নিজেদের বুদ্ধিমত্তায় ৯৯ ঘণ্টা পর ফিরেছেন অপহৃত দু’যুবক

কক্সবাজারের ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কে অপহরণ

কক্সবাজার প্রতিনিধি

সোমবার , ৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ at ৫:৫৬ পূর্বাহ্ণ
45

কক্সবাজারের ঈদগাঁওঈদগড় সড়কে অপহরণের শিকার দু’যুবক অপহরণের ৯৯ ঘন্টার মাথায় নিজেদের বুদ্ধিমত্তায় ফিরে এসেছেন। শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ঈদগড়ের ছগিরাকাটা এলাকার পশ্চিমের পাহাড় থেকে বেরিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় বাড়ি ফিরেছেন তারা। ডাকাতের প্রহার ও অভুক্ত থাকার কারণে দু’জনই দুর্বল হয়ে পড়েছেন। অপহৃত হেলালের চাচাত ভাই সাবেক মেম্বার বেলাল উদ্দিন ও ঈদগড় পুলিশ ফাঁড়ির আইসি এএসআই মোরশেদ আলম তাদের ফিরে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অপহরণের শিকার হেলাল ও নুরুল আমিন জানান, ১৮ নভেম্বর অপহরণের শিকার হবার পর প্রায় ২ ঘন্টা হাঁটিয়ে তাদের আস্তানায় নিয়ে যায় অপহরণকারীরা। সেখানে এর নয়দিন আগে রামু গর্জনিয়া থেকে অপহৃত অপর দু’কৃষককে চোখ বাঁধা অবস্থায় আস্তানায় দেখেছি আমরা। ১৯ নভেম্বর ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা হাতে আসার পর ঐ দু’কৃষককে ছেড়ে দেয় অপহরণকারীরা। বিকেলে আমাদের প্রহার করে টাকা চাইতে বলে। পরে হেলালের মুঠোফোন থেকে বাড়িতে ফোন করে ৩ লাখ টাকা দাবি করে। এদিকে তাদের উদ্ধারে পুলিশের অভিযানের খবর জানতে পেরে তারা আমাদের উপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। কখনো চোখহাত বেঁধে আবার কখনো চোখ খোলা রেখে মাইলের পর মাইল পাহাড় ডিঙ্গানো হয়েছে। বিভিন্ন দিক থেকে পুলিশী অভিযান হচ্ছে বুঝতে পেরে তারা মূল আস্তানা থেকে আমাদেরকে পানিশ্যাঘোনা গ্রামের পশ্চিমে আতর আলীর হেডম্যানের ফিশারীর পাশের দুর্গম পাহাড়ে ২দিন ২ রাত রেখে দেয়। দেন দরবারে ৪৪ হাজার টাকা পাওয়ার পর ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধ হওয়ায় আমাদেরকে না ছেড়ে আরো দু’লাখ টাকা দাবি করে। পরে পুলিশি অভিযানের পাশাপাশি র‌্যাবের অভিযান হবে এটি সোর্সের মাধ্যমে জানতে পেরে আমাদের নিয়ে শনিবার রাতে তারা হাঁটা দেয়। মাঝখানে ক্লান্ত হয়ে বসে পড়ে সবাই। একপর্যায়ে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে প্রথমে মুখ দিয়ে হাতের বাধন ও পরে পায়েরটা খুলে আমরা পূর্ব দিকে হাঁটা শুরু করি। প্রায় ঘন্টাদেড়েক হাঁটার পর ছগিরাকাটা এলাকায় পৌঁছে ঈদগড়বাইশারী সড়কে উঠি। ক্লান্ত হয়ে সড়কেই শুয়ে পড়ি আমরা। স্থানীয় এক লোক আমাদের দেখে চিৎকার করলে পাশের বাড়ির লোকজন এসে আমাদের পরিচয় পেয়ে বাড়ি নিয়ে খাবার দেয়। এরপর আমাদের বাড়িতে ফোন করে। খবর পেয়ে বেলাল মেম্বার, মনিসহ অন্যরা এসে বাড়িতে নিয়ে যায়। ঈদগড় পুলিশ বাড়িতে এসে তাদের সাথে কথা বলেন। তারা আরো জানান, অপহরণকারী দলের ৯সদস্যের হাতে ৪টি লম্বা বন্দুক ও ধারালো অস্ত্র থাকত। রাতে এক বেলা খাবার দিলেও অপহরণকারীরা দিনেরাতে কয়েকবার ইয়াবা খেতে বসত, যা তাদের ভাষায় ‘ভাত’ হিসেবে উচ্চারণ করতো। খাট সাইজের লিডার যুবকটি অপহৃতদের ‘গরু’ বলে সম্বোধন করতো। সাবেক মেম্বার বেলাল উদ্দিন জানান, অপহৃত দুজনই দরিদ্র। নুরুল আমিন শ্রমজীবি আর হেলাল মোটর সাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। তাদের পরিবার থেকে ১০ হাজার করে বিশ হাজার ও বাজারের ব্যবসায়ী এবং পাড়ার অন্যদের সহযোগিতায় পাওয়া সর্বমোট ৪৪ হাজার টাকা অপহরণকারিদের চাহিদামতো তিনটি বিকাশ নাম্বারে দেয়া হয়। কিন্তু এরপরও তাদেরকে ছাড়া হয়নি। শনিবারও পুলিশের অভিযান চালানো হয়। চাওয়া হয় র‌্যাবের সহযোগিতা। কিন্তু শনিবার রাত ১টার দিকে ছগিরাকাটা এলাকা থেকে ফোনে খবর পায় দু’জনকে রাস্তায় বিধ্বস্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। দু’জনই অসুস্থ হওয়ায় ডাক্তার এনে তাদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। রামুর ঈদগড় পুলিশ ক?্যাম্পের ইনচার্জ এএসআই মোরশেদ আলম জানান, ছগিরাকাটার পশ্চিমের পাহাড়ে ডাকাতদল অবস্থান করছে এমন খবরে অভিযান শুরু করলে ডাকাতদল অপহৃতদের রেখে পালিয়ে যায়। পুলিশ সেখান থেকে অপহৃত দু’যুবককে উদ্ধার করে ক্যাম্প হেফাজতে নিয়ে আসে। ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই মহিউদ্দিন বলেন, যেভাবে হউক একটি উৎকণ্ঠার অবসান হয়েছে। এখন অস্থিতিশীল পরিবেশ বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি রামু উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নের বায়তুশ শরফ এলাকার খুইল্যা মিয়ার ছেলে নুরুল আমিন ও মৃত আছহাব মিয়ার ছেলে হেলাল উদ্দিন (২০) কে অপহরণ করে নিয়ে যায় অপহরণকারীরা। ২০১৬২০১৭ সালে ঈদগড়ঈদগাঁওবাইশারী সড়কে এ পর্যন্ত প্রায় ৪০জন লোক অপহরণের শিকার হন। তাদের উদ্ধারে প্রশাসন অভিযান চালালেও মুক্তিপণ ছাড়া কেউ উদ্ধার হয়নি। তাই অপহরণকারীদের নিমূর্ল করতে যৌথ অভিযানের দাবি জানান ভুক্তভোগীরা।

x