নববর্ষের উপহার

রুহি আফরোজ

রবিবার , ৮ এপ্রিল, ২০১৮ at ৭:৪৪ পূর্বাহ্ণ
72

বাংলা নববর্ষ দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে। এ নিয়ে মানুষের আগ্রহ সীমাহীন। কারণ বাংলা সংস্কৃতির ধারণ ও চর্চার পাশাপাশি সব শ্রেণির মানুষের সম্মিলনে পালন করা হয় এ দিনটি। আমাদের ঐতিহ্যমণ্ডিত সংস্কৃতির এক প্রধান অংশই হচ্ছে বাংলা নববর্ষ, যা পহেলা বৈশাখে উদযাপন করা হয়। নববর্ষ পৃথিবীর প্রতিটি জাতিকেই উজ্জীবিত করে, অনুপ্রেরণা যোগায় সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার। বাংলাদেশের মানুষ তথা বাঙালিরাও এ থেকে পিছিয়ে নেই। বরং একধাপ এগিয়ে আছে বলা চলে। কারণ বাঙালির আতিথেয়তা এবং উৎসবমুখরতা অন্য যে কোনো জাতির চেয়ে সরেস।

নববর্ষ উপলক্ষে একে অপরকে এটাওটা উপহার দেয়ার রেওয়াজ বহু দিনের। আধুনিক শহর জীবনে সেটা যেন আরও বেড়েছে। শুধু পহেলা বৈশাখই নয়, যে কোনো উৎসবপার্বণকে কেন্দ্র করেই উপহার আদানপ্রদানের হিড়িক পড়ে যায়। এবারের পহেলা বৈশাখেও নিশ্চয়ই এমন পরিকল্পনা আছে কারও কারও। তবে সে পরিকল্পনায় কোন বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে সেটাই হচ্ছে বিবেচ্য।

বাংলা নববর্ষের সঙ্গে যেহেতু গোটা বাংলা সংস্কৃতিটাই সম্পর্কযুক্ত, তাই উপহার বিনিময় করার সময় এ বিষয়টিকে প্রাধান্য দেয়া যেতে পারে। আমরা সচরাচর যে ধরনের উপহার প্রিয়জন কিংবা কাছের মানুষকে দিয়ে থাকি এ থেকে বেরিয়ে এসে নজর দিতে পারি দেশীয় পণ্যের দিকে। যেমন কোনো বন্ধুকে উপহার দেয়ার সময় কাঠ, বাঁশ বা বেতের তৈরি ছোট কিন্তু আকর্ষণীয় শোপিস উপহার দিতে পারি। গ্রামগঞ্জে ছড়িয়েছিটিয়ে থাকা গুণী শিল্পীদের হাতে তৈরি অনেক মূল্যবান ও চমৎকার কারুশিল্প নগরীর বিভিন্ন অভিজাত দোকানে বিক্রি হচ্ছে। এসব কারুশিল্পের মাঝে দৈনন্দিন ব্যবহার্য ছোটখাটো জিনিসপত্র যেমন আছে, তেমনি আছে সৌন্দর্য পিপাসুদের মন ভরানোর মতো বিভিন্ন উপকরণ। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আপনার কোনো বান্ধবীকে হয়ত আপনি একটি ভালো আয়না উপহার দিতে চাচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে আপনি শরণাপন্ন হতে পারেন কারুশিল্পের। কারণ বর্তমানে মাটির ফ্রেমে আটকানো চমৎকার সব আয়না পাওয়া যায়। তেমনিভাবে বিভিন্ন কারুকার্যের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের মানচিত্র ও গ্রামীণ জীবনের নানা চিত্র সংবলিত পটারি, কাঠের ফ্রেমের ঘড়ি, ঘণ্টি ইত্যাদি। কাঠ, সুতা, পুঁতি ইত্যাদির তৈরি বালার ব্যবহার তো অনেকদিন ধরেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

মাবাবা বা কাউকে উপহার দিতে গেলে আমাদের ঝোঁকটা কাপড়চোপড়ের দিকে বেশি থাকে। এই নববর্ষে এ থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করুন। তাদের উপহার দেয়ার চেষ্টা করুন এমন কিছু জিনিস, যা তাদের দৈনন্দিন কাজে লাগবে। দিতে পারেন ঘর সাজানোর সামগ্রী, যদি আপনার মা কিংবা শাশুড়ির ঘর সাজানোর সখ থাকে। তবে সবচেয়ে ভালো হয় যদি আগেই জেনে নেয়া যায় যাকে উপহার দেবেন তার পছন্দের বিষয় কী। হতে পারে আপনার বাবা বই পড়তে পছন্দ করেন তাহলে দেরি না করে তার জন্য কিনে ফেলুন পছন্দের লেখকের কিছু বই। বাংলা সাহিত্যে অনেক অমূল্য সম্পদ আছে, যা নববর্ষ উপলক্ষে উপহার দিতে পারেন ছোটবড় যে কাউকে। তবে আপনার যদি কাউকে পোশাক কিনে দেয়ার একান্তই ইচ্ছা থাকে, এ ক্ষেত্রে দেশীয় পোশাকই বাছাই করুন।

শিশুদের উপহার দিতে চাইলে বিভিন্ন দেশীয় খেলনা সামগ্রী দিতে পারেন, যা তার পছন্দ। তবে শিশুর জন্য সবচেয়ে বড় উপহার হতে পারে তাকে নিয়ে কোথাও বেড়াতে যাওয়া কিংবা পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে যাওয়া। মেলা হলে তো কথাই নেই। বেড়ানোটা পরিবারের সবাই মিলে উপভোগ করতে পারেন।

বিভিন্ন দেশে নববর্ষের কার্ড দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর প্রথা আছে। আমাদের দেশও এর ব্যতিক্রম নয়। কার্ড দিয়েও জানাতে পারেন শুভেচ্ছা। তবে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য কার্ডই হোক আর অন্য কোনো উপহার সামগ্রীই হোক চেষ্টা করুন নিজ হাতে কাঙিক্ষত ব্যক্তির কাছে তা পৌঁছে দিতে। তাহলে সম্পর্কটা আরও গভীর হবে।

x