দেশে জনসম্পদের অপচয়

মোস্তফা কামাল পাশা

মঙ্গলবার , ৮ মে, ২০১৮ at ৫:০৯ পূর্বাহ্ণ
12

মার্কিন ইতিহাসে নয়া রেকর্ড গড়েছেন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অতীত তো বটেই নিকট আগামীতেও সম্ভবত আর কোন প্রেসিডেন্ট তার রেকর্ড টপকাতে পারবেন না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন থেকে শুরু করে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা পর্যন্ত কেউ ট্রাম্পের পাছেপিঠেই নেই! ট্রাম্পের নয়া রেকর্ডটা গিনেস বুক অব ওয়ার্লড রেকর্ডস দয়া করে নথিভুক্ত করে কিনা, এনিয়ে এখনো সম্ভবত কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। হলে উপকৃত হবে বিশ্ববাসী। পাশাপাশি ইতিহাসের রেকর্ড বইএ স্থায়ীভাবে গেড়ে বসার বিরল সুযোগ পেয়ে যাবেন ট্রাম্প। এবার মূল কথায় আসা যাক। মার্কিন প্রেসিডিন্ট পদে শপথ নেয়ার পর থেকে ট্রাম্পের মিথ্যাচারের নির্ঘণ্ট তৈরি করছে দেশটির প্রভাবশালী দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্ট। পত্রিকাটির হিসাব অনুযায়ী শপথের পর থেকে ট্রাম্প ৪৬৬ দিনে ৩০০১ মিথ্যা বলেছেন। যার দৈনিক গড় সাড়ে ছয়। অর্থাৎ দু’ দিনে ১৩ টি করে মিথ্যা বলেন ট্রাম্প সাহেব। আরো মজার কান্ড হচ্ছে, পত্রিকাটি থার্মোমিটারের মত ট্রাম্পের মিথ্যা চর্চা জ্বরের উঠানামার নিখুঁত হিসাবও রেখেছে। এই হিসাবে শপথের প্রথম ১০০ দিনে তিনি দিনে গড়ে ৪ দশমিক ৯ টি মিথ্যা বলতেন। কিন্তু গত দু’মাসে তার মিথ্যা জ্বরের মাত্রা মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। যার দৈনিক গড় ৯! এই হিসাব প্রথম ১০০ দিনের দ্বিগুণ। বেচারার মিথ্যা চর্চার জ্বর বৃদ্ধির অন্যতম কারণ সম্ভবত পুরানো যৌন অনাচার, নির্বাচনী প্রচারণায় বৈরি দেশ রাশিয়ার সাথে গোপন আতাতের তথ্য ফাসসহ আরো কিছু স্পর্শকাতর বিষয় জড়িয়ে রয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্ট লিখেছে, এমন অনেক মিথ্যা আছে, যা ট্রাম্প বারবার বলতে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। বারবার বলা মিথ্যার সংখ্যা মাত্র (!) ১১৩ টি!

এদিকে মার্কিন জনপ্রিয় টি ভি চ্যানেল সি এন এন’র ভাষ্যকার ক্রিস সিলিজার মন্তব্য আরো রসালো। তিনি বলেছেন, ডানেবায়ে টানা মিথ্যা চর্চাকারী এমন প্রেসিডেন্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আগে কখনো পায়নি। অবশ্য এর আগে প্রেসিডেন্টের মিথ্যা কথনের কোন হিসাব মার্কিন মিডিয়া বা অন্য কোন সংস্থা কখনো রাখেনি। এর কোন দরকারও পড়েনি। হোয়াইট হাউস আগে কখনো ভয়ঙ্কর মিথ্যা চর্চা জ্বরে আক্রান্ত হয়নি। ট্রাম্পের মত মিথ্যা বলা বা বারবার একই মিথ্যা আওড়াতে অভ্যস্ত মিথ্যার বণিক আগে কখনো দেশটির প্রেসিডেন্ট পদে আসেননি। ট্রাম্প যতবেশি মিথ্যা চর্চা করেন, ততবেশি মাত্রায় মিথ্যার জালে ফেসে যান। কী করবেন ট্রাম্প! একের পর এক কেলেঙ্কারির ভুত মাটি ফেটে উঠে তার ঘাড়ে চেপে বসছে। রাশিয়ার সাথে নির্বাচনী প্রচারণায় গোপন আতাত তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ কৌসুলি রবার্ট ম্যূলার ট্রাম্পকে মুখোমুখি প্রশ্নে আগ্রহী। তার তৈরি ৪৯টি প্রশ্ন নিয়ে তিনি ট্রাম্পের সাথে বসতে চান। কিন্তু ট্রাম্পের আইনজীবীরা ভয়ে অস্থির। কারণ মুখোমুখি প্রশ্নোত্তরে ট্রাম্প নিশ্চিতভাবে মিথ্যা বলে ফেসে যাবেন। তারা চান, ট্রাম্প ম্যূলারের পাতা ফাঁদ থেকে যেন দূরে থাকেন। শেষ পর্যন্ত কী ঘটে, তার জন্য অপেক্ষায় থাকতে হবে।

