চোখ জুড়ানো এক বিশাল ফলের বাগান

মীর আসলাম, রাউজান

সোমবার , ১৬ এপ্রিল, ২০১৮ at ১২:১৪ অপরাহ্ণ
77

যেদিকে দৃষ্টি যায় সেদিকে সারি সারি ফল ফুলের গাছ। কোনোটিতে ঝুলছে পাকা আধাপাকা ফল,অবার কোনো কোনো গাছের ডালপালা ভরে গেছে বাহারী রঙের ফুলে । রঙ বেরঙ ছোট বড় প্রজাপতি মন যেদিকে চায় ছুটে বেড়াচ্ছে এ গাছ থেকে ওগাছে। এক গাছ থেকে অন্যগাছের ফুলে বসে সুবাস নিচ্ছে মনের সুখে।

এ মনোরোম পরিবেশ ও মনমুগ্ধকর দৃশ্য রাউজান রাঙ্গামাটি সড়ক পথে ঢালামুখ এলাকায়। রাউজান পৌরসভার নয় নম্বর ওয়ার্ডের পিংক সিটি পার হলেই সড়কের উত্তর পার্শ্বে দৃষ্টি দিলেই দেখা মিলবে প্রায় এক’শ একর জায়গা জুড়ে গড়ে তোলা এ বাগানটি। সড়ক থেকে প্রায় তিন’শ ফুট ভিতরে সৃষ্ট এ বাগানের ভিতর লাগানো দেশি বিদেশি সব ফল গাছে এখন ঝুলছে দেশি বিদেশি জাতের ছোট বড় ফল। বাগানে থাকা পাকা ফলের সুবাস ছড়াচ্ছে বাতাসে। বাগানটি পরিদর্শন করে দেখা যায়, উন্নত জাতের সারি সারি আম গাছে ঝুলছে আমের থোকা। গাছের সুবজ পাতার ভিতর উঁকি দিচ্ছে পাকা আধাপাকা কমলা আর মাল্টা। এখানে দেখা মিলে বিদেশি জাতের সুস্বাদু ডোরাকাটা মাল্টাও। বাগানের এক কোণে থাকা বিশাল বেল গাছের ডালে ডালে পাকা আধাপাকা বেল, পাশে থাকা কয়েকটি ছোট আকৃতির হাইব্রিড বেল গাছের ঢালে ঝুলেছে প্রতিটি চার থেকে পাঁচ কেজি ওজনের বেলও। ছোট ছোট জাম্বুরা গাছে শোভা পাচ্ছে হাইব্রিড ফল। প্রতিটি গাছে দেখা মিলবে বড় পাতিলসম জাম্বুরা। ফুল আসতে শুরু করেছে বাগানের হরেক রকম ফল গাছে। দেশি বিদেশি জাতের এসব ফলের মধ্যে আপেল, আঙ্গুর, পেয়ারা, সফেদা, ডালিম, চিনা ও জাপানী জাতের লিচু, চেরিফল, কামরাঙ্গা, টক ও মিষ্ট তেঁতুল, জলপাই, কামরাঙ্গা, ছালতা, পেয়ারাসহ অনেক জাতের ফল। বাগানের এক পাশে আছে চন্দনসহ বহু ধরণের ঔষধী গাছ। হাঁটা চলার পথের দুধারে দৃষ্টিনন্দন ফুটন্ত ফুল।

এ বাগানটির সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা নগরের রাজনীতির সাথে সক্রিয় ছাত্র নেতা মোহাম্মদ দস্তগীর বলেন, এ বাগানটির ভিতরে প্রবেশ করেই নিজের মধ্যে অন্যরকম অনুভুতি প্রকাশ পাচ্ছে। আমার বিশ্বাস এ পরিবেশে স্বর্গীয় অনুভুতি প্রকাশ পায়। জানা যায়, রাউজান ইউনিয়নের প্রয়াত চেয়ারম্যান ও এলাকার দানশীল ব্যক্তি আনোয়ারুল আজিম চৌধুরী প্রকাশ আনোয়ার পেশকার এর স্বপ্নে উপর প্রতিষ্ঠিত এ বাগানটি। জীদ্দশায় তিনি এখানে বাগান করার জন্য জায়গা নির্বাচন করে কয়েক একর টিলা ভুমি কিনে নিয়ে একটি পরিকল্পিত বাগান করার কাজ শুরু করেছিলেন। গত কয়েক বছর আগে চেয়ারম্যান মারা যাওয়ার পর প্রয়াত বাবার হাতে গড়া বাগানটিকে সমৃদ্ধ করার উদ্যোগ নেয় তার দুই ব্যবসায়ী পুত্র মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন চৌধুরী ও গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী সামি। তারা বাবার কেনা সম্পত্তির সাথে আশে পাশের আরো বেশকিছু জায়গা কিনে নেন। এরপর পরিকল্পিত ভাবে সাজিয়ে তুলছেন এ এলাকাটিকে। তারা বাবার হাতে সৃষ্ট ফল ফুলের বাগানটির আয়তন বৃদ্ধি করার পাশাপাশি সাথে থাকা একটি নির্দিষ্ট জায়গায় পর্যটকদের জন্য অকর্ষণীয় করার কাজ করছেন। বিশাল এলাকা জুড়ে প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছেন দর্শনীয় রিসোর্ট করার। কাজ চলছে একটি হেলিপ্যাড তৈরির। এ পরিকল্পনার উদ্যোক্তা প্রয়াত চেয়ারম্যানের বড় সন্তান মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন চৌধুরী এ প্রসঙ্গে আজাদীকে বলেন, বাবা চেয়ারম্যান থাকাকালীন ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে অকাতরে মানুষকে সেবা দিয়েছেন। তিনি সব সময় চেষ্টা করতেন এলাকার সুন্দর ও সাজানো গোছানো পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে। একাজে সমাজের সকলকে উদ্বুদ্ধ করতেন। আজ বাবা নেই, তার মনের লালিত স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে তারা দুই ভাই চেষ্টা করছেন। ছোট সন্তান গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী সামি বলেন বাবার স্বপ্ন ছিল এখানে সাজানো গোছানো সমৃদ্ধ একটি বাগান সৃষ্টি করার। তার সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে পেরে সন্তান হিসাবে আমরা দুই ভাই ধন্য মনে করছি। দুজনই এ কাজে সহযোগিতা করার জন্য এলাকার সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

x