পুরোনগরী নোংরা, সিটি কর্পো কি করছে বুঝতে পারছি না : মোশাররফ

সাগর পাড়ে স্মার্ট শহর গড়ে তোলা হবে, জাতিসংঘ পার্কও হবে ।। আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের সৌন্দর্যবর্ধন কাজের উদ্বোধন বিনোদনের জন্য চট্টগ্রামের বাইরে যেতে হবে না : ছালাম

আজাদী প্রতিবেদন

শনিবার , ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ at ৪:২৫ পূর্বাহ্ণ
853

লালখানবাজার হতে মুরাদপুর আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের সৌন্দর্র্য বর্ধন কাজের উদ্বোধন করতে এসে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে দেখার জন্য সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। সিডিএসিটি কর্পোরেশনকে যৌথভাবে কাজ করতে হবে। সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামের সভাপতিত্বে গতকাল ফ্লাইওভারের নিচে সৌন্দর্যবর্ধন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এসব কথা বলেন। এসময় মন্ত্রী অনেকটা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পুরো নগরী আজ নোংরা শহরে পরিণত হয়েছে। আমি বুঝে উঠতে পারছিনা সিটি কর্পোরেশন কি করছে। সিটি কর্পোরেশনের কি কাজ!

তিনি বলেন, চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করতে হলে অন্তত অর্ধেক ব্যাংকের হেড কোয়ার্টার চট্টগ্রামে আনতে হবে। জিইসি মোড়ে গণপূর্তের সাড়ে ৮ একর জায়গার উপর ১৬টি সুউচ্চ টাওয়ার হবে। প্রতিটি টাওয়ার হবে ৩০/৩৫ তলা বিশিষ্ট। এ এলাকা অতিসত্বর বদলে যাবে। নান্দনিক শহর হবে চট্টগ্রাম।

মন্ত্রী বলেন, আইনে বলা আছে ফুটপাত থেকে ৫ ফুট ভিতরে ভবন করা যাবে। ঢাকাচট্টগ্রামে দেখেন কয়টা ভবন ফুটপাত থেকে ভিতরে আছে। রাস্তার উপর শত শত দোকান করা হয়েছে। মালয়েশিয়া, ব্যাংককে যান, সেখানে এমন কোনো গলি নেই যেখানে দুটি গাড়ি চলতে পারে না। আমাদেরও এ বিষয়ে নজর দিতে হবে। সুয়্যারেজ সিস্টেম না থাকার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, মানববর্জ্য নালায় যায়, সেখান থেকে খালে ও নদীতে যায়। আমাদের ভাগ্য ভালো কর্ণফুলী নদী এখনো এ অবস্থায় আছে। এখানে সুয়্যারেজ সিস্টেম থাকা প্রয়োজন, ওয়াসা সেটা করছে

না। প্রধানমন্ত্রী তাড়াতাড়ি সুয়্যারেজ প্রকল্প নেওয়ার কথা বলেছেন।

নগরীতে পার্কের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়ে গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ পার্কও হবে ইনশাআল্লাহ। আগ্রাবাদে গণপূর্তের জায়গায় শিশু পার্ক করলো, ২০০টা দোকান করলো। অতিসত্ত্বর পার্ক ভেঙে খেলার মাঠ করবো। সাত একর জায়গার উপর তিনটি খেলার মাঠ হবে। এরমধ্যে ফুটবল, ক্রিকেট, হকি ও বাস্কেট বল খেলার মাঠ থাকবে। শিশুদের জন্য নিরাপদ জায়গায় একটি শিশু পার্ক করবো। মানুষ পানির কাছে থাকতে পছন্দ করে। তাই আমরা নদীর পাড়ে ছোট একটা স্মার্ট শহর গড়ে তুলব। আউটার লিংক রোডের কাজ শেষ হলে সেখানে আপনারা এ কাজ দেখতে পাবেন।

