পরিদর্শনে এসে কর্মকর্তারা উৎকোচ ছাড়া কিছু বুঝেন না

দুদকের কর্মশালায় শিক্ষকদের অভিযোগ

আজাদী প্রতিবেদন 

শুক্রবার , ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৭ at ৬:৪৫ পূর্বাহ্ণ
97

শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার (অনুসন্ধান) . নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, এথিকস এবং মরালিটির বিষয়গুলো আপনাদের অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক স্বল্পতাসহ বিভিন্ন সংকট রয়েছে। এসব বিষয় আমরা সরকারকে অবহিত করব। কিন্তু আপনাদের যে দায়িত্বপাঠদান, সেটা ঠিকমতো পালন করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকঅভিভাবকের বৈঠক নিয়মিত করতে হবে।

মাধ্যমিক পর্যায়ে দুর্নীতিমুক্ত ও মানসম্মত শিক্ষা’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গতকাল সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি চট্টগ্রাম মহানগর এ কর্মশালার আয়োজন করে। চট্টগ্রামের জেলাপ্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন দুদকের পরিচালক (প্রতিরোধ) মো. মনিরুজ্জামান, দুদকের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক মো. আক্তার হোসেন, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি মনোয়ারা হাকিম আলী।

কর্মশালায় শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তা, জেলাউপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের ৬টি দলে বিভক্ত করে দলীয় ভাবে মাধ্যমিক শিক্ষায় সমস্যাসংকট ও নিরসনের উপায় খুঁজে বের করতে বলা হয়। এরপর ৬টি দলকে তাদের প্রাপ্ত সমস্যাসংকট ও পরামর্শ উপস্থাপনের সুযোগ দেয়া হয়।

এসময় শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিদর্শনে এসে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিরীক্ষা দফতরের (অডিট) কর্মকর্তারা উৎকোচ ছাড়া কিছু বুঝেন না। আর এই উৎকোচ দিতে গিয়েও নানা ভাবে ভোগান্তি পোহাতে হয় শিক্ষকদের। এর থেকে পরিত্রাণ চান শিক্ষকরা।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুদক কমিশনার ড. নাসিরউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা এ বিষয়ে অবগত আছি। এবার ঢাকায় গিয়ে ওই দফতরের (নিরীক্ষা) কর্মকর্তাদের মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হবে জানিয়ে দুদক কমিশনার বলেন, দফতরটির কর্মকর্তাদের অনেকের ১২/১৩টি পর্যন্ত বিল্ডিং রয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। আমরা ধরপাকড় চালাব। কয়েক মাসের মধ্যেই আপনারা দেখতে পাবেন।

আর একই অভিযোগের জবাবে দুদকের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক মো. আক্তার হোসেন শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, চট্টগ্রামে আমাদের তিনটি কার্যালয় কাজ করছে। আপনাদের কাছে অনুরোধ এ ধরনের কেউ যদি উৎকোচ চায় সাথে সাথে আমাদের খবর দিন। আমরা পুরো টিমসহ গ্রেফতার করব। তবে আপনাদের সহযোগিতা আমাদের দরকার। তথ্য দিয়ে এই সহযোগিতাটুকু আপনারা করবেন।

স্কুল পরিচালনার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব, ম্যানেজিং কমিটির সক্রিয়তার অভাব, শিক্ষকদের কোচিং প্রবণতা, কোচিং বন্ধে প্রয়োজনে মোবাইলকোর্ট পরিচালনা, মানসম্মত শিক্ষক সংকট, অবকাঠামো সংকট, স্কুল পরিচালনা কমিটি ও শিক্ষকদের দ্বন্দ্ব, অভিভাবকদের সচেতনতার অভাব, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব, ম্যানেজিং কমিটিতে অনভিজ্ঞ ও অশিক্ষিত সদস্য, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণসহ বেশ কিছু বিষয়ে উঠে আসে দলগত ভাবনায়। যা পর্যায়ক্রমে উপস্থাপন করে দলগুলো।

ম্যানেজিং কমিটির এক সদস্য বলেন, শিক্ষকরা ক্লাসে কিছুই পড়ান না। সব বাসায় পড়তে হয়। তাই তাদের কোচিং সেন্টারের দ্বারস্থ হতে হয়। কোচিং বন্ধে আচমকা মোবাইল কোর্ট পরিচালনার আহ্বানও জানান তিনি। দলগত উপস্থাপনা শেষে দুদক কমিশনার ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, মাধ্যমিক স্তরে দুর্নীতির স্তর ও জায়গাগুলো চিহ্নিত করতে আমরা কাজ করছি। পরবর্তীতে সমস্যার সূত্র ধরেই দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যক্রম শুরু করা হবে। স্কুলকলেজে দুর্নীতি পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না জানিয়ে দুদক কমিশনার বলেন, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতের লক্ষ্যে শিক্ষকদের এগিয়ে আসতে হবে। আর স্কুলে মনিটরিং আরও জোরদার করতে শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

কর্মশালা শুরুর প্রাক্কালে চট্টগ্রামের জেলাপ্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ম্যানেজিং কমিটি ও এসএমসিএই দুটিতেই শিক্ষকদের স্বাধীনতা শেষ। তাঁদের ওখানে কথা বলার আর কোনো সুযোগ থাকে না।

শিক্ষকদের কোচিং প্রবণতা সম্পর্কে জিলহ্মুর রহমান চৌধুরী বলেন, বাচ্চারা স্কুলেই পড়বে। কিন্তু কোচিং জাতীয় কিছু থাকলে এটা স্বাভাবিক যে কিছু শিক্ষক ক্লাসে ভালো মতো পড়াবেন না। কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়, সবাইকে আইনের আওতায় আনা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন জেলাপ্রশাসক।

x