বোয়ালখালীতে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে শ্রীপুর ও খরণদ্বীপ

৩৮ সংসদীয় আসনের সীমানা পরিবর্তন

আজাদী প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার , ১৫ মার্চ, ২০১৮ at ৪:২৫ পূর্বাহ্ণ
53

একাদশ জাতীয় নির্বাচনের জন্য চট্টগ্রামের ২টি আসনসহ ১৬ জেলার ৩৮টি সংসদীয় আসনের সীমানা পরিবর্তন করে পুনর্বিন্যস্ত নির্বাচনী এলাকার খসড়া করেছে নির্বাচন কমিশন। বুধবার কমিশন বিকেলে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ স্বাক্ষরিত তালিকাটি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। কারো আপত্তি থাকলে ১ এপ্রিল পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। কমিশন দাবিআপত্তি নিষ্পত্তি শেষে ৩০ এপ্রিল সংসদীয় আসনের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে। এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত কমিশন সভায় এই খসড়াটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। এদিকে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের সীমানার খসড়া গেজেট গতকাল নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রকাশিত খসড়া গেজেটে বোয়ালখালী উপজেলার শ্রীপুর ও খরনদ্বীপ ইউনিয়ন দুটি পুনরায়। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বোয়ালখালী উপজেলার শ্রীপুর ও খরনদ্বীপ ইউনিয়ন দুটি রাঙ্গুনিয়া সংসদীয় আসনের সাথে যুক্ত ছিল। এই দুটি ইউনিয়ন বোয়ালখালী সংসদীয় আসনে ফিরিয়ে দিতে বোয়ালখালীবাসী দীর্ঘদিন আন্দোলনসংগ্রাম করেছে। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন দেশব্যাপী সংসদীয় আসনের খসড়া গেজেট প্রকাশ করলে সেখানে বোয়ালখালী উপজেলার শ্রীপুর ও খরনদ্বীপ ইউনিয়ন দুটি রাঙ্গুনিয়া আসন থেকে বাদ দিয়ে পুনরায় বোয়ালখালীতে যুক্ত করেছে। এখন রাঙ্গুনিয়ার সবগুলো ইউনিয়ন নিয়ে রাঙ্গুনিয়া সংসদীয় আসন।

এদিকে খসড়া গেজেটে পটিয়ার ৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত কর্ণফুলী উপজেলাকে আনোয়ারা সংসদীয় আসনের সাথে যুক্ত করা হয়েছে। চট্টগ্রামের অন্যান্য সংসদীয় আসনগুলো পূর্বের ন্যায় (দশম জাতীয় সংসদের মতো) বহাল রয়েছে। কোন আসনের সীমানা পরিবর্তন করা হয়নি বলে জানিয়েছেন নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তারা। এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মুনীর হোসাইন খান আজাদীকে জানান, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সংসদীয় আসনের খসড়া গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। চট্টগ্রামে রাঙ্গুনিয়া আসনের সাথে এতদিন বোয়ালখালীর শ্রীপুর এবং খরনদ্বীপ ইউনিয়ন দুটি ছিল। সেই দুই ইউনিয়নকে আবার বোয়ালখালীর সাথে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। রাঙ্গুনিয়া সংসদীয় আসনে শুধুমাত্র রাঙ্গুনিয়া উপজেলা রাখা হয়েছে। এদিকে পটিয়ার ৫টি উপজেলা নিয়ে কর্ণফুলী উপজেলা গঠিত হয়েছে। কর্ণফুলী উপজেলাকে আনোয়ারার সংসদীয় আসনের সাথে যুক্ত করা হয়েছে। অন্যান্য সব সংসদীয় আসনকে আগের মতোই বহাল রাখা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তারা জানান, খসড়া গেজেটে সীমানা নিয়ে কারো আপত্তি থাকলে তা নির্বাচন কমিশনে আবেদন করতে হবে। সেখানে দাবীআপত্তি নিষ্পত্তি শেষে শেষে তা সমাধান করা হবে। আপত্তি নিষ্পত্তি করার পর চূড়ান্ত সীমানার গ্রেজেট প্রকাশ করা হবে। সেই অনুযায়ী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেই লক্ষ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। গত ৩১ জানুয়ারি দেশব্যাপী চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনী এলাকার খসড়া সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে।

