ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ভোগান্তির শেষ হবে কবে

রবিবার , ১৩ মে, ২০১৮ at ৫:১০ পূর্বাহ্ণ
195

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তীব্র যানজটে মানুষের ভোগান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। মহাসড়কে যানজটের ভোগান্তি যেন যাত্রীদের পিছু ছাড়ছে না। চার ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে লাগছে ৪৬ ঘণ্টা! আগে কাঁচপুর, মেঘনা ও গোমতি সেতুর দু’পাড়ের যানজটে নষ্ট হতো প্রচুর সময়। এখন তার সাথে যোগ হয়েছে কুমিল্লা ও ফেনী অংশের দীর্ঘ যানজট। ভয়াবহ যানজট মানুষের জীবনযাত্রাকে স্থবির করে দিচ্ছে। প্রতিদিন যানজটে লাখো মানুষের হাজার হাজার কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। জ্বালানি অপচয় হচ্ছে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। ১২ই মে দৈনিক আজাদীতে প্রকাশিত হয়েছে ‘দুদিন ধরে অচল ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক : সীতাকুণ্ড থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত যানজট, অবর্ণনীয় দুর্ভোগ’ শীর্ষক বড় একটা প্রতিবেদন। এতে বলা হয়েছে, ‘দুই দিনে ৪৮ ঘণ্টা। এর মধ্যে ৪৬ ঘণ্টা ধরে ১৪০ কিলোমিটার জুড়ে যানজট। গত বুধবার রাত ১২টা থেকে গত শুক্রবার রাতে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ছিল লাগাতার যানজট। এই ঘটনা দেশের লাইফ লাইনখ্যাত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এক যুগের মধ্যে এটা যানজটের রেকর্ড। অনেকে বলছেন, ফোর লেন উদ্বোধন হওয়ার পর বিগত বছরের রেকর্ড ভেঙেছে এবার। কেন এই যানজট। এর শুরু কোথায়? সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফেনীর ফতেহপুর রেলগেট থেকে এই যানজটের সৃষ্টি। ফেনীর নির্মাণাধীন রেল ওভারপাস এলাকায় ভাঙা ও অপ্রশস্ত সড়কই এর জন্য দায়ী। যানজট একদিকে মীরসরাই উপজেলা পেরিয়ে সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া পর্যন্ত পৌঁছেছে। অপরদিকে গেছে কুমিল্লা পর্যন্ত। দুদিকে ১৪০ কিলোমিটার জুড়ে এই যানজট শুক্রবার রাতের মধ্যে নিরসন হবে বলে আজাদীর কাছে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ফেনীতে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের দায়িত্বরত সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার রেজাউল মজিদ। তিনি বলেন, এই বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, ফেনীর নির্মাণাধীন রেল ওভারপাস এলাকার ভাঙা, সংকীর্ণ সড়কের কারণে এই যানজট।’
আজাদীর প্রতিবেদক সরেজমিনে গিয়ে দেখেছেন যে, যানজটের কারণে দূর দূরান্তের যাত্রীদের দুর্ভোগের শেষ নেই। অনেকে বিকল্প উপায়ে রেলস্টেশন গিয়ে রেলে গন্তব্যে পৌঁছার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ পথে আশ্রয় খুঁজে নেন। ভুক্তভোগীরা বলছেন, কেউ কেউ শতাধিক কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছেছেন। অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়েছে মহিলা ও শিশুরা। খাবার ও শৌচাগার সংকটে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অনেকে। পশু বহনকারীরা পশু নামিয়ে পায়ে হেঁটে যাত্রা শুরু করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাফিক আইন না মানা, পরিকল্পনার অভাব, ফুটপাত দখল, পরিবহনের সংখ্যা স্পুটনিক গতিতে বৃদ্ধি পাওয়াও যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ। তবে সড়কে গাড়ি থামিয়ে ট্রাফিক পুলিশের চাঁদাবাজিসহ নানা অনিয়মকে দায়ী করছেন অনেকে। সড়কে যেখানে-সেখানে পার্কিং, ফুটপাত দখল করে দোকান বসানো ইত্যকার সমস্যা তো বহু পুরনো। এসব কারণে কিছুতেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। যানজট পরিস্থিতি দিনই দিনই জটিল হচ্ছে। যানজট সমস্যার সমাধানের জন্য বিভিন্ন জায়গায় ইতোমধ্যে ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হয়েছে। এত কিছুর পরও যানজট সমস্যার সমাধানের ক্ষেত্রে কার্যকর অগ্রগতি এখনো লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এভাবে পথে আটকে থেকে কত কর্ম ঘণ্টা খোয়াবে মানুষ?
আসলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা ও ফেনী অংশের দীর্ঘ যানজট অসহনীয় হয়ে উঠেছে। এতে করে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন বিভিন্ন পরিবহনে থাকা সাধারণ মানুষ। যাত্রীরা জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক স্থানেই আটকে থাকতে হচ্ছে তাদের। অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরাও। ফেনীর ফতেহপুরে উড়াল সেতুর উন্নয়ন কাজ ও খানা-খন্দের পাশাপাশি পুলিশের ট্রাফিক অব্যবস্থাপনায় প্রতিনিয়ত ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়কে বাড়ছে যানজট। আবার কেউ কেউ বলেন, ফেনীর ফতেহপুর রেল ওভারপাস নির্মাণের কারণে এই যানজটের সূত্রপাত। যানজট নিরসনে ইউটার্নগুলোতে পুলিশ অবস্থান নিয়ে যানজট নিরসনে কাজ করলেও তেমন অগ্রগতি হয় নি। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে চেষ্টা থাকা সত্ত্বেও তাদের ভূমিকাকে দায়ী করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ ও যাত্রীদের বেগতিক দুরবস্থা থেকে মুক্তি দিতে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।

x