মা, তোমারে কত ভালোবাসি

আরিফ রায়হান

বুধবার , ১৬ মে, ২০১৮ at ৫:৫৩ পূর্বাহ্ণ
7

কত ভালবাসি’ কবিতায় কবি কামিনী রায় লিখেছেন

জড়ায়ে মায়ের গলা শিশু কহে আসি,-

মা, তোমারে কত ভালোবাসি!”

কত ভালবাস ধন?” জননী শুধায়।

ত।” বলি দুই হাত প্রসারি’ দেখায়।

তুমি মা আমারে ভালবাস কতখানি?”

মা বলেন “বাপ তার আমি নাহি জানি।”

গত ১৩ মে রোববার সারা বিশ্বে মহাসমারোহে পালিত হয়েছে বিশ্ব মা দিবস। অন্যান্য দিবসের চেয়ে এ দিবসটির গুরুত্ব ভিন্ন এবং মর্যাদাপূর্ণ। কেননা দিনটি শুধুই মায়ের জন্য। দিবসটিতে মাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে সন্তানেরা বলেছেন, মা, তোমায় অনেক ভালোবাসি। কেউ মাকে জানিয়েছেন ফুলেল শুভেচ্ছা, কেউ দিয়েছেন কার্ড, কেউ দিয়েছেন উপহার। আবার কেউ মাকে নিয়ে বেরিয়েছেন এবং মাকে সঙ্গে নিয়ে কেটেছেন কেক। এভাবে পালিত হয়েছে দিবসটি।

একটি দিনই কী মায়ের জন্য ?

মা। সে তো এক চিরন্তন মধুর শব্দ। মায়ের জন্য ভালোবাসাও চিরন্তন। সে মায়ের সাথে তাবৎ পৃথিবীর কোন কিছুর তুলনা চলে? অবশ্যই না। তাহলে সে মাকে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা জানানোর জন্য আলাদা দিবসের প্রয়োজন পড়ে? আমরা প্রতিদিনই, প্রতি মুহূর্তে মাকে ভালোবাসি। এটা স্বাভাবিকভাবেই ক্ষণে ক্ষণে মায়ের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা অনুভূত হয়। তাই একটি দিনেই সীমাবদ্ধ নয়, প্রতিদিনই প্রতিক্ষণেই মায়ের জন্য, মাকে ভালোবাসা জানানোর জন্য।

যেভাবে এল মা দিবস

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশেষ দিনে মা দিবস পালিত হয়। এক এক রাষ্ট্রে এক এক দিনে দিবসটি পালিত হয়। তবে এখন অনেক দেশেই একটি দিনে অর্থাৎ মে মাসের দ্বিতীয় রোববার উদযাপিত হয় মা দিবস। এ বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার গত ১৩ মে পালিত হয়েছে দিবসটি। বছরের একটি দিনকে শুধু মায়ের জন্য রাখার কথা প্রথম ভাবেন মার্কিন সমাজকর্মী জুলিয়া ওয়ার্টস। তবে সেটাই আধুনিক মা দিবসের সূচনা নয়। আধুনিক মা দিবসের ধারণার প্রবক্তা আনা মারিয়া রিভস জার্ভিস। তাঁর মা অ্যান মারিয়া রিভস জার্ভিস। যিনি ছিলেন একজন শান্তিবাদী সমাজকর্মী। ‘মাদারস ডে ওয়ার্ক ক্লাব’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি। যুদ্ধবিধ্বস্ত আমেরিকায় নারীদের স্বাস্থ্যরক্ষার গুরুত্ব নিয়ে তিনি কাজ করছিলেন। তার কাজের মূল বিষয়ই ছিল পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যরক্ষার প্রচার ও সচেতনতা বৃদ্ধি। এর পূর্বে বিভিন্ন দিনের কথা জানা যায় যেখানে মা দিবসের ধারণা রোপণ করা হয়েছিল। প্রাচীন গ্রিসে মা দিবসের আয়োজন হতো ঘরে ঘরে। প্রতি বসন্তকালে একটি দিন দেবতাদের মা ‘রিয়া’, যিনি ক্রোনাসের সহধর্মিণী তাঁর উদ্দেশ্যে উদযাপন করা হতো। মা দিবস তখনো এত ব্যাপ্তি লাভ না করলেও এই ধারণাটির গোড়াপত্তন ঘটে। আবার কথিত আছে, আজ থেকে ১৫০ বছর আগের সপ্তাহের রবিবারের সকালটা আনা মারিয়া রিভস জার্ভিসের জন্য একদম অন্যরকম ছিল। নিজের প্রতিষ্ঠিত সানডে স্কুলে বাচ্চাদের দিতেন বাইবেল পাঠ। এই পাঠদান কালে বাচ্চাদের জন্য তার মায়া সৃষ্টি হয়। বাচ্চাদের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে তার নিজের মায়ের ছবি খুঁজে ফিরতেন। ভালোবাসা আর শ্রদ্ধায় মায়ের মুখচ্ছবিকে লালন করতে চাইলেন তিনি। এই বোধ থেকেই ১৯০৫ সালে মাকে ভালোবাসা ও সম্মান জানাতে প্রবর্তন করেন মাদার্স ডে বা মা দিবসের। তবে যুক্তরাষ্ট্রে মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর স্বীকৃতি ও প্রসার ঘটে ১৯১৪ সালে।