চট্টগ্রামের আসনগুলো হচ্ছে চট্টগ্রাম১ মীরসরাই, চট্টগ্রাম২ ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম৩ সন্দ্বীপ, চট্টগ্রাম৪ সীতাকুণ্ড এবং সিটি কর্পোরেশনের ৯ ও ১০ নং ওয়ার্ড, চট্টগ্রাম৫ হাটহাজারী এবং সিটি কর্পোরেশনের ১ ও ২ নং ওয়ার্ড, চট্টগ্রাম৬ রাউজান, চট্টগ্রাম৭ রাঙ্গুনিয়া, চট্টগ্রাম৮ বোয়ালখালী এবং সিটি কর্পোরেশনের ৩ থেকে ৭ নং ওয়ার্ড, চট্টগ্রাম৯ সিটি কর্পোরেশনে ১৫ থেকে ২৩ এবং ৩১ থেকে ৩৫ নং ওয়ার্ড, চট্টগ্রাম১০ সিটি কর্পোরেশনের ৮, ১১, ১২, ১৩, ১৪, ২৪, ২৫ এবং ২৬ নং ওয়ার্ড, চট্টগ্রাম১১ সিটি কর্পোরেশনের ২৭ থেকে ৩০ এবং ৩৬ থেকে ৪১ নং ওয়ার্ড, চট্টগ্রাম১২ পটিয়া, চট্টগ্রাম১৩ আনোয়ারা এবং কর্ণফুলী, চট্টগ্রাম১৪ চন্দনাইশ এবং সাতকানিয়ার কেওচিয়া, কালিয়াইশ, বাজালিয়া, ধর্মপুর, পুরানগড় এবং খাগড়িয়া, চট্টগ্রাম১৫ লোহাগাড়া এবং সাতকানিয়া (কেওচিয়া, কালিয়াইশ, বাজালিয়া, ধর্মপুর, পুরানগড় এবং খাগড়িয়া ব্যাতিত) চট্টগ্রাম১৬ বাঁশখালী।

বৃহত্তর চট্টগ্রামের আসনগুলোর মধ্যে রয়েছে, কক্সবাজার১ চকরিয়া এবং পেকুয়া, কক্সবাজার২ কুতুবদিয়া ও মহেশখালী, কক্সবাজার৩ কক্সবাজার সদর ও রামু, কক্সবাজার৪ উখিয়া এবং টেকনাফ। এছাড়া খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি এবং বান্দরবান পার্বত্যজেলায় তিনটি পৃথক আসন রয়েছে।

কমিশনের সংলাপে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দশম সংসদের সীমানা বহাল রাখা দাবি করে; অন্যদিকে বিএনপি ২০০৮ সালের আগের সীমানায় ফিরে যাওয়ার দাবি করে আসছিল। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার সঙ্গে গত মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দলের বৈঠকের পরদিনই প্রস্তাবিত পুনর্গঠিত এলাকার খসড়া প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। গেল বছর ১৬ জুলাই ইসি ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, ডিসেম্বরের মধ্যে সীমানা চূড়ান্ত করার কথা থাকলেও তা নির্ধারিত সময়ে শেষ করা যায়নি।

এখন দেশব্যাপী ভোট কেন্দ্র নির্ধারণ, নির্বাচন গ্রহনের জন্য লোকজন নিয়োগের দিকে এগোচ্ছে নির্বাচন কমিশন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছিল ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি। সংসদ সদস্যরা শপথ নেয়ার দিন থেকে পরবর্তী ৫ বছর পর্যন্ত থাকে নির্বাচিত সংসদের মেয়াদ। ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি বর্তমান সরকার গঠিত হয়। সংবিধান অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ১১ জানুয়ারির আগের ৯০ দিনের মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা আছে।

x