জিতেও সুপার সিক্সে উঠতে পারেনি মোহামেডান

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বুধবার , ২১ মার্চ, ২০১৮ at ৫:৫১ পূর্বাহ্ণ
14

মোহাম্মদ আশরাফুলের সেঞ্চুরি ম্লান করে দিয়ে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেটে লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে জয় পেয়েছে মোহামেডান স্পোটিং ক্লাব। কলাবাগান ক্রীড়া চক্রকে ২ উইকেটে হারিয়েছে মোহামেডান। তবে এতে কোন লাভ হয়নি তাদের। লিগে পঞ্চম জয়ের স্বাদ নিয়ে সুপার সিক্সে উঠতে পারলো না মোহামেডান। পয়েন্ট টেবিলের পঞ্চমস্থানে থাকা শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ও ষষ্ঠস্থানে থাকা গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের চেয়ে ১ পয়েন্ট কম থাকায় সুপার সিক্সের টিকিট পায়নি মোহামেডান। লিগ পর্ব শেষে ১১টি খেলায় অংশ নিয়ে সমান ১২ করে পয়েন্ট রয়েছে পঞ্চম স্থানে থাকা শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ও ষষ্ঠ স্থানে থাকা গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের। মোহামেডানের রয়েছে ১১ পয়েন্ট। এদিকে, লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারে আশরাফুলের সর্বোচ্চ ১২৭ রান সত্ত্বেও হার দিয়ে লিগ পর্ব শেষ হলো পয়েন্ট টেবিলের সর্বশেষ অবস্থানে থাকা কলাবাগান। ১১ খেলায় তাদের সংগ্রহ ৪ পয়েন্ট।

গতকাল সাভারের বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামে কলাবাগান। ২০ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর তিন নম্বরে নামা আশরাফুলের দুর্দান্ত ব্যাটিং নৈপুন্যে রানের চাকা ঘুরতে থাকে কলাবাগানের। শেষ পর্যন্ত ১১২তম বলে এবারের লিগে তৃতীয় সেঞ্চুরির স্বাদ নেন আশরাফুল। দলের ইনিংসের ৪০তম ওভারের চতুর্থ বলে মোহামেডানের বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামকে ছক্কা মেরে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন আশরাফুল। তিন অংকে পা দিয়েও নিজের ইনিংস বড় করছিলেন আশরাফুল। এক পর্যায়ে লিষ্ট ‘এ’, এমনকি আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্যারিয়ারে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ইনিংস খেলে ফেলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১২৪ বলে ১২৭ রান করে থামেন আশরাফুল। তার ইনিংসে ১৩টি চার ও ৩টি ছক্কার মার ছিলো। এছাড়া কলাবাগানের পক্ষে ওপেনার ওয়ালিউল করিম ৪৬ ও অধিনায়ক মাহমুদুল হাসান ৩৩ রান করেন। তারপরও ১৩ বল বাকী থাকতে ২৬০ রানে গুটিয়ে যায় কলাবাগান। মোহামেডানের বাঁহাতি পেসার কাজী অনিক ৪৯ রানে ৬ উইকেট নেন। লিস্ট ক্যারিয়ারে এটিই তার সেরা বোলিং ফিগার।

জয়ের জন্য ২৬১ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে দলীয় ২৯ রানেই প্রথম উইকেট হারায় মোহামেডান। এরপর দুই ওপেনার এনামুল হক (দ্বিতীয়) ও রনি তালুকদারের জোড়া হাফসেঞ্চুরিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় তারা। তবে এনামুল ৫৭ ও রনি ৫১ রানে ফিরে যাবার পর মোহামেডানের মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যানরা দলের হাল ধরতে পারেননি। তবে শেষদিকে, তাইজুলের অপরাজিত ৩৪ ও অনিকের অপরাজিত ১৫ রানের সুবাদে ৪ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছায় মোহামেডান। ম্যাচ সেরা হয়েছেন মোহামেডানের অনিক।

এদিকে পয়েন্ট টেবিলের ১১তম দল অগ্রণী ব্যাংকের কাছে ৬ উইকেটে হেরে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেটের লিগ পর্ব শেষ করলো লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। এই হারে ১১ খেলা শেষে ১৪ পয়েন্টই থাকলো রূপগঞ্জের। ফলে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থাকা আবাহনী লিমিটেডের সমান হতে পারলো না রূপগঞ্জ। লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে জিতে ৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ১১তম স্থানেই থাকলো অগ্রণী ব্যাংক।

