প্রধানমন্ত্রীর ১০ উদ্যোগ তাঁর নামেই ব্র্যান্ডিং করার আহ্বান

সার্কিট হাউজে মতবিনিময়

আজাদী প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার , ১৭ মে, ২০১৮ at ৫:৫৪ পূর্বাহ্ণ
131

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দারিদ্র্য বিমোচনে ১০টি বিশেষ উদ্যোগ হাতে নিয়েছেন। উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে কাজ করছে তাঁর সরকার। প্রধানমন্ত্রীর নেয়া এই ১০ উদ্যোগ হলোএকটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প, আশ্রয়ণ প্রকল্প, ডিজিটাল বাংলাদেশ, শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচি, নারীর ক্ষমতায়ন, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, কমিউনিটি ক্লিনিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, বিনিয়োগ বিকাশ এবং পরিবেশ সুরক্ষা। এ ১০টি বিশেষ উদ্যোগের বিষয়ে আঞ্চলিক তথ্য অফিস, পিআইডি চট্টগ্রামের আয়োজনে অংশীজন ও সাংবাদিকদের নিয়ে মতবিনিময় সভা গতকাল চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. হাবিবুর রহমান। পিআইডি চট্টগ্রামের উপপ্রধান তথ্য অফিসার এ কে এম আজিজুল হকের সভাপতিত্বে সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. দেলোয়ার হোসেন, তথ্য অধিদফতর ঢাকার সিনিয়র তথ্য অফিসার মো. মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার একেএম ইমরান ভুঁইয়া, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশ, চট্টগ্রাম পিআইডি’র সিনিয়র তথ্য অফিসার মো. আজিজুল হক নিউটন বক্তৃতা করেন। প্রধান অতিথি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ডিজিটাল বাংলাদেশ উদ্যোগ বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ উদ্যোগ বাস্তবায়নকারী সরকারের সব দপ্তর। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানো হচ্ছে। এর সহজ দৃষ্টান্ত ৯৯৯ এবং ৩৩৩ সার্ভিস। এসব সার্ভিসের মাধ্যমে জনগণের সমস্যা দ্রুত সমাধান করা হচ্ছে। এতে ডাটাবেইজের মাধ্যমে সকল তথ্য সংরক্ষণ করায় কর্মে গাফিলতির সুযোগ থাকে না। সেবা সহজ প্রাপ্তির এসব নম্বর ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে জনগণকে অবহিত করতে তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান। মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ইনফরমেশন ইজ পাওয়ার নাও’ (তথ্যই এখন শক্তি)। তথ্য যত বেশি জনগণের কাছে পৌঁছুবে তত বেশি সুফল জনগণ পাবেন। জনগণের সাথে সরকারের সেতুবন্ধনে গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রয়োজন।’ একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বলেন, ‘বাড়ির ভিটায় অনেক খালি জায়গা থাকে, সেখানে শাকসবজির চাষ হতে পারে। গরু বা হাঁসমুরগির লালনপালনও হতে পারে, ডোবাতে করা যায় মাছ চাষ। একটি পরিবারের লবণ ও তেল ছাড়া প্রয়োজনীয় সবকিছু যোগাড় হয়ে যাবে তার ভিটা থেকে। এভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে প্রতিটি পরিবার।’

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (এসডিজি) সাফল্য অর্জনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেয়া ১০টি উদ্যোগ কার্যকরী ভূমিকা রাখবে উল্লেখ করে সেগুলো তাঁর নামেই ব্র্যান্ডিং করার আহ্বান জানিয়েছেন আলোচকবৃন্দ। তাঁরা বলেন, ‘কাজের গতি বাড়াতে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়েছেন। তিনি গ্রামভিত্তিক অর্থনীতিকে প্রাধান্য দিয়েছেন। ১০টি বিষয়ের মধ্যে তার ব্যক্তিদর্শন ফুটে উঠেছে। এ উদ্যোগগুলো ক্ষুধামুক্ত মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ গড়তে সহায়তা করবে। এগুলো প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত দর্শন। এ উদ্যোগগুলো মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে গণমাধ্যমের সহযোগিতার বিকল্প নেই।’ সভায় ১০টি বিশেষ উদ্যোগের মধ্যে আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়নকারী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. দেলোয়ার হোসেন, বিনিয়োগ বিকাশ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক মোহাম্মদ মোয়াজ্জম হোসাইন, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প বাস্তবায়নকারী বিআরডিবি চট্টগ্রামের উপপরিচালক মো. খোরশেদ আলম, শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচি উদ্যোগ বাস্তবায়নকারী চট্টগ্রামের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার মো. জাহাঙ্গীর আলম, একই উদ্যোগের প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের মো. জাহিদুল ইসলাম, নারীর মতায়ন বিষয়ে পটিয়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আতিয়া চৌধুরী, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ উদ্যোগ বাস্তবায়নকারী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মকবুল হোসেন, কমিউনিটি ক্লিনিক ও মানসিক স্বাস্থ্য উদ্যোগ বিষয়ে ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. হুমায়ুন কবির, সামাজিক নিরাপত্তা বিষয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তর চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক মো. ওমর ফারুক, পরিবেশ সুরক্ষা বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক শেখ মো. নাজমুল হুদা প্রকল্পসমূহের এ পর্যন্ত জাতীয় পর্যায়ের ও চট্টগ্রাম জেলার অগ্রগতি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জনসেবা প্রদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। সভায় উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে আমন্ত্রিত সাংবাদিকগণ এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাদের মাধ্যমে জনগণের নিকট তুলে ধরতে তথ্য প্রাপ্তির সহজীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মাল্টিমিডিয়া ক্লাস পরিদর্শন : সকালে তথ্য অধিদফতর, ঢাকা ও চট্টগ্রাম পিআইডি’র কর্মকর্তাগণ আগ্রাবাদ সরকারি কলোনি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাল্টিমিডিয়া ক্লাস পরিদর্শন করেন। এ সময় চট্টগ্রাম পিআইডি’র উপপ্রধান তথ্য অফিসার এ কে এম আজিজুল হক, তথ্য অধিদফতর, ঢাকার সিনিয়র তথ্য অফিসার মো. মিজানুর রহমান, তথ্য অফিসার মো. ইমদাদ ইসলাম, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শামসুদ্দিন, স্কুল পরিচালনা পর্ষদ সদস্য সৈয়দ মফিজুর রহমান,আইসিটি শিক্ষক শাহাবুদ্দিন মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।

x