বেগুন দ্বিগুণ, কাঁচামরিচ তিন গুণ

নিত্য বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম

জাহেদুল কবির

বৃহস্পতিবার , ১৭ মে, ২০১৮ at ৪:৫৩ পূর্বাহ্ণ
385

রমজান শুরু না হতেই তিনগুণ বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম। গত পাঁচদিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ২০ টাকার কাঁচা মরিচ এখন ৬০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারী ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কাঁচা মরিচের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। এছাড়া একইভাবে বাড়ছে বেগুনের দাম। গত তিনদিনের মধ্যে বেগুনের দাম বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। গতকাল খুচরা বাজারে বেগুন বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকা। অথচ তিনদিন আগে বেগুনের দর ছিলো ৩০৩৫ টাকা। এছাড়া বাড়ছে শসার দাম। প্রতিকেজি ২০ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। তবে স্থিতিশীল রয়েছে তেল, চিনি, ডাল ও পেঁয়াজের দাম। তবে পাইকারীতে ছোলার স্থিতিশীল হলেও খুচরা বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। গত দুইদিনের ব্যবধানে মানভেদে ছোলার দাম বেড়েছে কেজিতে ৬৭ টাকা। ফলে দেখা যাচ্ছে নিত্য বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতি বছর রমজানের আগে বেগুন ও কাঁচামরিচ নিয়ে কারসাজিতে মেতে থাকে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী। রমজানে ইফতারিতে বেগুনি ও মরিচার অতিরিক্ত চাহিদাকে পুঁজি করে তারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে দেয়।

নগরীর রিয়াজুদ্দিন বাজারের আড়তে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অন্যান্য সবজির মতো কাঁচা মরিচ, বেগুন ও শসার সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। তবে প্রতি বছরের মতো এ বছরও রমজানের চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে পাইকাররা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কৃত্রিম সংকট তৈরি করার ফলে খুচরা পর্যায়ে কাঁচামরিচের দাম তিনগুণ ও বেগুনে দাম প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আলাউদ্দিন নামে এক আড়তদার। তিনি বলেন, গত ক’দিন ধরে মহাসড়কে যানজটের কারণে দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে সবজির গাড়ি নগরীতে আসতে পারেনি। চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেও অনেকে ঢাকায় পণ্য নামিয়ে চলে যায়। তবে হঠাৎ করে বেগুন, কাঁচা মরিচ ও শসার সংকট দেখা দেয়। কারণ এসব পণ্যের জন্য পুরোপুরি উত্তরাঞ্চলের ওপর নির্ভর থাকতে হয়।

কাজির দেউরী কাঁচা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুর রাজ্জাক দৈনিক আজাদীকে বলেন, নিত্যপণ্যের বাজার সকালে এক বিকেলে আরেক। কখনো স্থির থাকে না। আমরা রিয়াজুদ্দিন আড়ত থেকে বেছে বেছে পণ্য নিয়ে আসি। রমজানের সাধারণত বেগুন, কাঁচা মরিচ ও শসার চাহিদা খুব বেশি থাকে। তাই পাইকারী ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে খুচরা বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দেয়। এভাবে তারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার চাঙা করে। আমরা যারা খুচরা বিক্রি করি, আমরা অল্প অল্প কিনে বিক্রি করি। তাই আড়তগুলোতে অভিযান পরিচালনা করলেই আসলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে।

নগরীর কয়েকটি মুদির দোকানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে মিয়ানমারের ছোলা বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ৭৫ টাকা, অস্ট্রেলিয়ান ছোলা ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সেই হিসেবে উভয় ক্যাটগরির ছোলাতে কেজিতে দাম বেড়েছে ৬৭ টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকা, রসূন ১০০ টাকা ও আদা বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকা প্রতি কেজি। এছাড়া চিনি ৫৫ টাকা, মশুর ডাল চিকন দানা ৯০ টাকা, মোটা দানা ৬০ টাকা ও খেসারি ডাল বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়। এছাড়া বোতলজাত রূপাচাদা ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেল ১ লিটার ১০৫ টাকা, ২ লিটার ২১০ টাকা, ৩ লিটার ৩১৫ টাকা এবং ৫ লিটার ৫২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

খাতুনগঞ্জে পাইকারী বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অস্ট্রেলিয়ান ছোলা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬১ টাকা এবং মিয়ানমারের ছোলা ৬২ টাকা। এছাড়া খেসারি ডাল ৪৫ টাকা, মশুর ডাল বড় দানা ৪৮ টাকা ও চিকন দানা বিক্রি হচ্ছে ৭৫ টাকায়। এছাড়া প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৫২ টাকা দরে। এছাড়া পাইকারীতে বর্তমানে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩২ টাকা, রসূন ৮০ টাকা এবং আদা ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইসপ্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসেন বলেন, আমরা প্রতি বছর একই কথা বারবার বলে আসছি। বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে হলে কড়া মনটরিংয়ের কোনো বিকল্প নাই। তাই প্রশাসন যেনো পুরো মাসব্যাপী নিয়মিত ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে আমরা আবারও এই দাবি জানাচ্ছি।

x