দুই কর্মচারির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলো শিক্ষাবোর্ড

নিজেদের মধ্যে মারামারি

আজাদী প্রতিবেদন

সোমবার , ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ at ১১:০১ পূর্বাহ্ণ
77

নিজেদের মধ্যে মারামারির ঘটনায় দুই কর্মচারির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড। দ্বিতীয় দফায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ১৪ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে বোর্ড কর্তৃপক্ষ । বোর্ড সূত্রে জানা যায়মারামারির ঘটনায় জড়িত হিসাব শাখার কর্মচারি মো. জাহেদ হোসেনের দুই বছর এবং মোমেনা আক্তারের এক বছর ইনক্রিমেন্ট (বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি) স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আর অপর কর্মচারি নুরুল ইসলামকে তিরস্কার করা হয়েছে। শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর শাহেদা ইসলাম আজাদীকে এ সিদ্ধান্ত অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রোববার সংশ্লিষ্ট কর্মচারিদের নিকট এ সংক্রান্ত চিঠি পৌছে দেওয়া হয়েছে বলেও বোর্ড সূত্র নিশ্চিত করেছে।

প্রসঙ্গত, গত ১২ আগস্ট বোর্ড কর্মচারিদের নিজেদের মাঝে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বোর্ডের দুই গাড়ী চালক আহত হন। এ নিয়ে বোর্ড চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন মীর আবছার ও তৌহিদ নামের দুই কর্মচারি (গাড়ী চালক)। হিসাব শাখার তিন কর্মচারিমো. জাহেদ হোসেন, মোমেনা আক্তার ও নুরুল ইসলাম ৬ তলার একটি কক্ষে (ক নং৬০৩) তাদের মারধর করে বলে অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করেন তাঁরা। পরে মো. জাহেদ এবং মোমেনা আক্তারও চেয়ারম্যান বরাবর পাল্টা লিখিত অভিযোগ করেন।

ওই ঘটনায় প্রথম দফায় চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বোর্ড কতৃপ । বিদ্যালয় উপপরিদর্শক আবুল মনছুর ভূঁইয়াকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়। কমিটির অপর তিন সদস্য হলেনকলেজ উপপরিদর্শক মো. হালিম, সহকারি সচিব মো. সাইফুদ্দিন ও সহকারি বিদ্যালয় পরিদর্শক আলী আকবর। তদন্ত পূর্বক কমিটি গত ২৩ আগস্ট প্রতিবেদন জমা দেয়। চেয়ারম্যান বরাবর জমা দেয়া প্রতিবেদনে ১১টি সুপারিশ করে তদন্ত কমিটি। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ৭ সেপ্টেম্বর তিন জনকে শোকজ করা হয়। শোকজের জবাব পাওয়ার পর গত ২১ নভেম্বর কর্মচারি মো. জাহেদ হোসেন ও মোমেনা আক্তারকে সাময়িক বরখাস্ত করে বোর্ড কর্তৃপক্ষ । আর নুরুল ইসলামকে তিরস্কার করে নোটিশ দেয়া হয়।

প্রথম দফা তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দুই কর্মচারিকে সাময়িক বরখাস্তের পর নিয়মানুযায়ী দ্বিতীয় দফায় উচ্চপর্যায়ের আর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বোর্ড কর্তৃপক্ষ । বোর্ডের উপপরিচালক (হিসাব ও নিরীক্ষা) প্রফেসর মো. শওকত আলমকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়। উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. তাওয়ারিক আলম ও হিসাব শাখার সহকারি হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা ইশরাত আরা এ কমিটির সদস্য। গত ২ ডিসেম্বর এ সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় কমিটি। আর দ্বিতীয় দফা তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ১৪ ডিসেম্বর এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলো বোর্ড কর্তৃপ ।

এদিকে, কর্মচারিদের নিজেদের মধ্যে মারামারির এ ঘটনার জের ধরে বোর্ডের প্রতিটি সেকশনের কক্ষ গুলো জরুরী ভিত্তিতে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেয় বোর্ড কর্তৃপক্ষ । সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে নতুন করে আরো ২২টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে শিক্ষাবোর্ডে। আগে ১৮টি সিসিটিভি স্থাপন করা ছিল বোর্ডে।

x