বাঙালি বসতি স্থাপন বন্ধ না করতে পারলে দেশ সংকটে পড়বে

চট্টগ্রামে পার্বত্য শান্তি চুক্তির দুই দশক উপলক্ষে আলোচনা সভা

সোমবার , ৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ at ১২:০২ অপরাহ্ণ
97

পাহাড়ে বাঙালি বসতি স্থাপন রাষ্ট্রের একটি আত্মঘাতিমূলক কাজ। বাঙালি বসতি স্থাপন বন্ধ না করতে পারলে দেশ সংকটে পড়বে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি যখন স্বাক্ষর হয় তখন আমরা স্বস্তি পেয়েছিলাম। কিন্তু চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ায় অনেক হতাশা রয়েছে। এই হতাশা খুব তাড়াতাড়ি সমাধান হবে বলে মনে করিনা। সরকারে এখন অনেক জামাতের লোক ঢুকে যাচ্ছে। সরকার চুক্তির সময় যে কমিটমেন্ট দিয়েছে তা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। গত ২ ডিসেম্বর নগরীর মুসলিম হলে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আবুল মোমেন। তিনি বলেন, চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য জনসংহতি ২০ বছর ধরে সংগ্রাম করছে। এখনও গুরুত্বপূর্ণ অনেক ধারা বাস্তবায়ন না হওয়ায় চুক্তির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ভূমি কমিশন কাজ করতে পারছেনা। কমিশন বর্তমানে চেয়ারম্যানহীন। চুক্তি বাস্তবায়নে বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের জোরালোভাবে এগিয়ে আসতে হবে উল্লেখ করে প্রধান অতিথি বলেন পার্বত্য চট্টগ্রামে ১৯০০ সালের শাসনবিধিতে সেই অঞ্চলে বহিরাগতদের বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়। যদিও ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এবং বাংলাদেশের মুক্তি যুদ্ধে প্রচন্ড রকম বাঙালি জাতীয়তাবাদী চিন্তা আমাদের রাজনৈতিক নেতা এবং বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে ছিল। স্বাধীন দেশে প্রথম সংবিধান রচনার সময় মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা বলেছিলেন আমি বাঙালি নোই। প্রধান অতিথি আবুল মোমেন আরো বলেন, ইতিহাসের প্রো পথে যদি দেখিকাপ্তাই জল বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন থেকেই পাহাড়ীদের দুর্ভোগ শুরু। দেখা যাচ্ছে উন্নয়নের সাথে বনাঞ্চল ও প্রকৃতির একটা সংঘাত হয়। ভারত এবং ব্রাজিলে ও প্রকৃতি এবং আদিবাসীরা তিগ্রস্ত হয়েছে।

সম্মানিত অতিথি ডা. একিউএম সিরাজুল ইসলাম বলেন, শুধু বাঙালিদের রক্তে দেশ স্বাধীন হয়নি। এই দেশের দাবিদার শুধু বাঙালিরা নয়, দেশের ১৬ কোটি মানুষ। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসিসহ সরকারের অনেক সফলতার জন্য ধন্যবাদ যেমন দিতে হয় তেমনি লংগদু নাসির নগরসহ আদিবাসী জনগণের উপর নির্যাতনের জন্য নিন্দা জানাতে হয়। এ যেন মুদ্রার এপিট ওপিট। আমরা মুদ্রার উজ্জল দিক গুলো নিতে চাই। নিজের সমস্যা বলে ওন না করতে পারলে আদিবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা যাবেনা। আসুন পার্বত্য চুক্তির জন্য চট্টগ্রাম থেকেএকটি জাতীয় ঐক্যের ডাক দিই। তিনি বলেন, সন্তু লারমা সংবাদ সম্মেলনে অযৌক্তিক কোন কিছু নেই। চুক্তি নিয়ে জাতীয় সংসদে আলাপ হোক। জাতীয়ভাবে আলাপ হোক। পাহাড়ের সমস্যা সমাধান করতে না পারলে দেশ আবারও বড় বিপদে পড়বে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জনসংহতি সমিতির যুব বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড বিধায়ক চাকমা বলেন, পাহাড়ে বাসযোগ্য ভূমি নেই। ভূমি নেই বিধায় কাপ্তাই বাঁেধ উদ্ভাস্তরা ভারতে আশ্রয় নিয়েছে এখনও নাগরিকত্ব পায়নি। পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা একটি জাতীয় সমস্যা। জাতীয়ভাবে এর মোকাবিলা করতে হবে। মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা সকল মানুষের অধিকারের জন্য কথা বলেছেন। মেহনতি মানুষের অধিকারের কথা বলেছেন। আমরা নিজেদের পরিচয় নিয়ে বাঁচতে চাই বাঙালি হিসেবে নয়। তারমানে আমরা বাঙালি বিদ্বেষী তা ভাবা ঠিক হবেনা। পার্টির পক্ষ থেকে চট্টগ্রামের নারিক সমাজকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, মুক্তি যুদ্ধের চেতনা থেকেই আপনারা এসেছেন। আসুন আমরা সকল মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার কাজ করি। আপনারা আমাদের সাথে থাকুন।

চট্টগ্রামের নাগরিক সমাজের উদ্যোগে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উদযাপন কমিটির আহবায়ক তাপস হোড় এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রামের পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের সভাপতি একিউএম সিরাজুল ইসলাম, নারী নেত্রী নূরজাহান খান, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির এ্যাড বিধায়ক চাকমা, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের শরৎ জ্যোতি চাকমা, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের নিতাই প্রসাদ ঘোষ, সাংবাদিক ও কবি হাফিজ রশিদ খান, ঐক্য ন্যাপের চট্টগ্রাম জেলা সভাপতি এ্যাড, এএম মোয়াজ্জেম হোসেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির সহকারী অধ্যাপক ঝুলন ধর, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির চট্টগ্রামের সভাপতি আলী নেওয়াজ, নারী নেত্রী বিজয় লক্ষী দেবী, পাহাড়ী ভট্টাচার্য, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের মিন্টু চাকমা প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, পাহাড়ে চুক্তির পরবর্তীতে সেখানে যে সংঘাত তা ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত নয় সরকারের পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। আদিবাসীদের বিভক্ত করে তাদের ভূমি দখল করে নেওয়া হচ্ছে। ভূমি হারানো মানে বিলুপ্ত হওয়া। সরকার কি চায় এই দেশ থেকে আদিবাসীরা হারিয়ে যাক? চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে বাস্তবায়নে কেন এত দ্বিধাসংশয়? পাহাড়ে বিশ্ববিদ্যালয় হোক মেডিকেল কলেজ হোক তা পরামর্শ করে করলে অসুবিধা কোথায়? তারা বলেন, একটি অংশকে বাদ দিয়ে দেশে উন্নয়ন সম্ভব নয়। আদিবাসী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বাদ দিয়ে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব নয়। তাই সংবিধান অনুযায়ী মানুষের যে মৌলিক অধিকার তা রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে। খবর প্রেসবিজ্ঞপ্তির।

x