গতকাল মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং বেছে নেয় অগ্রণী ব্যাংক। ব্যাটিংএ নেমে ইনিংসের প্রথম বল থেকেই বিপদে পড়ে রূপগঞ্জ। ইনিংসের প্রথম বলে উইকেট হারানোর পর ৫৫ রানে পঞ্চম ব্যাটসম্যানকে হারায় তারা। এরপর ছয় নম্বরে নামা তুষার ইমরানের ১২১ বলে মহাগুরুত্বপূর্ণ ৯৮ রানের সুবাদে ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২০৪ রানের সম্মানজনক সংগ্রহ পায় রূপগঞ্জ। অগ্রণী ব্যাংকের আলআমিন হোসেন ৪টি এবং শফিউল ইসলাম ও আব্দুর রাজ্জাক ২টি করে উইকেট নেন।

জবাবে ওপেনার ও অধিনায়ক শাহরিয়ার নাফীসের ১০টি চারে সাজানো ১০৩ বলে ৮২, শামসুল ইসলামের ৪১ ও উইকেটরক্ষক ধীমান ঘোষের অপরাজিত ৪৯ রানের কল্যাণে ১৭ বল হাতে রেখেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে অগ্রণী ব্যাংক। বল হাতে ৪ ওভারে ২১ রান দেয়ার পর ব্যাট হাতে নাফীসের সাথে ইনিংস উদ্বোধন করে ৬৬ বলে ২৪ রান করেন শ্রীলংকার মাটিতে সদ্য শেষ হওয়া নিদাহাস টি২০ ট্রফির ফাইনালের শেষ বলে ছক্কা খেয়ে বাংলাদেশকে শিরোপা হাতছাড়া করানো সৌম্য সরকার। ম্যাচের সেরা হয়েছেন অগ্রণী ব্যাংকের নাফীস। ।

অন্য ম্যাচে বোলারদের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে জয় দিয়ে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেটের লিগের সুপার সিক্স নিশ্চিত করলো শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। লিগ পর্বের শেষ রাউন্ডের লো স্কোরিং ম্যাচে শেখ জামাল ৭৪ রানে বড় হারিয়েছে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে। এই জয়ে ১১ খেলা শেষে ১২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের পঞ্চম স্থানে উঠে এলো শেখ জামাল। এ ম্যাচে হেরে গেলে সুপার সিক্সে উঠা হলো না শেখ জামালের। কারন দিনের অন্য ম্যাচে কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের বিপক্ষে ২ উইকেটে জয় পায় মোহামেডান। সেক্ষেত্রে মোহামেডানের পয়েন্ট হয় ১১। তাই ১০ পয়েন্ট নিয়ে লিগ পর্বের শেষ ম্যাচ খেলতে নেমে জয় তুলে নিয়ে ১২ পয়েন্ট নিয়ে সুপার সিক্সে উঠলো শেখ জামাল।

ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় ব্রাদার্স। ব্যাটিংএ নেমে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বড় স্কোর করতে পারেননি শেখ জামালের ব্যাটসম্যানরা। ১৭ বল বাকী থাকতে শেষ পর্যন্ত ১৮৪ রানেই গুটিয়ে যায় শেখ জামাল। তারপরও ওপেনার সৈকত আলীর ৫৫, তানবীর হায়দারের ৩৩, ইলিয়াস সানির ৩১ ও ভারতের শচীন বেবির ১৯ রানের কল্যাণে মোটামুটি সম্মানজনক পুঁিজ পায় শেখ জামাল। ব্রাদার্সের পক্ষে বল হাতে খালেদ আহমেদ সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট নেন। শেখ জামালের সুপার সিক্স নিশ্চিতের জন্য ব্যাটসম্যানরা ব্যর্থ হলে বোলাররা ঠিকই জ্বলে উঠেন। ১৮৫ রানের লক্ষ্যে ইনিংসের প্রথম বল থেকেই শেখ জামালের বোলারদের তোপের মুখে পড়েন ব্রাদার্স ইউনিয়নের ব্যাটসম্যানরা। উইকেট হারানোর ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকায় শেষ পর্যন্ত ১১০ রানে গুটিয়ে যায় ব্রাদার্স। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৭ রান করে করেন মাইশুকুর রহমান ও ভারতের দেবব্রত দাস। শেখ জামালের সোহাগ গাজী ও সানি ৩টি করে উইকেট নেন। ব্যাট হাতে ২১ রান ও ৩ উইকেট শিকারের কারনে ম্যাচ সেরা হয়েছেন শেখ জামালের সানি।

x