নগরীতে হরতালে পুলিশের বাধা

শাটল ট্রেন ও চবি বাস আটকে দিল হরতালকারীরা

আজাদী প্রতিবেদন

শুক্রবার , ১ ডিসেম্বর, ২০১৭ at ৬:২৮ পূর্বাহ্ণ
20

বামপন্থীদের ডাকা অর্ধদিবস হরতালের সমর্থনে বন্দরনগরীতে মিছিলসমাবেশে মৃদু বাধা দিয়েছে পুলিশ। এসময় বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিহাতাহাতি এবং ব্যানার কেড়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের হামলায় ছাত্র ইউনিয়নের দুই নেতা আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে এ হরতালের ডাক দেয়া হয়েছিল।

তবে বাধা উপেক্ষা করে বাম সংগঠনের কর্মীরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়মুখী শাটল ট্রেন আটকে দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গামী একটি শিক্ষক বাসও হরতাল সমর্থকদের বাধায় যেতে পারেনি বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়ক মৃণাল চৌধুরী জানান, আমরা কোন গাড়িতে হাত দিইনি। ককটেলপেট্রোল বোমা মারিনি। এরপরও পুলিশ বিনা কারণে আমাদের কর্মীদের উপর হামলা করেছে। ধাক্কাধাক্কি করেছে। আমরা গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এই বাধার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। জানতে চাইলে নগর পুলিশের কোতয়ালী জোনের সহকারি কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমাদের নীতিগত সিদ্ধান্ত ছিল মিছিলসমাবেশে বাধা দেব না। কিন্তু হরতালকারীরা মিছিল করতে গিয়ে রাস্তায় বসে যাচ্ছেন। শাটল ট্রেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাসে বাধা দিয়েছে। রাস্তা থেকে সরাতে গিয়ে সামান্য সমস্যা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় এই হরতাল শুরুর পর কোথাও বড় কোন গোলযোগের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। হরতালের কারণে জনজীবনে তেমন কোন প্রভাব পড়েনি। দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যথারীতি খোলা ছিল।

হরতাল শুরুর আগে থেকেই সিপিবি, বাসদ ও গণতান্ত্রিক বামমোর্চার নেতাকর্মীরা নগরীর নিউমার্কেট, জিপিও, কোতয়ালী মোড়, রেলস্টেশন, আমতল, টাইগারপাস মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নেয়।

নিউমার্কেট এবং পুরাতন রেলস্টেশন এলাকায় পুলিশ হরতালকারীদের মিছিলে বাধা দেন। আমতল এলাকায় পুলিশের লাঠিচার্জে জেলা ছাত্র ইউনিয়নের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শাহরিয়ার রাফি এবং ডবলমুরিং থানার প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক খালিদ মিরাজ আহত হয়েছেন।

হরতালের সমর্থনে সমাবেশে বক্তারা বলেন, সরকার এমন এক সময়ে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে যখন চাল, পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে মানুষ দিশেহারা। এতে শ্রমজীবী মেহনতি, স্বল্প আয়ের মানুষ এবং নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেছে। তারা বলেন, বাংলাদেশে হরতালের দুটি ভাষা আছে। একটি গণতান্ত্রিক ভাষা, যেটি মিছিলসমাবেশ ও লিফলেট বিতরণের মধ্য দিয়ে আমরা করছি। আরেকটি অগণতান্ত্রিক ভাষা যেটি বোমাবাজি, পেট্রোল বোমা মেরে, গাড়ি ভাঙচুরের মধ্য দিয়ে করা হয়। এটি হরতাল নয়, ভয়তাল। আমরা বামপন্থীরা ভয়তাল করি না, আমরা হরতাল করছি। আমাদের এই হরতালে জনগণের পূর্ণ সমর্থন ছিল।

x