এদিকে প্রতি বছর মে মাসের চতুর্থ রবিবারকে মাদারিং সানডে হিসাবে পালন করা হতো ব্রিটেনে। এটা ছিল সতের শতকের কথা। মায়ের সঙ্গে সময় দেওয়া ও মায়ের জন্য উপহার কেনা ছিল দিনটির কর্মসূচিতে। এরপর আমেরিকার পশ্চিম ভার্জিনিয়াতে প্রথম মা দিবস পালন করা হয় ১৮৫৮ সালে। জুনের ২ তারিখকে তারা বেছে নিয়েছিল মা দিবস হিসেবে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন সর্বপ্রথম মা দিবসকে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করেন। ১৯১৪ সালের ৮ মে মার্কিন কংগ্রেসে মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারকে মা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সেই থেকে এই দিনে আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হচ্ছে মা দিবস। অ্যান জার্ভিস দিনটির সরকারি অনুমোদন পাওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের চেষ্টা চালাতে থাকেন; কিন্তু সফল হতে পারেননি। তাঁর মৃত্যুর পর তার মেয়ে অ্যানা জার্ভিস মায়ের অসমাপ্ত স্বপ্ন পূরণের কাজে হাত দেন। তিনি চেষ্টা করতে লাগলেন একটি বিশেষ দিন ঠিক করে মা দিবসটি উদযাপন করার জন্য। সে লক্ষ্যেই ১৯০৮ সালের ১০ মে তিনি পশ্চিম ভার্জিনিয়ার গ্রাফিটন শহরের সেই চার্চে, যেখানে তার মা অ্যান জার্ভিস রবিবার পড়াতেন সেখানে প্রথমবারের মতো দিনটি উদযাপন করলেন। এরপর থেকেই আস্তে আস্তে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি বিস্তৃত হতে থাকে চারপাশে এবং এক সময় ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে।

সামাজিক যোগাযোগে মা দিবস

মা দিবসে মায়ের জন্য সেই ভালোবাসাই প্রকাশ হয়েছে সামাজিক যোগাযোগে। সাধারণ মানুষকে থেকে শুরু করে দেশের জনপ্রিয় তারকারাও ফেসবুকে নিজের সাথে মায়ের ছবি আপলোড করে জানিয়েছেন মায়ের প্রতি ভালোবাসা। মা দিবসে ফেসবুক হেসে উঠে মায়ের মধুর হাসিতে।

x