বাণিজ্য ঘাটতি ১৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

বৃহস্পতিবার , ১৭ মে, ২০১৮ at ৫:৩৬ পূর্বাহ্ণ
75

আমদানির চাপে ১৩ বিলিয়ন ডলারের বড় বাণিজ্য ঘাটতিতে পড়েছে বাংলাদেশ; এই অংক অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংক মঙ্গলবার ব্যালেন্স অব পেমেন্টের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, চলতি ২০১৭১৮ অর্থবছরের নয় মাসেই (জুলাইমার্চ)পণ্য বাণিজ্যে সামগ্রিক ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৩২০ কোটি ২০ লাখ ডলার। এই অংক গত ২০১৬১৭ অর্থবছরের একই সময়ের প্রায় দ্বিগুণ। আর পুরো অর্থ বছরের (জুলাইজুন) ঘাটতির চেয়ে সাড়ে ১২ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের জুলাইমার্চ সময়ে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৭০৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার। আর অর্থবছর শেষ হয়েছিল এক হাজার ১৭৩ কোটি ২০ লাখ ডলারের ঘাটতি নিয়ে। খবর বিডিনিউজের।

চলতি অর্থবছরের জুলাইমার্চ সময়ে ৪ হাজার ৩০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। একই সময়ে রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ২ হাজার ৭০৯ কোটি ৮০ লাখ ডলার। এ হিসাবে পণ্য বাণিজ্যে সার্বিক ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৩২০ কোটি ২০ লাখ ডলার। ঘাটতি বেড়েছে সেবা বাণিজ্যেও। জুলাইমার্চ সময়ে সেবা বাণিজ্যে মোট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩৩৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ২৪৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার ছিল। সেবা খাতের বাণিজ্যে মূলত বিমা, ভ্রমণ ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে। চলতি অর্থবছরের জুলাইমার্চ সময়ে সামগ্রিক লেনদেনে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৪০ কোটি ৮০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই হিসাবে ২৫৯ কোটি ৮০ লাখ ডলার উদ্বৃত্ত ছিল। তবে বিদেশি বিনিয়োগ ও বিদেশি সহায়তা ছাড়ের পরিমাণ বাড়ায় অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে সরকারের আর্থিক হিসাবে ভালো উদ্বৃত্ত তৈরি হয়েছে। গত অর্থবছরের জুলাইমার্চ সময়ে যেখানে ৩১৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার উদ্বৃত্ত ছিল, এবার তা ৬০৫ কোটি ৫০ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

২০১৭১৮ অর্থবছরের জুলাইমার্চ সময়ে ২২৫ কোটি ডলারের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) দেশে এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ২৩৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার। এই সময়ে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ বাবদ দেশে এসেছে ৩৭২ কোটি ৬০ লাখ ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় সাড়ে ৮৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেশি।

এদিকে আমদানির চাপে বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাব ভারসাম্যেও বড় ধরনের ঘাটতিতে পড়েছে বাংলাদেশ। চলতি ২০১৭১৮ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে এই ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭০৮ কোটি ৩০ লাখ ডলারে। নয় মাসের এই ঘাটতি গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৫ গুণেরও বেশি। আর পুরো অর্থবছরের ঘাটতির চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি। ২০১৬১৭ অর্থবছরের জুলাইমার্চ সময়ে লেনদেন ভারসাম্যে ১৩৭ কোটি ২০ লাখ ডলার ঘাটতি ছিল। জুনে অর্থবছর শেষে তা ১৪৮ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। সাধারণভাবে কোনো দেশের নিয়মিত বৈদেশিক লেনদেন পরিস্থিতি বোঝা যায় চলতি হিসাবের মাধ্যমে। আমদানিরপ্তানিসহ অন্যান্য নিয়মিত আয়ব্যয় এতে অন্তর্ভুক্ত হয়। এখানে উদ্বৃত্ত হলে চলতি লেনদেনের জন্য দেশকে কোনো ঋণ করতে হয় না। আর ঘাটতি থাকলে তা পূরণ করতে ঋণ নিতে হয়।

x