এর বাইরেও অতীতের যৌন অনাচার কেলেঙ্কারিতে জোরেসোরে ফেঁসে যাচ্ছেন এই প্লেবয় প্রসিডেন্ট। পর্ণো তারকা স্টর্মিকে নির্বাচনের আগে ঘুষ দিয়ে মুখ বন্ধ করার বিষয়টি ট্রাম্প জানেননা বলে উড়িয়ে দিলেও তার বিশ্বস্ত বন্ধু নিউইয়র্কের সাবেক মেয়র রুডি জুলিয়ানি সত্য ফাস করে দিয়েছেন। সম্প্রতি ট্রাম্পের আইনী সহায়তা দলে যোগ দেয়া জুলিয়ানি ফক্স নিউজকে বলেছেন, ট্রাম্প স্টর্মিকে দেয়া এক লাখ ত্রিশ হাজার ডলারের বিষয়টা জানতেন। আইনজীবী কোহেনকে এই অর্থ পরে পরিশোধও করে দেন ট্রাম্প। জুলিয়ানির বক্তব্যের পর ট্রাম্পের মিথ্যাচারের নয়া মুখ খুলে গেছে। শেষ পর্যন্ত যৌন অনাচার, টানা মিথ্যাচার এবং রুশ নির্বাচনী প্রচারণা আঁতাতের নানামুখি কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে ট্রাম্প শপথ ভঙ্গের দায়ে ইমপিচমেন্টের খড়গে কাটা পড়তে পারেন বলেও কিছু মার্কিন মিডিয়া পূর্বাভাষ দিয়েছে। যাহোক, আমরা বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত কট্টর বর্ণবাদী ট্রাম্পের শেষ পরিণতির অপেক্ষায় আছি।

আমাদের দেশে সুখবরের পাশাপাশি কিছু খারাপ খবর উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় বড় বাধা তৈরি করতে পারে। প্রথম সুখবর হচ্ছে, নারী শিক্ষা, উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মানজনক ‘গ্লোবাল উইমেন লিডারশিপ এ্যওয়ার্ডে’ ভূষিত হয়েছেন। পুরস্কারটি দেশ ও আন্তর্জাতিক নারী সম্প্রদায়ের প্রতি উৎসর্গ করেছেন তিনি। দেশে প্রবাসী আয়ের রেমিটেন্স প্রবাহও বাড়ছে। কিন্তু খুন, ধর্ষণ এমন কী শিশুদের উপর যৌন নিপীড়নের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনা ও বজ্রপাতে প্রাণহানির সংখ্যা রেকর্ড ছাড়িয়ে যাচ্ছে। যা জন অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, প্রায় ২৫ লাখ শিক্ষিত বেকারের দেশ থেকে প্রতি বছর বিদেশি কর্মীরা নিয়ে যাচ্ছে দু’বিলিয়ন মার্কিন ডলার (সাড়ে ষোল হাজার কোটি টাকার বেশি)। বাংলাদেশে প্রায় ৮৬ হাজার বিদেশি কর্মজীবী বিভিন্ন বিশেষায়িত পেশায় নিয়োজিত। এদের বড় অংশ ভারত, শ্রীলঙ্কা, কোরিয়া ও চীনের নাগরিক। শুধুমাত্র ভারতীয় আছেন ৩৫ হাজার। জনশক্তি রপ্তানির বড় দেশটিতে এত শিক্ষিত বেকার থাকতেও কেন বিদেশি জনশক্তির উপর নির্ভর করতে হচ্ছে! নিশ্চয়ই আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার গলদের কুফল এটি। কর্মমুখী, কারিগরি ও বিশেষায়িত শিক্ষার ঘাটতি পূরণে যুগোপযোগী শিক্ষা কারিকুলাম সাজানো হয়নি। খাতওয়ারি জনশক্তির চাহিদা তৈরি করে পরিকল্পিতভাবে শিক্ষাক্রম সাজানো হলে বিপুল জনশক্তির কর্ম সংস্থানের পাশাপাশি বিশাল বৈদেশিক মুূদ্রা অপচয় থেকে বেচে যাবে দেশ। কেবলমাত্র বলিষ্ঠ রাজনৈতিক অঙ্গীকারেই এটা সম্ভব। বিভিন্ন সেক্টরে জনশক্তির চাহিদার হিসাব ও দক্ষ জনশক্তি তৈরির জন্য একটি গবেষণা সেল খোলার পাশাপাশি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে দ্রুত এ ব্যপারে উদ্যোগ নেয়ার সবিনয় আহ্বান জানাচ্ছি।

x