সৌন্দর্য বর্ধন কাজ সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, আমি চিন্তাও করিনি, ফ্লাইওভারের নিচে এমন সুন্দর কাজ করা যায়। সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম চট্টগ্রামকে নিয়ে কি চিন্তা করেন সেটা বুঝা যায়। ফ্লাইওভারের নিচের এ অংশটা পুরোটাই অকেজো পড়ে থাকতো। তিনি (আবদুচ ছালাম) সেখানে সৌন্দর্য বর্ধক এমন একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে আবদুচ ছালাম বলেন, চট্টগ্রামের মানুষকে বিনোদন কেন্দ্রের জন্য অন্য কোথাও যেতে হবে না। পতেঙ্গায় বিশ্বের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে। ফ্লাইওভারের নিচে ৩/৪ মাসের মধ্যে দৃশ্যমান বিনোদনের ব্যবস্থা হবে। জিইসি মোড়ে হ্যাঙ্গিং ব্রিজ করে ছোটদের বিনোদনের ব্যবস্থা করা হবে। এলিভেটেড এক্সিলেটর দিয়ে রাস্তার এ পাশ থেকে ওই পাশে মানুষ যাতায়াত করতে পারবে। রাস্তায় হাঁটতে হবে না। পর্যাপ্ত বসার স্থান ও টয়লেট সুবিধার ব্যবস্থা করা হবে। উন্নত বিশ্বের মতো পেপার্কিং ব্যবস্থাও এখানে থাকবে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামবাসীর সৌভাগ্য আমরা গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী হিসেবে আমাদের চট্টগ্রামের রাজনীতির অন্যতম অভিভাবক ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপিকে পেয়েছি। তিনি সাহস দিয়েছেন, প্রেরণা যুগিয়েছেন, সহযোগিতা করেছেন। তাই আমি চট্টগ্রামের উন্নয়নে ছোট, বড়, মাঝারি অনেকগুলো প্রকল্প অনেকটা একই সময়ে অনুমোদন নিয়ে উন্নয়নের মহাযজ্ঞ শুরু করতে পেরেছি। আজ সকলের কাছে দৃশ্যমান, চট্টগ্রামের উন্নয়ন কোন পথে এগুচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, ২০০৯ সাল থেকে চট্টগ্রামের উন্নয়ন শুরু হয়। তখন আমাদের হ্মোগান ছিলো জননেত্রী শেখ হাসিনার অবদান, উন্নয়নের মহাউৎসবে চট্টগ্রাম। প্রাথমিক কাজ শেষ করে বৃহত্তর কাজ শুরু করি। তখন হ্মোগান পরিবর্তন করি, শেখ হাসিনা অবদান, উন্নয়নের মহাসড়কে চট্টগ্রাম। োগানে জানিয়ে দিয়েছিলাম, চট্টগ্রামের উন্নয়ন এখন দৃশ্যমান।

তিনি বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শহরের একটি কেন্দ্র থাকে। সেখানে চারটি জিনিস থাকে। আবাসন, রেস্টুরেন্ট, শপিং সেন্টার ও হাসপতাল। লালখান বাজার থেকে দুই নম্বর গেট পর্যন্ত এলাকায় সবগুলো সুযোগ আছে। হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ এখানে হয়েছে। আমি সুইডেন, নিউইয়র্কের মতো, একটি এলাকা দৃশ্যমান করার চিন্তা করেছি। এখানে রাত দিনের মধ্যে কোন পার্থক্য থাকবে না। হোটেল থেকে বের হয়ে বিদেশীরা তিন কিলোমিটার হাঁটতে পারবে, শপিং করতে পারবে, খারাপ লাগলে হাসপাতালে যেতে পারবে।

সৌন্দর্য বর্ধন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সিডিএ বোর্ড সদস্য জসিম উদ্দিন, বোর্ড সদস্য জসিম উদ্দিন শাহ্‌, বোর্ড সদস্য ও কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন, বোর্ড সদস্য কে বি এম শাহজাহান, বোর্ড সদস্য ও কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব, বোর্ড সদস্য সোহেল শাকুর, ডা. শেখ মোহাম্মদ শফিউল আজম।

ইঞ্জিনিয়ার মো. মোস্তাফা জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন, সচিব তাহেরা ফেরদৌস বেগম, প্রধান প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন চৌধুরী, প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ শাহিনুল ইসলাম খান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হাসান বিন শামস, প্রকল্প পরিচালক মাহফুজুর রহমান, উপসচিব অমল গুহ, হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো. নাজের, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা জসিম উদ্দিন, আবুল হাসনাত বেলাল, চউক কর্মচারী লীগের সভাপতি মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন।

x