মাত্র ৬ হাজার টাকার জন্য খুন

আনোয়ারার কফিল হত্যায় আসামির স্বীকারোক্তি

আজাদী প্রতিবেদন

বুধবার , ১৮ এপ্রিল, ২০১৮ at ৫:২২ পূর্বাহ্ণ
273

প্রায় দু’বছর পর পিবিআই’র জালে আটকা পড়ল কফিল হত্যা মামলার অন্যতম আসামি জালাল। মাত্র ৬ হাজার টাকার জন্য যাকে খুন করেছিল জালাল ও তার সঙ্গীরা।

ঘটনার বিবরণে পিবিআই ইন্সপেক্টর আবু জাফর মো. ওমর ফারুক আজাদীকে জানান, ২০১৬ সালের ১৬ অক্টোবর রাত সোয়া বারোটার দিকে আনোয়ারা থানাধীন জুঁইদন্ডি গ্রামে আব্দুল বারী চৌধুরী সড়কের উপর পূর্ব শত্রুতার জের ধরে খুন হয় উত্তর খুরুশকুল গ্রামের মো. আইয়ুব আলীর পুত্র মো. কফিল উদ্দিন (৩২)। এ ঘটনায় আহত হয় একই গ্রামের মো. হাশেম (২৪)। নিহত কফিল উদ্দিনের পিতা মো. আইয়ুব আলী বাদী হয়ে এজাহারনামীয় ১২ জনসহ অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জনের বিরুদ্ধে আনোয়ারা থানায় মামলা করেন। আনোয়ারা থানা পুলিশ তিনজন আসামিকে গ্রেফতার করে। মামলাটি পরে সিআইডিতে পাঠানো হয়। প্রায় ছয় মাস তদন্ত করার পর এজাহারনামীয় ৫ জন এবং তদন্তে প্রকাশিত ৪ জন সহ মোট ৯ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে সিআইডি।

কিন্তু মামলার বাদী এতে সন্তুষ্ট না হয়ে নারাজি দাখিল করলে বিজ্ঞ আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার উপর তদন্তভার ন্যস্ত করেন। পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার ইন্সপেক্টর মোহন লাল চন্দ গত বছর ডিসেম্বরে তদন্তভার গ্রহণ করেন। রহস্য উদঘাটনের জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বণ করে তিনি জানতে পারেন যে, এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম পরিকল্পনাকারী হলো অভিযু্‌ক্ত পলাতক আসামি মো. জালাল। তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মোহন লাল চন্দের নেতৃত্বে একটি টিম গোপন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে টানা ১৫ ঘন্টা ছদ্মবেশে অবস্থান করে গতকাল দুপুর বারোটার দিকে নগরীর ইপিজেড থানাধীন নৌবাহিনী হাসপাতালের সম্মুখস্থ রাস্তা থেকে মামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী পলাতক আসামি মো. জালাল উদ্দিন (২৮) কে গ্রেফতার করে।

জালাল উদ্দিন জিজ্ঞাসাবাদে জানায় যে, হাশেমকে বিদেশ নেয়া বাবদ একই থানার জুঁইদন্ডি গ্রামের মো. জাহাঙ্গীর আলম ৬,০০০ টাকা পাওনা ছিল। পাওনা টাকা’কে কেন্দ্র করে হাশেম ও জাহাঙ্গীরের মধ্যে শত্রুতার সৃষ্টি হয়। ঘটনার ১০দিন পূর্বে হাশেম ও জাহাঙ্গীরের মধ্যে স্থানীয় চৌমুহনী বাজারে মারামারি হয়। মারামারির পর জাহাঙ্গীর হাশেমকে খুন করার পরিকল্পনা করে। জাহাঙ্গীর তার সহযোগী জালাল উদ্দীনের মাধ্যমে কৌশলে হাশেমকে ২০১৬ সালের ১৬ অক্টোবর রাত ১০ টার সময় জুয়া খেলার লোভ দেখিয়ে জুঁইদন্ডি গ্রামের পার্শ্ববর্তী বেড়ি বাঁধের সাঁকোর গোড়া নামক স্থানে একটি জুয়ার আসরে নিয়ে যায়। মামলার প্রধান আসামি জাহাঙ্গীর আলম তার সহযোগীদের নিয়ে জুঁইদন্ডি গ্রামের সাম মাঝির বাড়ির উত্তর পাশে ওঁৎ পেতে থাকে। একপর্যায়ে রাত ১২টার সময় আসামি জালাল ভিকটিম হাশেম ও কফিলকে নিয়ে জুয়ার আসর থেকে রওনা হওয়ার সংবাদ দেয় আসামি জাহাঙ্গীরকে। রাত সোয়া বারোটার দিকে হাশেম ও কফিল’কে নিয়ে জালাল জুঁইদন্ডি গ্রামে সাম মাঝির বাড়ির উত্তর পাশে আব্দুল বারী চৌধুরী সড়কে গেলে মো. জাহাঙ্গীর আলম, আবুল কাশেম, মোক্তার আহম্মদ, নুর হোসেন, মো. রহিম, জাগের হোসেন, ইয়াছিন, জানে আলম ও তাদের অজ্ঞাতনামা সহযোগীরা সহ আবুল হাশেমের উপর হামলা চালায়। এ সময় আবুল হাশেম চিৎকার দিয়ে আসামি জালালকে ডাক দিলেও সে তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেনি। তখন আবুল হাশেমের সাথে থাকা কফিল উদ্দিন হাশেমকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে আসামিরা তাকেও কিরিছ দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপায় ও রড ও লাঠি দিয়ে পেটায়। হাশেম আহত অবস্থায় দৌঁড়ে পালাতে সক্ষম হলেও কফিল ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

x