বুদ্ধদেব বসুর আত্মজৈবনিক

মঙ্গলবার , ৮ মে, ২০১৮ at ৫:০০ পূর্বাহ্ণ
13

আত্মজীবনীতে নিজের অনুভূতিসংবেদনশীলতার কথা বোধ করি বুদ্ধদেব বসুর মতো আর কেউ লেখেননি। তিন পর্বের আত্মজীবনী তাই নিছকই তাঁর বেড়ে ওঠার বিবরণ নয়ণ্ড কবিতার আত্মা আবিষ্কারের পেছনের যে সাধনা, যে রসায়নণ্ড সেটাই মেলে ধরেছেন বুদ্ধদেব বসু।

হৃদয়াবেগের সঙ্গে শানিত বুদ্ধির সমন্বয়ে এমন অসামান্য সুখপাঠ্য গদ্যে সমকালীন বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসই যেন রচিত হয়েছে বুদ্ধদেবের হাতে। নিজের সৃষ্টির বিষয়ে ভীষণরকম নির্মোহ থেকে সমকালের স্পন্দন আর অন্তরটাই শোনাতে চেয়েছেন পাঠককে।

এই বইয়ে দেখা মিলবে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, বিষ্ণু দে, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, যামিনী রায় কিংবা জীবনানন্দ দাশের। প্রগতি, কল্লোল হয়ে কবিতা পত্রিকার মধ্য দিয়ে এক নতুন যুগের সূচনাপর্বও উন্মোচিত হয়েছে।

আমার ছেলেবেলা’, ‘আমার যৌবন’ ও ‘আমাদের কবিতাভবন’ণ্ডতিন পর্বের স্মৃতিমূলক এই রচনাগুলো এক সঙ্গে আত্মজৈবনিক নামে প্রথম প্রকাশিত হল।

নিছক আত্মজীবনী নয়। বেড়ে ওঠার কালানুক্রমিক বিবরণও নয়। একে বরং একটি যুগের অসামান্য জীবন্ত ছবিই বলা যায়। পূর্ববঙ্গের কুমিল্লা, নোয়াখালী, ঢাকা থেকে কলকাতা পর্যন্ত বিস্তৃত এই বইয়ের পটভূমি। যেখানে পুবের সঙ্গে পশ্চিমের হাওয়া এসে মিশতে শুরু করেছে। জন্ম হচ্ছে শিল্প সাহিত্যের নতুন দর্শন।

এমন একটি বইয়ের প্রকাশক বাতিঘর। বইটির প্রচ্ছদ করেছেন সব্যসাচী হাজরা। মুদ্রিত হয়েছে পূর্বা, ৩৫ মোমিন রোড, চট্টগ্রাম থেকে। আর মূল্য রাখা হয়েছে ৪৫০ টাকা।

x