মাহে রমজান কাল থেকে

চাঁদ দেখা যায়নি

আজাদী ডেস্ক

বৃহস্পতিবার , ১৭ মে, ২০১৮ at ৪:৫৫ পূর্বাহ্ণ
122

আজ পশ্চিমাকাশে উঁকি দেবে নতুন চাঁদ। বছর ঘুরে রহমত, মাগফিরাত আর নাজাতের সওগাত নিয়ে আবারো হাজির মাহে রমজান। আগামীকাল শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে সংযম সাধনার মাস। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় দেশের কোথাও পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। তাই মুসলমানদের সিয়াম সাধনার (রোজা) মাস রমজান শুরু হচ্ছে আগামীকাল শুক্রবার। আজ বৃহস্পতিবার রাত থেকে তারাবিহ নামায আদায় ও সেহেরি খেতে হবে। আগামী ১২ জুন মঙ্গলবার দিবাগত রাতে পবিত্র লাইলাতুল কদর পালিত হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে বুধবার সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি ও ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান। রমজান শেষেই মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরের দেখা মিলবে। এবার শাবান মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হচ্ছে।

সভায় ধর্মমন্ত্রী জানান, সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, আবহাওয়া অধিদফতর, মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সন্ধ্যায় বাংলাদেশের কোথাও হিজরি ১৪৩৯ সনের রমজান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি।

আগামী ১২ জুন মঙ্গলবার দিবাগত রাতে (রমজানের ২৭তম রাত) পবিত্র লাইলাতুল কদর পালিত হবে বলেও জানান মন্ত্রী। বৃহস্পতিবার রাতে (এশার নামাজের পর) ২০ রাকাত বিশিষ্ট তারাবি নামাজ শুরু হবে। রোজা রাখতে শেষ রাতে সেহরি খাবেন মুসলমানরা। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে রমজান সংযম, আত্মশুদ্ধি এবং ত্যাগের মাস। রমজান রহমত (আল্লাহর অনুগ্রহ), মাগফেরাত (ক্ষমা) ও নাজাত (দোজখের আগুন থেকে মুক্তি)- এ তিন অংশে বিভক্ত। এ মাসে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার, স্ত্রীসহবাস ও যে কোনো ধরনের পাপ কাজ থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে রোজা পালন করেন মুসলমানরা। এ মাসের শেষ অংশে রয়েছে হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম কদরের রাত। ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী, এ মাসে প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব আল্লাহ পাক ৭০ গুণ বাড়িয়ে দেন। ইসলাম ধর্মের পাঁচ স্তম্ভের অন্যতম হল রোজা। দীর্ঘ এগারটি মাসের পাপ থেকে মুক্ত হওয়ার অপূর্ব সুযোগ এনে দেয় এ মাস। রোজা ইসলামের মৌলিক ইবাদতের মধ্যে অন্যতম। আর এ রোজা মুসলমানদের ওপর ফরজ করা হয়েছে। গতকাল রাতে এশার নামাজের পরপরই মসজিদে মসজিদে মুসল্লিরা জামাতে তারাবির নামাজ আদায় করেন। ভোররাতে সেহরি খেয়ে রোজা শুরু করেছেন রোজাদাররা।

বহু ফজিলত ও পুণ্যময় বৈশিষ্ট্যের আধার এ মাসটিতেই পবিত্র কোরআন নাজিল হয়। এ মাসেই রয়েছে সহস্র মাসের চেয়ে সেরা একটি রাতলাইলাতুল কদর। তবে এই মহামহিমান্বিত রাতটি আসবে রমজানের শেষ দশকের যে কোনো বেজোড় রাতে।

প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের জন্য এ মাসের প্রতিটি দিন রোজা রাখা ফরজ। ক্ষমাপ্রাপ্তি ও জান্নাত লাভের মাস হিসেবেও কোরআন হাদিস শরিফে একে চিহ্নিত করা হয়েছে। পুণ্য লাভ, ক্ষমাপ্রাপ্তি, ধৈর্য, সহানুভূতি, দানশীলতা ও সংযম সাধনার এ মাসটিকে মনীষীরা তাই ‘পুণ্যের বসন্ত’ বলে থাকেন।

এই মাসের নাম এসেছে আরবি ‘রামাদ’ শব্দ থেকে। এর অর্থ ‘তপ্ত’ বা ‘শুষ্কতা’। প্রথম রমজান মাস পালিত হয়েছিল গ্রীষ্মে, সে জন্যই এমন নামকরণ করা হয়েছে। নামকরণের আরেকটি প্রতীকী কারণ হচ্ছে, গ্রীষ্মের সূর্য যেমন পৃথিবীকে দগ্ধ করে, তেমনি এই মাস সব পাপকে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়।

রমজান মাস দোয়া কবুলের মাস। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, রমজান মাসে প্রত্যেক মুসলিমের দোয়া কবুল করা হয়। (মুসনাদ আহমদ)। অন্য হাদিসে রয়েছে, ‘আল্লাহ রাব্বুল আলামিন রমজানের প্রতি রাতে ও দিনে বহু মানুষকে মুক্তি দিয়ে থাকেন এবং প্রতি রাত ও দিবসে মুসলিমের দোয়াপ্রার্থনা কবুল করা হয়।’ (সহি আততারগিব ওয়াততারহিব)

x