পটিয়ায় ফ্যানের সাথে ঝুলে পুলিশ কনস্টেবলের স্ত্রীর আত্মহত্যা

পটিয়া প্রতিনিধি

শুক্রবার , ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ at ৪:৩৭ পূর্বাহ্ণ
52

পটিয়ায় সিলিং ফ্যানের সাথে উড়না পেঁচিয়ে এক পুলিশ কনস্টেবলের স্ত্রী আত্মহত্যা করেছে। গতকাল সকাল সাড়ে ৮টায় উপজেলার পূর্ব হাইদগাঁও মাহদাবাজ এলাকায় শ্বশুর বাড়ির নিজ শয়ন কক্ষ থেকে গৃহবধূ রোকসানা আকতার বকুলের (২৫) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। রোকসানা ওই এলাকার বাসিন্দা পুলিশ কনস্টেবল নুরুল ইসলামের স্ত্রী এবং জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের এয়াকুবদন্ডী ১নং ওয়ার্ড মোগল পাড়া এলাকার বাসিন্দা সাবেক বিজিবি সদস্য আবদুস ছালামের মেয়ে। পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছে। রোকসানার শ্বশুর বাড়ির লোকজন ঘটনাটি আত্মহত্যা বললেও তার পরিবারের অভিযোগ, শ্বশুর বাড়ির লোকজন নির্যাতন চালিয়ে রোকসানাকে মেরে ফেলেছে।

পটিয়া থানার ওসি শেখ মুহাম্মদ নেয়ামত উল্লাহ জানান, সোমবার সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ কনস্টেবলের স্ত্রীর লাশ শ্বশুর বাড়ির নিজ কক্ষে শোয়ানো অবস্থা থেকে উদ্ধার করে। তবে তার গলায় রশির চিহ্ন রয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হলেও মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি। ময়না তদন্তের প্রতিবেদন আসলে বিস্তারিত জানা যাবে।

রোকসানার স্বজনরা জানান, তার স্বামী নজরুল ইসলাম বান্দরবান জেলার লামা থানায় কর্মরত এবং তাদের সংসারে ৭ মাসের ১ কন্যা সন্তান রয়েছে।

হাইদগাঁও ইউনিয়নের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রেখা দাশ ও ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দানু মিয়া জানান, রোকসানার শ্বশুর বাড়ির লোকজন জানিয়েছেন, সিলিং ফ্যানের সাথে উড়না পেঁচিয়ে ওই গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছে। পরে তার লাশটি ঝুলন্ত অবস্থা থেকে তার জেঠা শ্বশুর সোনা মিয়া ও ফারুক মিয়া নিচে নামিয়ে আনেন।

এদিকে রোকসানার ভাই রবিউল হোসেনের অভিযোগ, শ্বশুর বাড়ির লোকজন যৌতুকের দাবিতে বিয়ের আড়াই মাস পর থেকে প্রতিনিয়ত রোকসানার উপর নানাভাবে নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। রবিউল বলেন, তার ভগ্নিপতি নজরুল বৃহস্পতিবার সকাল ৫টায় তাদের বাড়িতে ফোন করে জানায়, রাত ৩টায় রোকসানা মারা গেছে। কিন্তু শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় রোকসানাকে নিজ কক্ষে শোয়ানো অবস্থায় রাখা হয়েছে। বোনের গলার রশির চিহ্ন এবং কক্ষের সিলিং ফ্যানে একটি রশি টাঙানো রয়েছে।

x