ভুল আসামি ধরতে গিয়ে জনতার রোষানলে পুলিশ

হাটহাজারী প্রতিনিধি

সোমবার , ১৬ এপ্রিল, ২০১৮ at ১০:২২ পূর্বাহ্ণ
83

ভুল আসামি ধরতে গিয়ে জনতার রোষানলে পড়লো পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে হাটহাজারীতে। সাজাপ্রাপ্ত আসামি মনে করে নাজিম উদ্দিন (২৬) নামে এক যুবককে আটক করতে গিয়ে পুলিশ কনস্টেবল মো. সাইফুল ইসলাম (কং/৯৯৮) ও তার সোর্স মো. রাসেল জনতার রোষানলের শিকার হন। গতকাল রোববার বিকালে উপজেলার গুমানমর্দ্দন ইউনিয়নের কাটাখালীকুল এলাকার সৈয়দ পাড়া জামে মসজিদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গতকাল বিকালে কনস্টেবল মো. সাইফুল ইসলাম ও তার সোর্স মো. রাসেল ওই এলাকায় গিয়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামি সন্দেহে নানার বাড়িতে বেড়াতে আসা ধলই ইউনিয়নের মাইজপাড়া এলাকার মাহমুদুল হকের পুত্র নাজিম উদ্দিন ও তার মামতো ভাই কালামিয়া সওদাগরের বাড়ির মো. রফিকের পুত্র আব্বাস উদ্দিনকে (১৬) আটক করে। এসময় তাদের সিএনজি ট্যাক্সিতে (নংচট্টগ্রাম১৩৬০১১) তুলে নেওয়ার সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্বজনরা মোটরসাইকেল ও সিএনজি টেক্সিযোগে পিছু ধাওয়া করে মির্জাপুর ইউনিয়নের সরকারদীঘি এলাকায় সিএনজি টেক্সিটির গতিরোধ করে। সেখানে পুলিশ কনস্টেবল ও তার সোর্সকে আটক করে বি ক্ষুদ্ধ জনতা গণধোলাই দেয়। পরে গুমানমর্দ্দন ইউপি চেয়ারম্যান মো. মুজিবুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করেন এবং তাদেরকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসেন। বিষয়টি তিনি থানার ওসিকে অবহিত করলে ওসি থানা থেকে পুলিশের একটি টিম পাঠান এবং তারা চেয়ারম্যান ও এলাকাবাসীর সাথে বসে বিষয়টি মিমাংসা করে আহত কনস্টেবল ও সোর্সকে উদ্ধার করেন।

পুলিশ কনস্টেবল ও সোর্র্সকে বহনকারী সিএনজি ট্যাক্সি চালক পৌরসভার আলীপুর গ্রামের বদি মিয়া চৌধুরী বাড়ির ফয়েজ আহমদের পুত্র আবদুল মান্নান (৩৫) জানান, তাকে গতকাল রোববার সাড়ে তিনটার সময় হাটহাজারী থানার সামনে থেকে আসামি ধরতে যাবেন বলে ওই পুলিশ কনস্টেবল নিয়ে আসেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, উত্তেজিত জনতা তার গাড়িটি ভাংচুর করেছে। তবে পুলিশ তার ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িটি ঠিক করে দেবে বলে আশ্বস্ত করেছে বলে জানান তিনি।

আসামি সন্দেহে আটক নাজিমের মামা মো. ইয়াছিন জানান, তার ভাগিনা নাজিম উদ্দিন রোববার সকালে তাদের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। বিকালের দিকে তার (ইয়াসিন) ভাতিজা আব্বাসকে নিয়ে রাস্তায় ঘুরতে গেলে তাদেরকে পুলিশ পরিচয়ে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। সংবাদটি অবহিত হয়ে তিনি তাদেরকে উল্লেখিত স্থান থেকে ইউপি চেয়ারম্যান ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা পুলিশের উপপরিদর্শক এসআই হালিম বলেন, দু’জনকে আটক চেষ্টার বিষয়টি সত্য। তবে এটি একটি ভুল বুঝাবুঝি। তবে পুলিশ কনস্টেবল ও তার সোর্সকে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, প্রকৃত আসামি কিনা যাচাই করতে তাদেরকে নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে বসা হয়েছিল।

ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান জানান, আব্বাস ও নাজিমকে সাদা পোষাকধারী দু’জন লোক ধরে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এসময় দু’জনকে জনতার রোষণাল থেকে উদ্ধার করতে গিয়ে তিনিও শারীরিক ভাবে আঘাত পেয়েছেন। তবে পরবর্তীতে ইউনিয়ন পরিষদে বসে বিষয়টি মিমাংসা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এই বিষয়ে জানতে কনস্টেবল মো. সাইফুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেন নি।

হাটহাজারী মডেল থানার ওসি বেলাল উদ্দীন জাহাংগীর মুঠোফোনে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সাজাপ্রাপ্ত এক আসামিকে আটক করতে গিয়ে সামান্য ভুল বুঝাবুঝি হয়েছে। তবে ওই ঘটনা স্থানীয় চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে ওখানেই মিমাংসা হয়ে গেছে।

x