দীপক বড়ুয়া (মা আমার মা)

রবিবার , ১৩ মে, ২০১৮ at ৫:১৩ পূর্বাহ্ণ
14

: ২৯শে আগস্ট ২০০১, সন্ধ্যে ৬.০৫টা, বুধবার, আজ থেকে সতের বছর আগে আমার প্রিয় মা আমাকে ছেড়ে অনেক দূরে চলে গেছেন। কি আশ্চর্য! আমার মা শীতের কনকনে সাড়ে দশটা বা রাত এগারটা পর্যন্ত পুবের জানালায় চোখ রেখে বসে থাকতেন। কখন আমি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ফিরছি! বউকে বলতেন, বউমা, আমার নাতিকে বুকে জড়িয়ে শুয়ে থাকো, নাহয় ঠান্ডা লাগবে। আমি ফিরতাম, রাত এগারটায়। মা গেইটের তালা খুলে বলতেন,- এতো দেরি হলো কেন? -কাজ ছিলো। -ঠিক আছে, আমি গরম জল দিচ্ছি। তাড়তাড়ি স্নান করে আয়। টেবিলে ভাত দিচ্ছি। এই হচ্ছে আমার মমতাময়ী মা। আমরা ছিলাম যৌথ পরিবার। শহর থেকে জ্যাঠুমনি বাড়ি যেতেন। কমলা,লজেন্স আনতেন। বড়মা বিলি করতেন। মার ভাগে পড়তো কমলার অর্ধেক। আমরা চার বোন, একমাত্র ভাই আমি। পাঁচজন। এক খোসা খেয়ে ছুটেছুটে খেলতাম। একটু পরে আবারও মা’র কাছে যেতাম কমলার জন্য। শাড়ির আঁচলের গিট খুলে আরো একটি খোসা দিয়ে বলতেন, এটাই শেষ, আর নেই। মা বোনদের দিতেন না। ওরা মেয়ে। আমি একমাত্র ছেলে, পেতাম। এখন কেউ যখন মা’র সাথে কথা বলে,আমার মায়ের কথা খুব মনে পড়ে, মনে পড়ে মায়ের শাসন ভালোবাসার কথা। মা যে কতো কাছের উপলব্ধি করি। আমরা যখন মাটিতে পড়ে কিংবা কোনভাবে আঘাত পাই, তখন আমাদের মুখ থেকে প্রথম বের হয়,“ও মারে মা”! কারণ মা’র সাথে সন্তানের সবকিছুর নিবিড় সস্পর্ক। দূরে থেকে সন্তান যদি আঘাত পায়, প্রথমে মা’ই জানতে পারে। কারণ তিনি মা। মা সবসময় সন্তানের মঙ্গল কামনা করেন। তাই গুণীজনেরা বলেন, মায়ের পায়ের নীচে সন্তানের বেহেশত্‌।

x