তিন মামলায় এখনও চার্জশিট হয়নি

লিটন কুমার চৌধুরী, সীতাকুণ্ড

শুক্রবার , ১৬ মার্চ, ২০১৮ at ৬:২৪ পূর্বাহ্ণ
13

২০১৭ সালের ১৫ মার্চ সীতাকুণ্ডের আলোচিত দুটি জঙ্গি আস্তানায় আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ও বিপুল বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনার দায়েরকৃত তিন মামলায় এখনও চার্জশিট দাখিল হয়নি। ফলে ঘটনাটির এক বছর পেরিয়ে গেলেও জঙ্গিদের বিচার এখনও শুরু হয়নি। তবে খুব শীঘ্রই দায়েরকৃত তিন মামলায় চার্জশিট দাখিল হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা। ইতিমধ্যে চার্জশিটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিস্ফোরক, কেমিক্যাল বিশেষজ্ঞ ও নিহতদের ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট পুলিশের হাতে এসে গেছে। খুব শীঘ্রই এ ঘটনায় জড়িত এক জঙ্গিকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষেই চার্জশিট দাখিল করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গত বছরের ১৫ মার্চ দুপুরে সীতাকুণ্ড পৌরসদরের নামার বাজার সাধন কুঠির ও চৌধুরীপাড়ার ছায়ানীড়ে দুটি জঙ্গি আস্তানার হদিস মেলে। সাধন কুঠিরের মালিকসহ এলাকার কয়েকজন ওই আস্তানা থেকে সন্তানসহ এক জঙ্গি দম্পতিকে আটক ও আত্মঘাতী বেল্ট, পিস্তল উদ্ধার করে পুলিশে সোপর্দ করে। একই দিন সন্ধ্যায় পৌরসদরের চৌধুরীপাড়া এলাকার ছায়ানীড় নামক অপর একটি বাড়িতে আরেকটি জঙ্গি আস্তানার হদিস পায় পুলিশ। রাতভর বাড়িটি ঘিরে রেখে পরদিন সকালে সোয়াতের বিশেষ টিম ও পুলিশ যৌথভাবে ওই জঙ্গি আস্তানায় অপারেশন ‘অ্যাসল্ট সিক্সটিন’ পরিচালনা করলে সোয়াত ও পুলিশের সাথে ব্যাপক বন্দুক যুদ্ধের পর সোয়াতের গুলি ও শক্তিশালী আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে এক শিশুসহ ৫জন নিহত হয়। সে সময় নিহত ৩ জনের নাম জানা গিয়েছিলো। তারা হলো, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারি গ্রামের মো. কামাল, তার স্ত্রী জোবাইদা ও তাদের শিশুপুত্র। পরে কয়েকদিন ধরে ওই আস্তানায় দফায় দফায় তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করে বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞরা। এসব ঘটনায় ১৬ মার্চ চারটি মামলা দায়ের করে পুলিশ। সাধন কুঠিরের ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানার ওসি মো. ইফতেখার হাসান বাদী হয়ে দুটি মামলা দায়ের করেন। একটি সন্ত্রাস দমন আইনে অন্যটি অস্ত্র আইনে। মামলায় সেখান থেকে আটককৃত জঙ্গি আরজিনা প্রকাশ রাজিয়া সুলতানা ও তার স্বামী মো. জসীমসহ অজ্ঞাত ১০/১২ জনকে আসামি করা হয়।

অপরদিকে ছায়া নীড়ের ঘটনায় ওসি (তদন্ত) মো. মোজাম্মেল হক বাদী হয়ে একটি সন্ত্রাস বিরোধী আইন ও একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রত্যেকটি মামলায় সাধন কুঠিরে গ্রেপ্তারকৃত আরজিনা ও তার স্বামী ছাড়াও আরো ১০/১২জন আসামি আছে।

এদিকে মোট চারটি মামলা দায়ের হলেও ঘটনার ২ সপ্তাহ পরে অস্ত্র আইনে দায়েরকৃত মামলায় আরজিনা ও তার স্বামী জসীমকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। বিস্ফোরক ও কেমিক্যাল বিশেষজ্ঞদের রিপোর্ট, নিহত সকল জঙ্গির ডিএনএ টেস্টের রিপোর্টসহ অন্যান্য তথ্য না পাওয়ায় অপর মামলাগুলো আলোর মুখ দেখেনি। তবে কয়েকদিন আগে এসব রিপোর্ট তদন্তকারী কর্মকর্তাদের হাতে এসে পৌঁছেছে। এর ফলে নিহত অজ্ঞাত পরিচয় দুই জঙ্গির মধ্যে আরো একজনের পরিচয় নিশ্চিত হয় পুলিশ। তবে চার্জশিট প্রদানের আগে তার নাম পরিচয় প্রকাশ করেননি সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে ছায়া নীড়ের ঘটনায় সন্ত্রাস বিরোধী ও হত্যা মামলার তদন্তকারী অফিসার সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) মো. মোজাম্মেল হক বলেন, এতদিন আমরা তিনটি মামলার সাথে সম্পৃক্ত বিস্ফোরক, কেমিক্যাল ও ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট পাইনি। তাই মামলাগুলোর চার্জশিট দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। কিন্তু এখন সেসব রিপোর্ট আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে। ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট থেকে আরো একজন জঙ্গিকে শনাক্ত করেছি আমরা। ফলে ছায়া নীড়ে নিহত ৫ জনের মধ্যে চারজনই শনাক্ত হয়েছে। আরো একজন অজ্ঞাত রয়ে গেছে। তিনি আরো বলেন, এখন আর একজন জঙ্গিকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করব আমরা। তাকে এখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ কারণে এখানে আনা যাচ্ছে না। সুযোগ বুঝে এখানে আনার পরপরই আমরা মামলা তিনটির চার্জশিট দাখিল করব।

একই কথা জানান, সাধন কুঠিরে দায়েরকৃত মামলা দুটির তদন্তকারী অফিসার সীতাকুণ্ড থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইফতেখার হাসানও। তিনিও বলেন, মামলাগুলোর চার্জশিটের কাজ অনেকটা এগিয়েছে। এসব মামলায় ঢাকায় থাকা এক জঙ্গিকে আমরা শ্যোন অ্যারেস্ট দেখিয়েছি। তাকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।

x