দিতে হবে। অন্য কোনো দিকে ভ্রুক্ষেপ করার প্রয়োজন নেই।

পরীক্ষার খাতার উপস্থাপন
পরীক্ষার খাতার উপস্থাপনটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম পাতায় রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বিষয় কোডের বৃত্ত অবশ্যই ভরাট করতে হবে। নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষার সেট কোডের বৃত্ত সঠিকভাবে ভরাট করতে হবে। তা না হলে পরীক্ষা মূল্যায়ন যথার্থ হবে না। হাতের লেখা সুন্দর হওয়া বাঞ্চণীয়। কোনো শব্দ, লাইন বা অনুচ্ছেদ কেটে দিতে হলে তা একটানে পরিস্কারভাবে কাটতে হবে।

সময়ের দিকে খেয়াল রাখা
সময় ধরে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। প্রশ্নের হিসাব আগে থেকে ঠিত করে রাখতে হবে। একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে অনেক বেশি সময় ব্যয় করলে অন্য প্রশ্নের দিতে তা প্রভাব পড়বে। এতে বেশ তি হবে। সময়ের ওপর খেয়াল রেখে উত্তর দিতে হবে।

প্রয়োজনীয় চিত্র দেয়া
প্রশ্নের প্রয়োজনে অবশ্যই ছক কিংবা চিত্র এঁকে দিতে হবে। এতে উত্তরের গুণগত মান বাড়বে। অবশ্য তাড়াতাড়ি আঁকার অভ্যাস থাকলে এ কাজ সহজে সম্ভব। পদার্থ, রসায়ন, জীব বিজ্ঞানের ছবি অবশ্যই এঁকে দিতে হবে। গণিতের চিত্র অঙ্কন করতে হবে। গণিতের বেলায় খাতার বাম পাশের পৃষ্ঠায় রাফ (খসড়া) কাজ, হিসাবপত্র করে পরে কেটে দিতে হবে। উদ্দীপক ভালোভাবে পড়তে হবে। প্রয়োজনে কয়েকবার পড়া উচিত।

রিভিশন দেয়া
রিভিশন দেয়ার জন্য সময় হাতে রাখতে হবে। সব বিষয়ে রিভিশন জরুরি, তবে বিজ্ঞানের সব বিষয়ের ক্ষেত্রে রিভিশন অবশ্য জরুরি। সামান্য একটি একটি অ র বা সংখ্যার জন্য সম্পূর্ণ নম্বর কাটা যেতে পারে।
মনে রাখতে হবে, পরীক্ষা হচ্ছে নিজেকে মূল্যায়নের মাধ্যম। বৃত্ত ভরাটে ভুল হলে অবশ্য কর্তব্যরত শিক্ষককে অবহিত করতে হবে। খাতা চেক করার সময় নজরে আসলেও পরীক্ষার্থীদের অবহিত করা শ্রেয়।

লেখক : প্রভাষক, বাংলা বিভাগ, মহিলা কলেজ, চট্টগ্রাম।

x