তথ্য কণিকা

বুধবার , ১৬ মে, ২০১৮ at ৫:২৬ পূর্বাহ্ণ
8

যতীন্দ্রমোহন ঠাকুর: বঙ্গনাট্যালয় ও ঐকতানবাদনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা

যতীন্দ্রমোহন ঠাকুর পশ্চিমবঙ্গের পাথুরিয়াঘাটার বিখ্যাত জমিদার বংশের বিদ্যানুরাগী সন্তান। তাঁর ঐকান্তিক উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় থিয়েটার এবং ঐকতান বাদনের সূচনা হয়। সমাজ সেবায়ও তাঁর বিশেষ অবদান ছিল। আজ যতীন্দ্রমোহন ঠাকুরের ১৮৭তম জন্মবার্ষিকী।

পৈত্রিকসূত্রে ‘মহারাজা বাহাদুর’ উপাধি পেয়েছিলেন যতীন্দ্রমোহন, হয়েছিলেন বিপুল সম্পদের অধিকারী। ১৮৩১ সালের ১৬ই মে কলকাতায় তাঁর জন্ম। পারিবারিক সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বেড়ে ওঠা যতীন্দ্র অল্প বয়স থেকেই নাটক লিখতে শুরু করেন। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নিয়েছিলেন হিন্দু কলেজে। তবে বাড়িতে গৃহশিক্ষকের কাছে ইংরেজি ও সংস্কৃত শেখেন। বাংলা, ইংরেজি ও সংস্কৃতে তিনি বহু প্রবন্ধ লিখেছেন, রচনা করেছেন সংগীত ও নাটক। নাটক ‘বিদ্যাসুন্দর’, ‘চক্ষুদান’, ‘বুঝলে কি না’; স্তব ও সংগীতের সংকলন ‘গীতিমালা’ ; এবং কাব্য ও গল্প সংকলন ‘ফ্লাইটস অব ফ্যান্সি’ তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকীর্তি। যতীন্দ্রমোহন ঠাকুরের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এবং ক্ষেত্রমোহন গোস্বামীর সহযোগিতায় ১৮৫৮ সালে প্রথম ঐকতানবাদন প্রণালী সৃষ্টি হয়। যতীন্দ্রমোহনই অবিভক্ত বাংলায় প্রথম ‘বঙ্গনাট্যালয়’ স্থাপন করেন পাথুরিয়াঘাটায়। পৈত্রিকভাবে বিপুল সম্পদের অধিকারী যতীন্দ্র সমাজ সেবায় প্রচুর অর্থ ব্যয় করেছিলেন। বিধবাদের দুর্দশা লাঘবে, হাসপাতালদাতব্য ইত্যাদি নির্মাণে তাঁর হাত ছিল উদার সহযোগিতার। কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের বিখ্যাত গ্রন্থ ‘তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য’ মুদ্রণের যাবতীয় ব্যয় বহন করেছিলেন যতীন্দ্রমোহন। তিনি ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক ও সভাপতি, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, জাদুঘর, শিক্ষা কমিশন প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ছিলেন রয়্যাল ফটোগ্রাফিক সোসাইটির প্রথম ভারতীয় সদস্য। তাঁর রচিত বহু গান সমকালে বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল। ১৯০৮ সালের ১০ই জানুয়ারি যতীন্দ্রমোহন ঠাকুর প্রয়াত হন।

x