তথ্য কণিকা

রবিবার , ১৩ মে, ২০১৮ at ৫:১১ পূর্বাহ্ণ
8

সুকান্ত ভট্টাচার্য: নতুন পথের দিশারী

বাংলা সাহিত্যে অসামান্য জনপ্রিয় ও শক্তিমান কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য। রবীন্দ্রোত্তর বাংলা কাব্যে তিনি এক বিস্ময়কর প্রতিভা। পরাধীনতার শৃঙ্খলে অবরুদ্ধ জীবন, এ থেকে বেরিয়ে আসার তীব্র বাসনা, নিরন্তর সংগ্রাম, শোষণ মুক্ত স্বাধীন সমাজের স্বপ্ন, ভবিষ্যতের সুন্দর পৃথিবী গড়ে তোলার সংগ্রাম তাঁর কবিতার প্রধান উপজীব্য। আজ কবির ৭১তম মৃত্যুবার্ষিকী।
সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্ম ১৯২৬ সালের ১৬ই আগস্ট দক্ষিণ কলকাতার কালীঘাটে, ৪২ মহিম হালদার স্ট্রিটে। সুকান্ত যখন জন্মগ্রহণ করেন তখন ইংরেজদের ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে চলছে নিরন্তর সংগ্রাম। ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরু, ১৯৪২ সালে গান্ধীজীর ভারত ছাড় আন্দোলন, ইংরেজ সৈন্য আর সুবিধাবাদী মজুতদার-মুনাফাখোরদের সৃষ্ট কালোবাজারীর ফলে বাংলার অসহায় অগণিত মানুষের দুর্দশা ণ্ড এসবই সুকান্ত দেখেছেন চোখের সামনে। নিজের নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতা ছিল না। সব মিলিয়ে কৈশোরের শুরু থেকেই আর্থিক ও মানসিক সংগ্রাম করতে হয়েছে তাঁকে। কিশোর বয়সে তিনি যুক্ত হয়েছিলেন সাম্যবাদী রাজনীতির সঙ্গে। সেই সাথে চলতে থাকে সাহিত্য চর্চা। সুকান্ত কলেজের সীমানা ছোঁন নি, নানা কারণে স্কুলের গন্ডিও পার হওয়া হয় নি তাঁর। তারপরও তিনি লিখতে থাকেন অভিনব ও চমৎকার সব কবিতা, গান, নাটক আর ছড়া। তাঁর রচনায় রয়েছে পরাধীন ভারতবর্ষের গ্লানিময় জীবনের যন্ত্রণা, বঞ্চিত মানুষের পীড়িত আত্মার মর্মভেদী ব্যাকুল হাহাকার আর মানুষের প্রতি তাঁর প্রবল মমত্ববোধ ও সহানুভূতি। সুকান্তের কবিতায় প্রতীকী ব্যনা আর বিষয়বস্তুর অভিনবত্ব বিস্ময়কর। তাঁর কবি প্রতিভার উজ্জ্বল সাক্ষ্য ‘ঘুম নেই’, ‘পূর্বাভাস’, ‘মিঠে কড়া’ প্রভৃতি কাব্যগ্রন্থ। ১৯৪৫ সালে চট্টগ্রামে প্রাদেশিক ছাত্র সম্মেলনে যোগ দিতে এসেছিলেন সুকান্ত ভট্টাচার্য। আর এখানেই তিনি রচনা করেন তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘ঠিকানা’। বাংলাদেশের যুদ্ধ পরবর্তী ছাত্র আন্দোলনের সাথে সুকান্ত ও তাঁর কবিতা মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল। সুকান্তের মৃত্যু হয় ১৯৪৭ সালের ১৩ই মে মাত্র একুশ বছর বয়সে। সময়ের হিসেবে তাঁর জীবনের পরিধি ছিল খুবই স্বল্প। অথচ তাঁর রচনার ছন্দ এত প্রাল, ভাষা এত বলিষ্ঠ, বিষয়বস্তু এত গভীর যে বয়স অনুপাতে তা বিস্ময়কর। এত অল্প বয়সে বাংলা কাব্য জগতে তিনি যে নতুন দিক উন্মোচন করেছেন তা আজকের জগতে এক নতুন পথের দিশারী।

x