নিত্যপণ্যের বাজার যেন স্থিতিশীল থাকে

রবিবার , ৬ মে, ২০১৮ at ৩:২৪ পূর্বাহ্ণ
34

রমজানে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম স্বাভাবিক রাখার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হলো। বৈঠকে জেলা প্রশাসক বলেছেন, আসন্ন রমজানে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্বাভাবিক থাকবে। পণ্যের দাম বাড়বে না। এছাড়া ভেজাল পণ্য পাওয়া গেলে শুধু জরিমানা নয়, জেল হবে।

মতবিনিময়ে ব্যবসায়ীরা যে প্রতিশ্রুতি বা আশ্বাস দিয়েছেন, তার ওপর ভিত্তি করে জেলা প্রশাসক একথা বলেছেন।

আমাদের সৌভাগ্য যে এখনো পর্যন্ত বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম স্বাভাবিক। পিঁয়াজ ছাড়া অন্যান্য সামগ্রীর মূল্য ঊর্ধ্বগতি বলা যাবে না, বরং নিয়ন্ত্রণাধীন বলা যেতে পারে। অর্থনীতিবিদরা বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণ আর বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ওপর নির্ভর করে দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের গতিপ্রবাহ। নিয়ন্ত্রণের পর নিয়ন্ত্রণের কারণে যে শক্তিগুলোর মিথস্ক্রিয়ায় বাজার ক্রিয়াশীল থাকে, সেগুলো নিরুৎসাহিত হয়। এর অনিবার্য ফল হচ্ছে কম অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বা প্রবৃদ্ধির বিপরীতমুখী অবস্থান, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান হ্রাস, চোরাচালান বৃদ্ধি ও অনেক ব্যবসা বাণিজ্যের প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়া। মুক্তবাজার অর্থনীতির মৌলিক নীতিমালার সঙ্গে সঙ্গতি বজায় রেখে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথ সুগম করতে হবে। এর জন্য বাজার দর নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। চিনির ওপর সকল রকম নিয়ন্ত্রণ তুলে নিতে হবে, যাতে বেসরকারি খাতে চিনি আমদানি ও বিতরণের পথ সহজতর হয়। বাণিজ্য উদারীকরণে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বেসরকারিকরণ, মুক্তবাজার, অবাধ বাণিজ্য ও শুল্ক হ্রাস ইত্যাদি সবই বাণিজ্য উদারীকরণের অন্তর্ভুক্ত। বাণিজ্য উদারীকরণ বলতে কেবল মূল্য ও পণ্য আমদানি নয়, সেবা আমদানিও বোঝায়। বিশেষ করে কারিগরী ও জীবন রক্ষাকারী সেবা সার্ভিস এই শ্রেণিতে পড়ে। কাজেই সেবা পণ্য বাদ দিয়ে কেবল জড় পণ্য আমদানি হলেই বাণিজ্যের উদারীকরণ ঘটে না। একটি ছাড়া অন্যটি অর্থহীন।

জেলা প্রশাসনের উক্ত সভায় চট্টগ্রামের শীর্ষ ব্যবসায়ী, খুচরা ও পাইকারি বাজারের ব্যবসায়ী নেতা, চেম্বার প্রতিনিধিসহ নানা সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কঠোর নির্দেশনার কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা দেখেছি, প্রতি বছর রমজানের আগে জেলা প্রশাসক ব্যবসায়ীদের নিয়ে এরকম বৈঠকে মিলিত হন। প্রায় প্রতিবারই ব্যবসায়ীরা বৈঠকে তাঁদের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেনণ্ড ‘রমজানে দাম বৃদ্ধি হবে না’ এবং প্রতিবছর জেলা প্রশাসক কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন– ‘কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না’। কিন্তু পরে দেখা যায়, রমজান আসার সঙ্গে সঙ্গে সকলের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হয়। হু হু করে বাড়তে থাকে নিত্য পণ্যের দাম । কোনো মতেই রোধ করা যায় না।

গণ্ডায় গণ্ডায় গঠিত বাজার মনিটরিং টিম অফিসের কোণায় বসে আড্ডা মারতে তৎপর থাকে। এবারও জেলা প্রশাসকের কণ্ঠে শোনা গেলো: ‘প্রতিদিন বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে’। বাজার সমিতির উদ্যোগে স্থানীয়ভাবে বাজার মনিটরিং কমিটি গঠন করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনের মনিটরিং ছাড়াও স্থানীয়ভাবে গঠিত কমিটি নিজ উদ্যোগে প্রতিদিন বাজার মনিটরিং করবে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে।

আসলে আমাদের দেশের জনগণের মন্দ কপাল, উৎসব এলেই তারা মুখোমুখি হয় বিরূপ পরিস্থিতির। যেখানে অন্য দেশে উৎসব উপলক্ষে মূল্য হ্রাস করা হয়। সেখানে আমাদের দেশে ঘটে উল্টা। এই জন্য গুটিকয়েক লোভী ও নৈতিকতাবর্জিত ব্যবসায়ীই দায়ী। তাদের হীন তৎপরতায় অস্থির হয়ে ওঠে বাজার। আমরা চাইবো, এই হীন মানসিকতার অবসান। নিত্য পণ্যের বাজারে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হলে সামগ্রিক অর্থনীতিই সমৃদ্ধ হবে। অর্থনৈতিক সামর্থ্যই উন্নয়ন ও অস্তিত্ব রক্ষার মূল চাবিকাঠিকথাটা মনে রাখতেই হবে।

x