বেপরোয়া যন্ত্র দানব থেকে বাঁচার উপায় কি?

বুধবার , ৯ মে, ২০১৮ at ৫:৫৪ পূর্বাহ্ণ
29

এমন কোন দিন নাই যেদিন পরিবহন দুর্ঘটনায় ১০/২০ জন মানুষ মরে না এবং ৪০/৫০ জন আহত হয় না। ঘরের বের হলেই পুনঃ ফিরে না আসা পর্যন্ত পরিবারের লোকের শান্তি আসে না। বেসরকারি সংস্থার হিসেবে প্রতিদিন গড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ যাচ্ছে ১১ জনের। যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যানে ২০১৭ সালে দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বেড়েছে ২২ শতাংশ। নিরাপদ সড়ক চাই এর হিসেবে ২০১৭ সালে প্রাণহানি হয়েছে ৫৬৪৫ জনের। কয়েক বছর আগে আবু তোরাব থেকে স্কুলের ছেলেরা মিরসরাই গিয়ে ফুটবল খেলে জিতে ফেরার সময় বাসটা পুকুরে পড়ে গেল আর প্রাণহানি ঘটল ৩০ জনের মত। কী অপরিসীম বেদনাকী আহাজারি এ রকম হর হামেশা ঘটছে। পত্রিকায় জানা যায় ৫০ লক্ষ যানবাহন রাস্তায় চলে তার মধ্যে ৭২ শতাংশ ফিটনেস অযোগ্য। সারাদেশে ৭০ লাখ চালকের মধ্যে বিআরটি এর লাইসেন্স প্রাপ্ত ১৬ লাখ। ৮৭ শতাংশ চালক আইন মেনে চলে না। যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ সেলের তথ্য মতে জানুয়ারি ১৮ থেকে ২০ শে এপ্রিল/ ১৮ পর্যন্ত ১৭৭৯ দুর্ঘটনায় ১৮৪৯ জনের প্রাণহানিসহ ৫৪৭৭ জন আহত হন, পঙ্গুত্ব বরণ করেন ২৮৮ জন। এর প্রধান কারণ গাড়ি মালিকেরা চালককে কনট্রাক্ট দেন তাই চালকেরা যত বেশি রোজগার করেন তার লাভ। তাই কার আগে কে যাবে কত বেশি কামাই করবে এতেই দুর্ঘটনা বাড়ে। প্রতি রাস্তায় গতি নির্দিষ্ট করে দিতে হবে, চালকদের ৬ মাস পর পর ট্রেনিং দিতে হবে, ট্রাফিকের মনিটরিং বাড়াতে হবে, অষ্টম শ্রেণি পাস ছাড়া চালকের লাইসেন্স বন্ধ করতে হবে, ফিটনেস পরীক্ষায় কড়াকড়ি আরোপ করতে হবে। বি আরটিএ এবং পুলিশের কড়াকড়ি দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমাতে পারে। আর বিচার সবগুলো ভ্রাম্যমাণ আদালতে করলে বেপরোয়া গাড়ি চালানো কমবে বলে বিশ্বাস করি।

মুক্তিযোদ্ধা প্রকৌশলী জয়কেতু বড়ুয়া, হালিশহর কে ব্লক, চট্টগ্রাম।

x