পরের দুই দিন ভাল ক্রিকেট খেলতে চান খালেদ মাহমুদ

ক্রীড়া প্রতিবেদক

শনিবার , ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ at ৫:১১ পূর্বাহ্ণ
21

ব্যাটিংটা যেমন করেছিল বাংলাদেশ বোলিং এবং ফিল্ডিং মোটেও সে মানেরতো হয়নি বরং অনেক পিছিয়ে এই দুটি বিভাগ। ফলে অনুজ্জ্বল বোলিং আর বাজে ফিল্ডিংয়ের খেসারত দিতে গিয়ে চট্টগ্রাম টেস্টের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে বাংলাদেশ। মাত্র তিন উইকেট হারিয়ে স্বাগতিকদের সংগ্রহ প্রায় ছুঁয়ে ফেলা শ্রীলঙ্কার সামনে এখন বড় ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার হাতছানি। তবে বাংলাদেশের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ মনে করছেন, ম্যাচে এখনও দুই দলের জন্যই সুযোগ রয়েছে। এখনো কেউই এগিয়ে নেই এই ম্যাচে। গতকাল তৃতীয় দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে খালেদ মাহমুদ জানান, এখনও ম্যাচে নিজেদের সম্ভাবনা দেখেন তারা। শ্রীলঙ্কা অবশ্যই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে। তবে চতুর্থ দিনের সকালটাই হয়তো বলে দেবে কোন পথে যাবে ম্যাচ। শ্রীলঙ্কা কত সময় ব্যাট করবে এটাই এখন বড় কথা। আমি হলে হয়তো এখান থেকে একটা ইনিংস ব্যাট করার চিন্তা করতাম। তবে ম্যাচ বাঁচানোর কথা ভাবার সময় এখনও আসেনি বলে মনে করেন খালেদ মাহমুদ। এখনও বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের চাইতে ৯ রানে পিছিয়ে থাকা শ্রীলঙ্কাকে চতুর্থ দিন যত দ্রুত সম্ভব অল আউট করে দিতে চান মাহমুদ।

তিনি বলেন এক দিক থেকে চিন্তা করলে অবশ্যই শ্রীলঙ্কা ভালো অবস্থানে আছে। টেস্টে এখনও দুটি দিন বাকি আছে। চতুর্থ দিনটি আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। কত দ্রুত ওদের অলআউট করতে পারি সেটাই এখন দেখার বিষয়। ওদের লিড কত কমে রাখতে পারি সেটাই হবে সবচেয়ে বড় ব্যাপার। তিনি বলেন পাশাপাশি দ্বিতীয় ইনিংসের আমাদের ব্যাটিং অনেক ভালো করতে হবে। ম্যাচ এখনও উন্মুক্ত মনে করছেন খালেদ মাহমুদ। উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো আছে এখনও। তিনি বলেন আমরা আশা করি, চতুর্থ দিন সকাল থেকে ভালো বোলিং করব। তিনি বলেন তৃতীয় দিনের শেষ সেশনটা ভালোই ছিল তাদের জন্য। এই সেশনে খুব বেশি রান করতে পারেনি শ্রীলংকা। ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে মাত্র দুটি উইকেট নিতে পারলেও শ্রীলংকাকে দ্রুত অল আউট করতে চতুর্থ দিনের প্রথম ঘণ্টায় অন্তত ২/৩টি উইকেট চান মাহমুদ। তিনি বলেন এখনও ৭ উইকেট আছে ওদের হাতে। উইকেট এখনও ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো আছে। কত দ্রুত ওদের অলআউট করতে পারি, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। চতুর্থ দিনে প্রথম ঘণ্টায় ২৩টা উইকেট নিতে পারলে হয়ত আমরা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে ফিরতে পারব।

এদিকে ম্যাচের মাত্র তিনদিন গেলেও জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের উইকেট নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। ম্যাচের আগে ভাবা হচ্ছিল উইকেটে থাকবে স্পিনারদের রাজত্ব। প্রথম তিন দিনে দেখা গেল জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের ২২ গজ আসলে ব্যাটিং স্বর্গ। উইকেট দলের চাওয়ার পুরোটা পূরণ হয়নি। তবে সেটি নিয়ে কোনো অভিযোগও নেই বাংলাদেশ দলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের। ম্যাচের আগের দিন উইকেট দেখে লঙ্কান অধিনায়ক দিনেশ চান্দিমাল বলেছিলেন নিশ্চিতভাবেই টার্নিং উইকেট হতে যাচ্ছে এটি। বাংলাদেশের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ উইকেটের চরিত্র অনুমান করতে বলেছিলেন স্কোয়াডের দিকে তাকাতে। দলে ৬ জন স্পিনার দেখেই বুঝতে পারছেন কেমন উইকেট হতে যাচ্ছে। কাজেই তারও অনুমান ছিল এটি স্পিনারদের সহায়ক উইকেট হবে। কিন্তু দুজনেরই অনুমান ব্যর্থ হয়ে গেল। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ করেছে ৫১৩। শ্রীলঙ্কা ৫০৪ করে ফেলেছে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়েই। স্পিনারদের জন্য সহায়তা ছিল সামান্যই। এদিকে ঢাকায় ত্রিদেশীয় সিরিজে দল চাওয়া মত উইকেট পায়নি বলে আলোচনাসমালোচনা হয়েছে অনেক। এবার কি দল এমন উইকেটই চেয়েছিল? তৃতীয় দিন শেষে খালেদ মাহমুদ শোনালেন উইকেট নিয়ে দলের ভাবনা।

তিনি বলেন উইকেট নিয়ে আসলে আমি কোন অজুহাত দিতে রাজি নই। অভিযোগও করতে চাই না। হয়তোবা একটু বেশি ব্যাটিংবান্ধব উইকেট হয়ে গেছে এটি। আমরা হয়তো চেয়েছিলাম উইকেট যদি একটু মন্থর থাকত বা স্পিন করলে আমাদের জন্য ভালো হতো। তিনি বলেন আমরাও এই উইকেটে ব্যাট করেছি। যেটা বড় ব্যাপার। ৫০০ রান করেছি। একদিনে ৩৭৪ রান করেছি। উইকেট নিয়ে অভিযোগ নেই। পরের দুই দিন ব্যাটিংবোলিংফিল্ডিংয়ে আমাদের ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে ম্যাচে টিকে থাকার জন্য। তাহলে কি শেষ দুই দিনে উইকেট থেকে টার্ন আশা করছেন খালেদ মাহমুদ। জবাবে খালেদ মাহমুদ জানালেন এমন হওয়ার সম্ভাবনা খুব সামান্যই। মনে হয়না তেমন স্পিনিং সহায়ক উইকেট হবে এটি। তবে উইকেট মেন আচরণ করুক না কেন পরের দুটি দিন আমাদের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন এখন আমাদের প্রথম কাজ ওদের বেশিদুর এগিয়ে যেতে না দেওয়া। আর পরের কাজটি হচ্ছে নিজেদের ভাল ব্যাট করা। কারণ পরের ইনিংসে ভাল ব্যাট করতে না পারলে হয়তো বিপদে পড়তে হতে পারে আমাদের। তবে তেমন কিছু চাননা মাহমুদ।

x