বাসুদেব খাস্তগীর (একটি ভাবনা)

বুধবার , ১৬ মে, ২০১৮ at ৫:২৫ পূর্বাহ্ণ
20

 : সম্প্রতি এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। প্রশ্ন ফাঁসের নানা অভিযোগের মধ্যে এই ফল নানা গুরুত্ব বহন করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরীক্ষার সময় প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে ভালো ছাত্রছাত্রীদের মনোজগতে একধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পরীক্ষার আগে কিছু ছাত্রছাত্রী ছুটেছে প্রশ্ন ফাঁসের পিছনে, আরো কিছু ছাত্রছাত্রী নিজেদের বিবেকের কাছে নৈতিক দায় বদ্ধতার কারণেই হোক, অভিভাবকদের সচেতনতার কারণেই হোক এই প্রশ্ন ফাঁসের আবহ থেকে দূরে থেকেছে। এই দূরে থাকা ছাত্রছাত্রীরা যখন দেখেছে তার পাশের ছাত্রছাত্রী অবলীলায় প্রশ্ন ফাঁসের সুযোগ নিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে, সেখানে তার ঠিকমত মনস্থির করে পরীক্ষা দেয়া কঠিন। অনেক ক্ষেত্রে এমনটি ঘটে নাই বলা যাবে না। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ সেটিকেই অস্বীকার করছেন। তার পরের দিন এ সংক্রান্ত সংবাদ পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এই অস্বীকার করার প্রবণতা মানে নেতিবাচক কাজকেই উৎসাহিত করা। অনেক বছর ধরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ব্যাপারে অভিযোগ ওঠলেও বারবার তা অস্বীকার করা হয়েছে। ফলে প্রশ্ন ফাঁস মহামারী হয়ে দেখা দিয়েছিলো। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত তদন্ত কমিটি শেষ পর্যন্ত স্বীকার করেছেন প্রশ্ন ফাঁস হয়েছিলো। এটা ভালো লক্ষণ। সত্যের উপলব্ধি থাকা দরকার। এবারের ফলাফলে ভালো ছাত্রীদের কাছে প্রশ্ন ফাঁসের ফলে মনস্তাত্ত্বিক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, এটা যারা অস্বীকার করেন, তারা সত্যকেই অস্বীকার করেন।

শিক্ষার বিষয়গুলোকে নিয়ে যে কারোরই রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করা সমীচীন নয়। শিক্ষা বিষয়ে সত্যের উপলব্ধি যত তাড়াতাড়ি আসে, ততই মঙ্গল। এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অন্তত প্রশ্ন ফাঁসের ঢেউ আঁচড়ে পড়ে নি। এটা সত্যের উপলব্ধির ফসল। জিপিএ ৫ এর পিছনে দৌড়ানোর সংস্কৃতি থেকেও আমাদের বের হওয়া দরকার। জিপিএ ৫ না পাওয়া মানেই কোন ক্রমেই তা ব্যর্থতা নয়, এ পরিবেশ সৃষ্টির দায়তো রাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থাকেই নিতে হবে। কিন্তু রাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতিনিধিত্বকারীরা সেখানে যদি সত্যকে পাশ কাটিয়ে যান, তাহলে সাধারণ জনগণের কী ই বা করার থাকে। প্রশ্ন ফাঁসের কারণে ভালো ফল, জিপিএ৫ এর বৃদ্ধি, ভর্তি, চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হলেও আমাদের মনে রাখতে হবে মানুষের যোগ্যতা, দক্ষতা ও ব্যক্তিত্বের প্রকৃত পরিচয় মেলে তার কর্মক্ষেত্রে। কর্মক্ষেত্রে দুর্বল মানুষের উপস্থিতি দুর্বল রাষ্ট্রেরই নামান্তর।

x